
আসন্ন নির্বাচনে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বরাক উপত্যকার প্রার্থী তালিকায় কোনো রকম ‘পরীক্ষা-নিরীক্ষা’ বা ঝুঁকি নেওয়ার পথে হাঁটল না ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) । জয়ের সম্ভাবনাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে গেরুয়া শিবির যে তালিকা প্রকাশ করেছে, তাতে অভিজ্ঞ, পরীক্ষিত এবং দলের প্রতি অনুগত নেতাদের ওপরই পরিষ্কারভাবে আস্থা রাখা হয়েছে । ব্যাপক রদবদলের বদলে স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণ ও স্থিতিশীলতাকে বজায় রাখাই যে দলের লক্ষ্য, তা এই তালিকা থেকেই স্পষ্ট ।
দলের এই কৌশলের অন্যতম বড় প্রমাণ হলো শিলচর কেন্দ্র, যেখানে এক দশকেরও বেশি সময় পর বিধানসভার লড়াইয়ে ফিরিয়ে আনা হয়েছে প্রাক্তন সাংসদ রাজদীপ রায়কে । পরিচিত ও অভিজ্ঞ মুখের মাধ্যমে শহরের ভোটব্যাঙ্ক মজবুত করতেই এই সিদ্ধান্ত বলে মনে করা হচ্ছে । ‘দ্য আসাম ট্রিবিউন’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাজদীপ রায় বলেন, “বিগত কয়েক বছরে বিজেপি যে কাজ করেছে, তাতে দলের একটি শক্ত ভিত তৈরি হওয়াটাই স্বাভাবিক। তবে আমরা কোনো নির্বাচনকেই হালকাভাবে নিই না। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত প্রতিটি লড়াই অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে লড়া হয়” । পরিস্থিতি অনুকূল হলেও আত্মতুষ্টিতে ভুগতে নারাজ এই নেতা স্পষ্ট জানান, “কোনো নির্বাচনই কখনো সত্যিকারের সহজ হয় না। পরিবেশ অনুকূল মনে হলেও আমরা আমাদের সম্পূর্ণ চেষ্টা চালিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর। আমাদের প্রতিশ্রুতি খুব সাধারণ; আমরা সমাজের বৃহত্তর স্বার্থে কাজ করব। যা বৃহত্তর মঙ্গলের জন্য প্রয়োজনীয়, আমরা সেটাই প্রদান করার চেষ্টা করব” ।
দলের পুরনো গড়গুলিতেও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে । তৃণমূল স্তরের নেটওয়ার্কের ওপর ভরসা রেখে লক্ষ্মীপুরে পুনরায় টিকিট দেওয়া হয়েছে ক্যাবিনেট মন্ত্রী কৌশিক রাইকে । একইভাবে, পাথারকান্দিতে কৃষ্ণেন্দু পাল এবং রামকৃষ্ণ নগর (তফসিলি জাতি) আসনে বিজয় মালাকারের ওপরই ফের আস্থা রেখেছে দল । হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত বড়খলায় প্রাক্তন বিধায়ক কিশোর নাথকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে । পাশাপাশি, তফসিলি জাতিভুক্ত ভোটারদের কথা মাথায় রেখে সংরক্ষিত ধলাই কেন্দ্রে বর্ষীয়ান নেতা অমিয় কান্তি দাসকে এবং করিমগঞ্জ উত্তর কেন্দ্রে সংগঠনের গভীরতার ওপর জোর দিয়ে শ্রীভূমির প্রাক্তন বিজেপি জেলা সভাপতি সুব্রত ভট্টাচার্যকে প্রার্থী করা হয়েছে ।
আসন পুনর্বিন্যাসের পর উধারবন্দ্ কেন্দ্রে লক্ষ্মীপুরের প্রাক্তন বিধায়ক রাজদীপ গোয়ালাকে টিকিট দেওয়া হয়েছে । নিজের প্রার্থিপদ সম্পর্কে আত্মবিশ্বাসী গোয়ালা বলেন, “উধারবন্দ্ বরাবরই বিজেপির একটি মজবুত ঘাঁটি, এবং এবার সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই কেন্দ্রের আরও উন্নয়ন নিয়ে আসা সম্ভব হবে” ।
প্রার্থী তালিকায় অন্যান্য দল থেকে আসা নেতা এবং তরুণদেরও জায়গা করে দেওয়া হয়েছে । কংগ্রেস ছেড়ে সম্প্রতি বিজেপিতে আসা প্রাক্তন বিধায়ক কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থকে কাটিগড়া কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করে অভিজ্ঞ নেতার মাধ্যমে স্থানীয় স্তরের প্রচারকে মজবুত করার কৌশল নিয়েছে দল । অন্যদিকে, হাইলাকান্দিতে তরুণ মুখ মিলন কান্তি দাসকে টিকিট দিয়ে অভিজ্ঞতার সাথে তারুণ্যের ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়েছে l