Read today's news --> Click here

ইজরায়েলি হামলায় নিহত ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা আধিকারিক আলি লারিজানি ও তাঁর পুত্র, নিশ্চিত করল তেহরান

পশ্চিম এশিয়ায় চলমান তীব্র সংঘাতের আবহে এক বড়সড় পালাবদল ঘটল। ইজরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি (৬৭) নিহত হয়েছেন বলে মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে তেহরান । ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের বিবৃতি অনুযায়ী, এই একই হামলায় লারিজানির ছেলে মোর্তেজা লারিজানিও প্রাণ হারিয়েছেন । এর আগে ইজরায়েলি কর্তৃপক্ষ এই হামলার দায় স্বীকার করেছিল, যার কয়েক ঘণ্টা পর ইরানের তরফ থেকে তাঁর মৃত্যুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসে ।

সাম্প্রতিক মার্কিন ও ইজরায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির মৃত্যুর পর তৈরি হওয়া চরম সঙ্কটের মধ্যে লারিজানিই কার্যত দেশের শাসনভার সামলাচ্ছিলেন বলে মনে করা হচ্ছিল । শিয়া ধর্মগুরু না হওয়ায় নিয়মানুযায়ী তাঁর পক্ষে সুপ্রিম লিডার হওয়া সম্ভব ছিল না, তবে তীব্র নিরাপত্তা হুমকি ও চাপের মুখেও তিনি দেশের অন্যতম প্রধান ক্ষমতার কেন্দ্র হয়ে উঠেছিলেন । মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সাথে পরমাণু চুক্তি সংক্রান্ত আলোচনায় তিনি শীর্ষ নেতৃত্বকে পরামর্শ দিচ্ছিলেন । এমনকি যুদ্ধের ডামাডোলের মাঝেই পর্দার আড়ালের কূটনীতির অংশ হিসেবে মধ্যস্থতাকারীদের সাথে দেখা করতে তিনি সম্প্রতি ওমান সফরেও গিয়েছিলেন ।

কট্টর জাতীয়তাবাদী অবস্থান এবং বৈদেশিক নীতির ক্ষেত্রে কঠোর মনোভাবের জন্য লারিজানির বিশেষ পরিচিতি ছিল । মৃত্যুর মাত্র কয়েকদিন আগেই হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল সরবরাহে বাধা দিলে হামলার সম্মুখীন হতে হবে বলে ট্রাম্প যে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, তার কড়া জবাব দিয়েছিলেন এই নেতা । সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে (X) তিনি লিখেছিলেন, “ইরানের আত্মত্যাগী জাতি তোমাদের ফাঁকা হুমকিতে ভয় পায় না। তোমাদের চেয়ে বড় শক্তিও ইরানকে নিশ্চিহ্ন করতে পারেনি। সতর্ক থাকো, যাতে তোমরা নিজেরাই নিশ্চিহ্ন না হয়ে যাও” ।

আমেরিকার কেনেডি পরিবারের সাথে প্রায়শই ইরানের এই অত্যন্ত প্রভাবশালী লারিজানি পরিবারের তুলনা টানা হয় । তাঁর ভাই সাদেক লারিজানি আগে ইরানের বিচার ব্যবস্থার প্রধান হিসেবে কাজ করেছেন এবং অপর ভাই মহম্মদ জাভাদ লারিজানি বৈদেশিক বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপদেষ্টা ছিলেন । আলি লারিজানি নিজে ২০০৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেন এবং সম্প্রতি সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান হন । এর আগে নব্বইয়ের দশকে সংস্কৃতি মন্ত্রী থাকাকালীন তিনি দেশে কঠোর সেন্সরশিপ নীতি প্রয়োগ করেছিলেন । একজন দুঁদে রাজনীতিকের পাশাপাশি লেখক হিসেবেও তাঁর পরিচিতি ছিল; জার্মান দার্শনিক ইমানুয়েল কান্ট সহ দর্শনের বিভিন্ন বিষয়ে তিনি গভীরভাবে লেখালেখি করেছেন ।

ইজরায়েলি হামলায় নিহত ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা আধিকারিক আলি লারিজানি ও তাঁর পুত্র, নিশ্চিত করল তেহরান
Scroll to top