Read today's news --> Click here

লোকসভায় নারী সংরক্ষণ বিল ২০২৬: তিনটি বিল পাস করে ২০২৯ নির্বাচনে ৩৩% কোটার পথ খুলছে

লোকসভায় নারী সংরক্ষণ বিল ২০২৬ নিয়ে আলোচনা আজ ১৭ এপ্রিল দ্বিতীয় দিনে প্রবেশ করেছে। ১৬ থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত বিশেষভাবে আহূত সংসদীয় অধিবেশনে কেন্দ্র সরকার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিল উপস্থাপন করেছে — সংবিধান (একশো একত্রিংশতম সংশোধনী) বিল ২০২৬, ডিলিমিটেশন বিল ২০২৬, এবং ইউনিয়ন টেরিটরিজ আইন (সংশোধনী) বিল ২০২৬। এই তিনটি বিলের মূল উদ্দেশ্য হল ২০২৩ সালে পাস হওয়া নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়মকে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগেই বাস্তবে কার্যকর করা। গতকাল বুধবার আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল বিলটি সংসদে পেশ করেন এবং ২০৭-১২৬ ভোটে ভূমিকা পর্বে অনুমোদন পেয়েছে, যদিও বিরোধীরা বিভাজন ভোটের দাবি তুলেছিল।

তিনটি বিল কী বলছে?

প্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল সংবিধান (১৩১তম সংশোধনী) বিল ২০২৬। এই বিলটি লোকসভার আসন সংখ্যা বর্তমান ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ৮৫০-এ নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দিচ্ছে। এর মধ্যে ৮১৫টি আসন রাজ্যগুলোর জন্য এবং ৩৫টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের জন্য বরাদ্দ। সংশোধনীটির মূল কৌশল হল ২০২৭ সালের জনগণনার অপেক্ষায় না থেকে ২০১১ সালের জনগণনার তথ্যের ভিত্তিতে নতুন সীমানা নির্ধারণ করা — এভাবেই ২০২৯ নির্বাচনের আগে মহিলাদের ৩৩% কোটা চালু করা সম্ভব হবে। PRS India-র বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মূল ২০২৩ সালের আইনে বলা ছিল, আইন কার্যকর হওয়ার পর প্রথম জনগণনার ভিত্তিতে সীমানা পুনর্নির্ধারণ করে তারপর সংরক্ষণ চালু হবে — কিন্তু এই প্রক্রিয়ায় ২০২৯ নির্বাচনের আগে সম্পন্ন হওয়ার কোনো সম্ভাবনা ছিল না। নতুন বিলটি সেই বাধাটি সরিয়ে দিচ্ছে।

দ্বিতীয় বিল, ডিলিমিটেশন বিল ২০২৬, একটি নতুন ডিলিমিটেশন কমিশন গঠনের বিধান দিচ্ছে। এই কমিশন লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভার আসন সীমানা পুনর্নির্ধারণ করবে এবং মহিলাদের জন্য — বিশেষত SC ও ST মহিলাদের জন্য — সংরক্ষিত আসন চিহ্নিত করবে। তৃতীয় বিলটি, যা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পেশ করেছেন, মূলত দিল্লি, জম্মু-কাশ্মীর ও অন্যান্য কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের বিধানসভায় একই সংরক্ষণ কাঠামো প্রসারিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট আইনগুলো সংশোধন করছে।

মোদি বিরোধীদের বক্তব্য: সংসদে জোরালো বিতর্ক

লোকসভায় নারী সংরক্ষণ বিল ২০২৬ নিয়ে বিতর্কের সূচনা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এক তীক্ষ্ণ বক্তৃতার মধ্য দিয়ে। তিনি বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার পঞ্চাশ ভাগকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করা আজ সময়ের দাবি। মোদি আরও বলেন, “কেউ যেন এই অহংকারী বিভ্রমে না থাকেন যে তারা ভারতের মহিলাদের ‘দয়া করে কিছু দিচ্ছেন’ — এটি তাদের অধিকার।” তিনি স্বীকার করেন যে দশকের পর দশক ধরে এই অধিকার আটকে রাখার জন্য সমগ্র রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান দায়ী এবং এই বিল সেই দায়ের কিছুটা প্রায়শ্চিত্ত।

বিরোধী দলের মধ্যে সবচেয়ে জোরালো বক্তব্য রাখেন কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়ংকা গান্ধী বদ্রা। তিনি পঞ্চায়েত ও পুরসভায় নারী সংরক্ষণের কৃতিত্ব দাবি করে বলেন, সেটি রাজীব গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেস সরকারের উদ্যোগ। একইসাথে তিনি প্রশ্ন করেন, বর্তমান ৫৪৩ আসনের মধ্যেই ৩৩% সংরক্ষণ কার্যকর না করে কেন ৮৫০ আসনে সংসদ বড় করতে হবে? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলোর আপত্তির জবাবে জানান, নতুন কাঠামোয় দক্ষিণের রাজ্যগুলোর আসন বর্তমান ১২৯ থেকে বেড়ে ১৯৫ হবে — অর্থাৎ কোনো রাজ্যই আসন হারাবে না, বরং সবাই লাভবান হবে।

আসাম হাইলাকান্দির জন্য কী মানে?

লোকসভায় নারী সংরক্ষণ বিল ২০২৬ পাস হলে আসামের রাজনৈতিক মানচিত্রে বড় পরিবর্তন আসবে। আসামে বর্তমানে লোকসভার ১৪টি এবং বিধানসভার ১২৬টি আসন রয়েছে। নতুন ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে আসামে লোকসভা ও বিধানসভা উভয় ক্ষেত্রেই আসন সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে প্রত্যাশিত। ৩৩% সংরক্ষণের নিয়মে আসামের মোট লোকসভা ও বিধানসভা আসনের এক-তৃতীয়াংশ মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত হবে — এবং SC/ST মহিলাদের জন্য এর মধ্যে আলাদা উপ-কোটাও থাকবে।

হাইলাকান্দি জেলা ও লালা অঞ্চলের জন্য এই বিলের তাৎপর্য অনস্বীকার্য। বরাক উপত্যকায় মহিলাদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব ঐতিহাসিকভাবে সীমিত থেকেছে। ২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনে হাইলাকান্দি জেলায় মহিলা প্রার্থীদের সংখ্যা নগণ্যই ছিল। ৩৩% বাধ্যতামূলক কোটা চালু হলে জেলার ৩টি বিধানসভা আসনের অন্তত একটিতে মহিলা প্রতিনিধি নিশ্চিত হবেন। লালা বাজারের নারী সমাজ এবং বরাক উপত্যকার সচেতন মহিলারা এই বিলকে দীর্ঘদিনের এক প্রতীক্ষার সমাপ্তি হিসেবে দেখছেন।

লোকসভায় নারী সংরক্ষণ বিল ২০২৬-এর তিনটি বিলের চূড়ান্ত পাস আজ ও আগামীকালের মধ্যেই প্রত্যাশিত — এরপর রাজ্যসভায় এবং রাজ্য বিধানসভাগুলোর অনুমোদনের পর্ব শুরু হবে। ডিলিমিটেশন কমিশনের কাজ সম্পন্ন হতে আরও কিছু সময় লাগবে, তবে সরকারের পরিষ্কার লক্ষ্য — ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগেই মহিলাদের ৩৩% সংরক্ষণ কার্যকর করা। এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হলে, ভারতের সংসদীয় ইতিহাসে এটি হবে একটি অভূতপূর্ব মাইলফলক — এবং হাইলাকান্দি থেকে হিমাচল, প্রতিটি কোণের মহিলারা রাষ্ট্রের কণ্ঠস্বর হওয়ার নতুন সুযোগ পাবেন।

লোকসভায় নারী সংরক্ষণ বিল ২০২৬: তিনটি বিল পাস করে ২০২৯ নির্বাচনে ৩৩% কোটার পথ খুলছে
Scroll to top