Read today's news --> Click here

তীব্র এলপিজি সংকটে বন্ধের মুখে গুয়াহাটির ৭,০০০ রেস্তোরাঁ; কালোবাজারে সিলিন্ডারের দাম ছুঁয়েছে ৪,০০০ টাকা

বাণিজ্যিক রান্নার গ্যাসের (এলপিজি) তীব্র আকালের জেরে আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই ঝাঁপ বন্ধ হতে পারে গুয়াহাটির খাদ্য পরিষেবা খাতের । গত এক সপ্তাহ ধরে বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় শহরের প্রায় ৭,০০০ ছোট-বড় হোটেল ও রেস্তোরাঁ চরম অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে । পরিস্থিতি এতটাই সঙ্গীন যে, সুযোগ বুঝে কালোবাজারে প্রতিটি বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডার ৪,০০০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে ।

সোমবার গুয়াহাটি প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে অল আসাম রেস্তোরাঁ অ্যাসোসিয়েশনের (AARA) সভাপতি তথা শেফ অতুল লহকর এই আসন্ন বিপর্যয়ের বিষয়ে সতর্ক করেন । সংকট মোকাবিলায় শহরের অনেক রেস্তোরাঁ ইতিমধ্যেই অনলাইন অর্ডার নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে এবং গ্যাস বাঁচাতে সীমিত সংখ্যক পদ রান্না করছে । রাস্তার ধারের বহু ছোট খাবারের দোকান সিলিন্ডার জোগাড় করতে না পেরে ইতিমধ্যেই ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছে । গ্যাস না থাকায় কিছু ছোট হোটেল আপৎকালীন ব্যবস্থা হিসেবে কাঠ জ্বালিয়ে রান্না করছে । লহকর নিজের অসহায়তার কথা উল্লেখ করে বলেন, “বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের সরবরাহ বন্ধ হওয়ার পর এক সপ্তাহ কেটে গেছে। রান্নার গ্যাস ছাড়া আমরা হোটেল ও রেস্তোরাঁ চালাতে পারি না। রবিবার আমি কাঠ ব্যবহার করে খাবার রান্না করেছি” ।

সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, একটি বড় রেস্তোরাঁ স্বাভাবিকভাবে চালাতে মাসে ৩০ থেকে ৩২টি সিলিন্ডার লাগে, যেখানে ছোট রেস্তোরাঁগুলির প্রয়োজন হয় ১০ থেকে ১৫টি । লহকর জানান, “এই সংকটে সরকার যদি অন্তত ১৫টি সিলিন্ডারও সরবরাহ করতে পারে, তবে আমরা আমাদের রেস্তোরাঁগুলো চালু রাখতে পারব” । বাণিজ্যিক ভবনের ভেতরে থাকা রেস্তোরাঁগুলোর রান্নাঘরে সুরক্ষাবিধির কারণে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই । এই প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট জানান, “নিরাপত্তাজনিত কারণে আমরা গ্যাস ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প ব্যবহার করতে পারি না” । বাজারে বাণিজ্যিক ইন্ডাকশন স্টোভেরও আকাল থাকায় বৈদ্যুতিক রান্নার ব্যবস্থায় স্থানান্তরও কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে ।

গ্যাসের অভাবের পাশাপাশি লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিও ব্যবসায়ীদের ওপর জোড়া আঘাত হানছে । লহকর জানান, শুধুমাত্র গত দুই মাসেই বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দাম তিনবার বাড়ানো হয়েছে এবং প্রতিবারই দাম একধাক্কায় ২৬০ টাকা করে বেড়েছে । মূল্যবৃদ্ধির পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, “গত দুই বছরে অত্যাবশ্যকীয় সামগ্রীর দাম প্রায় ৩০% বেড়েছে” । হাজার হাজার কর্মীর রুটিরুজি এই শিল্পের ওপর নির্ভরশীল উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বহু মানুষের জীবিকা এই হোটেল ও রেস্তোরাঁ খাতের সঙ্গে যুক্ত। আসাম সরকার ও মুখ্যমন্ত্রীর উচিত বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নেওয়া” । অবিলম্বে সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি করে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, “সিলিন্ডার সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই রেস্তোরাঁগুলো বন্ধ করে দিতে হবে” ।

তীব্র এলপিজি সংকটে বন্ধের মুখে গুয়াহাটির ৭,০০০ রেস্তোরাঁ; কালোবাজারে সিলিন্ডারের দাম ছুঁয়েছে ৪,০০০ টাকা
Scroll to top