
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ বায়ুসেনার প্রায় তিন সপ্তাহের লাগাতার হামলার পর ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন যে, ইরান তার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করার সমস্ত ক্ষমতা হারিয়েছে । বৃহস্পতিবার বিদেশি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি জোরালো ভাষায় বলেন, “ইরান আর ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে বা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে পারবে না। আমরা জিতছি, এবং ইরান ধ্বংস হচ্ছে” ।
যৌথ সামরিক অভিযানে ইরানের সামরিক পরিকাঠামো কতটা দুর্বল হয়েছে তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে নেতানিয়াহু বলেন, “আমরা এখন সেই কারখানাগুলো ধ্বংস করছি যেগুলো এই ক্ষেপণাস্ত্র এবং তাদের তৈরি করার চেষ্টায় থাকা পারমাণবিক অস্ত্রের সরঞ্জাম তৈরি করে” । তবে, ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের ক্ষমতা সম্পূর্ণ হারানোর দাবির স্বপক্ষে তিনি কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দেননি । পাশাপাশি তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, এখনও পর্যন্ত যুদ্ধটি কেবল বিমান হামলার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও, আগামী দিনে স্থলপথে অভিযানের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না ।
ইজরায়েল আমেরিকাকে জোর করে যুদ্ধে টেনে এনেছে, এমন জল্পনাকে নেতানিয়াহু উড়িয়ে দিয়েছেন । মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে সুসম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “কেউ কি সত্যি মনে করে যে প্রেসিডেন্ট (ডোনাল্ড) ট্রাম্পকে কেউ বলে দিতে পারে কী করতে হবে? তিনি সবসময় আমেরিকার জন্য যা ভালো মনে করেন সেই অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেন” । ইরানের সাউথ পার্স গ্যাস ক্ষেত্রে হামলার বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করেন যে, ইজরায়েল এই সিদ্ধান্ত এককভাবেই নিয়েছিল, তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অনুরোধ মেনে আপাতত গ্যাস ক্ষেত্রগুলিতে আর কোনো হামলা চালানো হচ্ছে না ।
সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে চলা জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে নেতানিয়াহু রসিকতার সুরে বলেন, “প্রথমেই বলতে চাই, আমি বেঁচে আছি” । অন্যদিকে, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে চরম অস্থিরতা চলছে বলে তিনি দাবি করেছেন । নেতানিয়াহুর মতে, ইরানের শাসনব্যবস্থায় ফাটল ধরতে শুরু করেছে এবং এই মুহূর্তে কে দেশ চালাচ্ছে তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে । ইজরায়েল এমন পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা করছে যাতে ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতন ঘটে, তবে শেষ পর্যন্ত সে দেশের জনগণকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন ।