আসামের রাজ্য রাজনীতিতে বিরোধী শিবিরকে আরও দুর্বল করার সুস্পষ্ট কৌশল জনসমক্ষে তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা । বুধবার নয়াদিল্লিতে সদ্য প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ প্রদ্যুৎ বরদলৈয়ের বিজেপিতে আনুষ্ঠানিক যোগদান পর্বে উপস্থিত থেকে মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়েছেন যে, কংগ্রেসের সমস্ত ‘ভালো’ নেতা এবং ‘সম্পদ’কে নিজেদের দলে টানাই এখন বিজেপির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য । দল এবং রাজ্যের বৃহত্তর ভবিষ্যতের স্বার্থেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সুনির্দিষ্ট নির্দেশ ও তত্ত্বাবধানে এই ধারাবাহিক জনসংযোগ ও দলবদল অভিযান চালানো হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন ।
কংগ্রেসের বর্তমান পরিস্থিতির তীব্র সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আত্মসম্মানবোধ সম্পন্ন কোনো মানুষের পক্ষেই এখন আর কংগ্রেসে থাকা সম্ভব নয়” । তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেস ক্রমশ ‘অসম-বিরোধী’ লোকজনের একটি ‘আড্ডা’-য় পরিণত হচ্ছে । তিনি এও স্পষ্ট করেন যে, তিনি কংগ্রেসের সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়া চান না, কিন্তু দলটি যাতে রাজ্য-বিরোধী উপাদানের আখড়ায় পরিণত না হয়, সেটাও নিশ্চিত করতে চান । তাঁর দাবি, এমনকি কংগ্রেসের অনেক মুসলিম নেতাও দলে ‘শ্বাসরুদ্ধ’ বোধ করছেন এবং আদর্শগত বাধা না থাকলে তাঁরাও আনন্দের সাথে বিজেপির খোলা দরজায় কড়া নাড়তেন ।
২০১৬ সাল থেকে শুরু হওয়া এই অন্তর্ভুক্তি প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই ‘৯৯ শতাংশ’ সম্পন্ন হয়েছে বলে শর্মা দাবি করেছেন । তিনি বলেন, “যাঁরা দলের বোঝা (liabilities) নন, কংগ্রেসের এমন সমস্ত সম্পদকে আমরা বিজেপিতে নিয়ে আসতে চাই” । এই দলত্যাগের ধারা অব্যাহত থাকবে জানিয়ে তিনি আত্মবিশ্বাসের সাথে ভবিষ্যদ্বাণী করেন যে, আসন্ন নির্বাচনের পরেই বিরোধী দলনেতা দেবব্রত শইকিয়া এবং রিপুন বোরার মতো শীর্ষ নেতারাও হাত-শিবির ত্যাগ করবেন । উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে মুখ্যমন্ত্রীর নিজের দলত্যাগের পর থেকে এখনও পর্যন্ত ১৭ জন কংগ্রেস ও বিপিএফ (BPF) নেতা বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন, যার মধ্যে গত ফেব্রুয়ারি মাসে প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি ভূপেন বোরাও রয়েছেন ।
এই রাজনৈতিক কৌশলের নেপথ্যে থাকা জনতাত্ত্বিক কারণটিও মুখ্যমন্ত্রী ব্যাখ্যা করেছেন । তাঁর মতে, আসাম এমন একটি রাজ্য যেখানে অস্তিত্ব রক্ষার জন্য প্রতিনিয়ত লড়াই করতে হয় । তিনি বলেন, “জনগণনার পর অসমীয়াদের সুরক্ষিত করার আমাদের এই লড়াই আরও তীব্র হবে। আমি চাই না কোনো শুভবুদ্ধিসম্পন্ন অসমীয়া মানুষ বেড়ার অন্যদিকে (বিরোধী পক্ষে) থাকুন” । দলবদলের এই মেগা এপিসোডের মাঝেই শর্মা এদিন ঘোষণা করেন যে, আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যেই গুয়াহাটিতে আরও এক প্রবীণ কংগ্রেস নেতা নবজ্যোতি তালুকদার পদ্মশিবিরে নাম লেখাতে চলেছেন ।