Read today's news --> Click here

নারী সংরক্ষণ বিল লোকসভায় পেশ করলেন মোদি — বিরোধ রাজনীতিতে নয়, সীমানা বিতর্কে

নারী সংরক্ষণ বিল লোকসভায় আনুষ্ঠানিকভাবে পেশ হল ১৬ এপ্রিল বৃহস্পতিবার। ১৬ থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত তিন দিনের বিশেষ অধিবেশনের প্রথম দিনেই কেন্দ্রীয় সরকার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পেশ করে — সংবিধান (১৩১তম সংশোধনী) বিল, সীমানা নির্ধারণ বিল ২০২৬ এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন (সংশোধনী) বিল ২০২৬। এই বিলগুলির লক্ষ্য একটাই — ২০২৩ সালে পাস হওয়া নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়মকে ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগেই কার্যকর করা, যাতে লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভাগুলোতে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষিত হয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সংসদে এবং সংসদের বাইরে বারবার বিরোধী দলগুলোকে আহ্বান জানিয়েছেন — এই বিষয়টিকে রাজনৈতিক বিবাদের ঊর্ধ্বে রেখে ঐকমত্যে সমর্থন দিতে।

বিল কী বলছে, মোদির বার্তা কী ছিল?

কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল লোকসভায় সীমানা নির্ধারণ বিল ২০২৬ পেশ করেন। সংসদবিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু একে “ঐতিহাসিক দিন” বলে উল্লেখ করেন — তাঁর ভাষায়, “আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে আজ একটি ঐতিহাসিক দিন। এই বিলটি একটি ঐতিহাসিক আইন যা চিরকাল স্মরণীয় থাকবে — কারণ ভারতের সংসদ লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভায় মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”

প্রধানমন্ত্রী মোদি নারী শক্তি বন্দন কার্যক্রমে বলেন, “দশকের দীর্ঘ অপেক্ষা — রাজ্য বিধানসভা থেকে জাতীয় সংসদ পর্যন্ত — এখন শেষ হতে চলেছে।” তিনি আরও জানান, ২০২৩ সালে নারী শক্তি বন্দন আইন নতুন সংসদ ভবনে সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়েছিল এবং সকল দল একমত হয়েছিল যে এটি ২০২৯ সালের মধ্যে কার্যকর হবে। কুচবিহারের একটি জনসভায় মোদি সরাসরি বলেন, “আমাদের মা ও বোনদের এই অধিকার ৪০ বছর ধরে মুলতবি রয়েছে। আর দেরি সঠিক নয়।”

নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর তথ্য অনুযায়ী, এই বিল কার্যকর হলে লোকসভার আসন সংখ্যা বর্তমান ৫৪৩ থেকে বেড়ে ৮১৬-তে উন্নীত হবে, এবং সেখানে ২৭৩টি আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।

বিরোধীদের আপত্তি কোথায়?

নারী সংরক্ষণ বিলের মূল বিষয়ে কংগ্রেস বা অন্য বিরোধী দলগুলো আপত্তি জানায়নি — বরং তারা নীতিগতভাবে সমর্থনই করছে। কিন্তু আপত্তি সীমানা পুনর্নির্ধারণের প্রক্রিয়াকে ঘিরে। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খার্গে সরকারের সিদ্ধান্তের সময় ও প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন — এত বড় একটি সাংবিধানিক পরিবর্তন নিয়ে ব্যাপক আলোচনা না করেই বিল আনা হয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ। The Wire-এর বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, ২০২৩ সালে মোদি সরকারই বলেছিল যে আদমশুমারি ও সীমানা নির্ধারণ ছাড়া এই আইন কার্যকর করা সম্ভব নয় — এখন সেই অবস্থান থেকে সরে এসে নতুন পথে এগোনো নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিরোধীদের আরেকটি উদ্বেগ হল দক্ষিণের রাজ্যগুলো — জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল হওয়া রাজ্যগুলো সীমানা পুনর্নির্ধারণে আসন হারাবে কিনা। মোদি এই বিষয়ে স্পষ্ট আশ্বাস দিয়েছেন: “যে রাজ্যগুলো জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে ভালো কাজ করেছে, তারা আসন সংখ্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।”

আসাম বরাক উপত্যকায় এর প্রভাব কতটুকু?

নারী সংরক্ষণ বিল কার্যকর হলে আসামের রাজনৈতিক চিত্রে বড় বদল আসবে। বর্তমানে আসামে লোকসভার ১৪টি এবং বিধানসভার ১২৬টি আসন রয়েছে। ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ চালু হলে এই আসনগুলোর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ মহিলা প্রার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট হয়ে যাবে। হাইলাকান্দি জেলা থেকেও বিধানসভায় মহিলা প্রতিনিধিত্ব এখন তুলনামূলকভাবে কম। ২০২৯ সালের নির্বাচনে যদি ৩৩ শতাংশ নারী কোটা চালু হয়, তাহলে লালা ও হাইলাকান্দির স্থানীয় রাজনীতিতে মহিলা নেত্রীরা আগের চেয়ে অনেক বেশি সুযোগ পাবেন — যা বরাক উপত্যকার গ্রামীণ মহিলাদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের একটি ঐতিহাসিক সুযোগ হতে পারে।

এপ্রিলের এই তিন দিনের বিশেষ অধিবেশনে বিলগুলো পাস হয় কিনা এবং রাজ্যসভায় কী ঘটে — সেটিই এখন সবার নজরে। সরকার চাইছে যত দ্রুত সম্ভব সাংবিধানিক সংশোধনী সম্পন্ন করে ২০২৯ সালের আগেই নির্বাচন কমিশনকে প্রস্তুতির সময় দেওয়া হোক। বিরোধীরা নীতিগতভাবে একমত হলেও সীমানা পুনর্নির্ধারণের খুঁটিনাটি নিয়ে বিতর্ক এখনও শেষ হয়নি। ৪০ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার পর ভারতের সংসদে মহিলারা কবে সত্যিকার অর্থে এক-তৃতীয়াংশ স্থান পাবেন — সেই প্রশ্নের উত্তর এখন সংসদের মেঝেতে।

নারী সংরক্ষণ বিল লোকসভায় পেশ করলেন মোদি — বিরোধ রাজনীতিতে নয়, সীমানা বিতর্কে
Scroll to top