Read today's news --> Click here

অশান্ত মণিপুরে জনগণনা স্থগিত রাখার দাবির মাঝেই ২০২৭ সালের সেন্সাসের জন্য দুই দফায় প্রস্তুতি শুরু ভারতের

মণিপুরে চলমান তীব্র বিক্ষোভ ও উত্তেজনার আবহে আগামী ২০২৭ সালের জনগণনার (Census 2027) জন্য জোরালো প্রস্তুতি শুরু করল কেন্দ্রীয় সরকার। মঙ্গলবার, ১৭ই মার্চ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই জানিয়েছেন যে, আসন্ন এই জনগণনা প্রক্রিয়াটি মোট দুটি পর্যায়ে সম্পন্ন করা হবে । প্রথম পর্যায়ে বাড়ি তালিকাভুক্তি এবং আবাসন সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হবে এবং এর পরবর্তী ধাপে মূল জনসংখ্যা গণনার কাজ চলবে ।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রথম দফার জন্য প্রয়োজনীয় প্রশ্নাবলী ইতিমধ্যেই বিজ্ঞাপিত করা হয়েছে । অন্যদিকে, দ্বিতীয় দফার প্রশ্নগুলি চূড়ান্ত করে তা যথাসময়ে প্রকাশ করা হবে । পূর্ববর্তী জনগণনাগুলির মতোই দ্বিতীয় পর্যায়ে নাগরিকদের প্রতিবন্ধকতা সংক্রান্ত তথ্যও অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে । তথ্য সংগ্রহের জন্য নির্ধারিত ব্লকগুলিতে কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে সমীক্ষা চালাবেন । পাশাপাশি, ডিজিটাল মাধ্যমের ওপর জোর দিয়ে এবার একটি অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে ‘স্ব-গণনা’ বা সেল্ফ-এনিউমারেশনের (self-enumeration) ঐচ্ছিক সুবিধাও রাখা হচ্ছে, যার সাহায্যে পরিবারের যেকোনো সদস্য নিজেরাই নিজেদের তথ্য অনলাইনে জমা দিতে পারবেন ।

জনগণনা শুরুর আগে সংশ্লিষ্ট সমস্ত পক্ষের সাথে আলোচনা করে বিস্তারিত নির্দেশিকা এবং প্রশিক্ষণের টুলকিট তৈরি করা হচ্ছে । প্রশ্নপত্র চূড়ান্ত হওয়ার পর গণনাকারী (enumerator) এবং সুপারভাইজার সহ জনগণনার কাজে নিযুক্ত সমস্ত কর্মীদের এই বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে ।​

তবে, কেন্দ্রের এই জনগণনা প্রস্তুতির মাঝেই উত্তর-পূর্বের রাজ্য মণিপুরে এই প্রক্রিয়া নিয়ে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে । গত ১১ই মার্চ, ‘জাস্ট অ্যান্ড ফেয়ার ডিলিমিটেশন’ (Just and Fair Delimitation) ব্যানারে একদল মানুষ ইম্ফলের বিখ্যাত ইমা মার্কেটে জনগণনা প্রক্রিয়ার বিরোধিতায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন । পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ভিড় ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ সেখানে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে, যার জেরে অন্তত পাঁচজন বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে ।

বিক্ষোভকারী সংগঠনটির সহকারী সম্পাদক (সাংগঠনিক) নাওরেম ওয়াঙ্গাম্বা তাঁদের দাবির কথা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন । তিনি একটি ‘ন্যায্য ও নিরপেক্ষ জনগণনা’ এবং স্বচ্ছ সীমানা নির্ধারণ (delimitation) প্রক্রিয়ার দাবি তুলেছেন । তাঁর মতে, ১৯৫১ সালকে ভিত্তিবর্ষ হিসেবে ধরে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের আগে চিহ্নিত করতে হবে এবং সেই কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত রাজ্যে জনগণনা প্রক্রিয়া পুরোপুরি স্থগিত রাখা উচিত ।

অশান্ত মণিপুরে জনগণনা স্থগিত রাখার দাবির মাঝেই ২০২৭ সালের সেন্সাসের জন্য দুই দফায় প্রস্তুতি শুরু ভারতের
Scroll to top