Read today's news --> ⚡️Click here 

রূপামণি গর্হ এভারেস্ট জয়: অসমের প্রথম মহিলা হিসেবে বিশ্বের সর্বোচ্চ শিখরে

লক্ষীমপুরের নাগাঁও পোথার গ্রামের মেয়ে রূপামণি গর্হ ২১ মে ২০২৬ তারিখে এভারেস্টের ৮,৮৪৮ মিটার উচ্চতায় পা রেখে অসমের ইতিহাসে জায়গা করে নিলেন। রূপামণি গর্হএভারেস্ট জয় করলেন ITBP-র প্রথমবারের মতো আয়োজিত সর্বমহিলা আন্তর্জাতিক পর্বতারোহণ অভিযানের অংশ হিসেবে। অসম থেকে এর আগে কোনও মহিলা এভারেস্টের চূড়ায় পৌঁছাননি — তিনিই প্রথম l ১১ জন মহিলা পর্বতারোহীর মধ্যে শীর্ষে প্রথম পা দিয়েছিলেন রূপামণিই।

মাত্র ২৬ বছর বয়সী রূপামণি ২০২০ সালে ITBP-তে কনস্টেবল হিসেবে যোগ দেন। হরিয়ানায় পোস্টিং পেয়ে সেখানেই পর্বতারোহণের প্রশিক্ষণ শুরু করেন তিনি। লক্ষীমপুর জেলার একটি সাধারণ গ্রাম থেকে উঠে এসে বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতের চূড়া ছোঁয়া — এই যাত্রা নিজেই একটি অনুপ্রেরণার গল্প। অভিযান শেষে তাঁর পা-র আঙুলে কিছুটা সমস্যা হলেও তিনি ও তাঁর সতীর্থরা মোটামুটি সুস্থ আছেন।

ITBP-ঐতিহাসিক সর্বমহিলা অভিযান

রূপামণি গর্হ এভারেস্ট জয় হয়েছে ITBP-র ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আয়োজিত সর্বমহিলা আন্তর্জাতিক এভারেস্ট অভিযানের মাধ্যমে। ১৪ সদস্যের এই দলে ছিলেন ১১ জন মহিলা পর্বতারোহী ও তিনজন কারিগরি-সহায়তা সদস্য। দলটি ১৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে নতুন দিল্লিতে ITBP সদর দপ্তর থেকে রওনা হয় এবং নেপাল থেকে সাউথ কোল রুট ধরে এভারেস্টে আরোহণ করে। Everest Chronicle-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, সকাল ৬টা ৫২ মিনিটে প্রথম সদস্য চূড়ায় পৌঁছান এবং পর্যায়ক্রমে বাকি সবাই শীর্ষ স্পর্শ করেন।

অভিযানের নেতৃত্ব দেন ITBP-র ডেপুটি কম্যান্ড্যান্ট ভানিতা তিমুংপি, যিনি অসম মাউন্টেনিয়ারিং অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য এবং গুয়াহাটির বাসিন্দা। ক্লাইম্বিং লিডার হিসেবে দায়িত্ব ছিল অনুপ কুমারের এবং IFMGA গাইড সোনাম ছেরিং লামা অভিযানের সহায়তা দলের নেতৃত্ব দেন। সেভেন সামিট ট্রেকস লজিস্টিক্স অংশীদার হিসেবে কাজ করেছে এই অভিযানে। সকল ১১ জন মহিলা সদস্য চূড়া স্পর্শ করেছেন — বড় কোনও দলের জন্য এই ১০০ শতাংশ সাফল্যের হার বিরল।

ITBP তাদের X অ্যাকাউন্টে লেখে: “ইতিহাস রচিত হলো এভারেস্টে। ITBP-র প্রথমবারের মতো সর্বমহিলা অভিযান ২১ মে ২০২৬ তারিখে সাউথ কোল রুটে মাউন্ট এভারেস্টের ৮,৮৪৮ মিটার চূড়া স্পর্শ করল। ভারতের জন্য গর্বের মুহূর্ত।” এই বার্তাটি কেবল একটি প্রশাসনিক ঘোষণা নয়, এটি ভারতের নারী-শক্তির আত্মবিশ্বাসের প্রতীকও।

নারী শক্তি ও MHA-অনুপ্রেরণা

এই রূপামণি গর্হ এভারেস্ট জয় অভিযানটি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (MHA) “নারী শক্তি বন্দন” কর্মসূচির অধীনে আয়োজিত হয়েছিল। লক্ষ্য ছিল প্রমাণ করা যে ভারতের আধাসামরিক বাহিনীর মহিলারাও সীমান্ত পাহারার পাশাপাশি পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন পর্বত জয় করতে পারেন। অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার X-পোস্ট উদ্ধৃত করা হয়েছে: “অসমের মেয়ে পৃথিবীর সর্বোচ্চ চূড়ায় পৌঁছেছে। রূপামণি গর্হকে আন্তরিক অভিনন্দন অসম থেকে এভারেস্ট জয় করা প্রথম মহিলা হিসেবে… তাঁর ঐতিহাসিক কীর্তি অসমের জন্য গর্বের এবং তরুণ প্রজন্মকে স্বপ্ন দেখতে ও নতুন উচ্চতা জয় করতে অনুপ্রাণিত করবে।”

অসম মাউন্টেনিয়ারিং অ্যাসোসিয়েশনও এই সাফল্যকে “ঐতিহাসিক মুহূর্ত” বলে আখ্যায়িত করেছে এবং উভয় অসমীয় পর্বতারোহীকে—রূপামণি ও দলনেত্রী ভানিতা তিমুংপিকে—অভিনন্দন জানিয়েছে।  রূপামণি অসমের প্রথম মহিলা হিসেবে এভারেস্ট জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করেছেন।

অসম বরাক উপত্যকার অনুপ্রেরণা

রূপামণি গর্হ এভারেস্ট জয় অসমের সমস্ত জেলার জন্যই অনুপ্রেরণার উৎস, বিশেষ করে বরাক উপত্যকার তরুণ প্রজন্মের জন্য। হাইলাকান্দি, কাছাড় বা লালা টাউনের কিশোর-কিশোরীরা দেখতে পাচ্ছে যে একটি সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে, নিজের পরিশ্রম ও সংকল্পের জোরে পৃথিবীর সর্বোচ্চ চূড়া স্পর্শ করা সম্ভব। রূপামণির গল্প বলে, প্রশিক্ষণ, দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি ও সুযোগের সদ্ব্যবহার করলে সীমানা বাধা হয়ে দাঁড়ায় না।

লালাবাজারের পাঠকদের জন্য এই খবরের আলাদা তাৎপর্য আছে। বরাক উপত্যকায় মহিলাদের ক্রীড়া ও সাহসী পেশায় অংশগ্রহণ এখনও সীমিত। রূপামণির সাফল্য প্রমাণ করে, সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়ার পরেও নিজের শখ ও সাধনাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব।

ইতিহাস লেখা হলো পর্বতের মাথায়

রূপামণি গর্হ এভারেস্ট জয় করে কেবল ব্যক্তিগত লক্ষ্য পূরণ করেননি, তিনি একটি রাজ্যের স্বপ্নও বুকে বহন করেছেন। ১৪ সদস্যের দলে সতীর্থ পদ্মা তুন্দুপ, স্তানজিন চোরোল, রুচি, প্রবীণা রাই, তিলা সেন, অঞ্জু রানি-সহ সবাই চূড়া স্পর্শ করেছেন এবং ভারতের নারী শক্তির পতাকা উড়িয়েছেন। শীর্ষে ভন্দে মাতরম গেয়েছেন অভিযাত্রীরা — সেই দৃশ্য নিজেই ইতিহাসের অংশ হয়ে গেছে।

এই অভিযানের পর ITBP-র মহিলা বাহিনীর ভূমিকা ও সক্ষমতা নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হবে বলে আশা করা যায়। একইসঙ্গে অসম ও উত্তর-পূর্বের তরুণীদের কাছে বার্তা পৌঁছে যাবে — স্বপ্ন যদি সত্যিকারের হয়, তাহলে এভারেস্টের চূড়াও নাগালের বাইরে নয়।

রূপামণি গর্হ এভারেস্ট জয়: অসমের প্রথম মহিলা হিসেবে বিশ্বের সর্বোচ্চ শিখরে
Scroll to top