
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান চরম ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেও বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এমসিএক্স (MCX) বাজারে সোনা ও রূপোর ব্যাপক দরপতন লক্ষ্য করা গেছে । বিনিয়োগকারীদের ক্রমাগত বিক্রির চাপের জেরে এই দুটি মূল্যবান ধাতুর দাম গত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে নেমে এসেছে । সুদের হার এবং মূল্যস্ফীতি সম্পর্কে বিনিয়োগকারীদের নতুন করে মূল্যায়নের ফলেই ধাতুর বাজারে এই নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন ।
বৃহস্পতিবার এপ্রিলে শেষ হতে চলা সোনার ফিউচার চুক্তির দাম প্রতি ১০ গ্রামে ৮,৮১০ টাকা কমে ১,৪৪,২১৫ টাকায় নেমে এসেছে, যা গত ফেব্রুয়ারি মাসের পর থেকে সর্বনিম্ন । এই তীব্র পতনের ফলে শুধুমাত্র মার্চ মাসেই সোনা ১১ শতাংশ লোকসানের সম্মুখীন হয়েছে এবং চলতি বছরে এর আয়ের হার কমে মাত্র ৬.৬০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে । খুচরো বাজারেও এই প্রভাব পড়েছে; বৃহস্পতিবার ভারতে ২৪ ক্যারেট সোনার প্রতি ১০ গ্রামের দাম ছিল প্রায় ১,৪১,৫৭৭ টাকা ।
সোনার তুলনায় রূপোর বাজারে এই দরপতন আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে । সাদা ধাতুর দাম প্রতি কিলোগ্রামে ২৫,৫০০ টাকা কমে ২,২২,২৩৪ টাকায় ঠেকেছে, যা গত ডিসেম্বরের শেষের পর থেকে সবচেয়ে কম । বৃহস্পতিবারের এই পতনের সাথে সাথে চলতি মাসে রূপোর লোকসানের পরিমাণ ২১ শতাংশে পৌঁছেছে ।
ইরান এবং ইজরায়েলের মধ্যে সংঘাতের কারণে অপরিশোধিত তেল ও গ্যাসের দাম হু হু করে বাড়ছে, যা বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতির চাপ বাড়িয়ে তুলেছে । এর ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ এবং অন্যান্য কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলির সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা ক্রমশ ক্ষীণ হচ্ছে, যা সোনা ও রূপোর মতো মূল্যবান ধাতুর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে । সোনার এই সাম্প্রতিক আচরণ ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের সময়ের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে, যখন বিশ্বব্যাপী শক্তির সংকট তৈরি হয়েছিল । প্লুরিমি ওয়েলথ এলএলপি-এর প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা প্যাট্রিক আর্মস্ট্রং ব্লুমবার্গকে জানিয়েছেন, “এটি (সোনা) আর কোনো নিরাপদ আশ্রয় নয়, এটি এখন একটি অনুমানমূলক সম্পদে (speculative asset) পরিণত হয়েছে” ।