দেশের গৃহস্থালির জ্বালানি খাতে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে এলপিজি গ্যাসের দাম বৃদ্ধি নিয়ে। চলতি মাসে ১৪.২ কেজি ওজনের একটি গৃহস্থালির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৯ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার পর থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। তবে কেন্দ্র সরকার দাবি করেছে, এই বৃদ্ধির পরেও ভারত এখনও বিশ্বের অন্যতম কম দামের LPG বাজার হিসেবে অবস্থান করছে।
পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে LPG-র দামের ওঠানামার প্রভাব সরাসরি দেশের খুচরো মূল্যে পড়ে। সরকারি তেল সংস্থাগুলি প্রতি মাসে আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক অনুযায়ী দাম নির্ধারণ করে থাকে। সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রোপেন-বিউটেনের দাম বৃদ্ধির কারণেই এই সংশোধন করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে ।
আন্তর্জাতিক বাজার ও এলপিজি গ্যাসের দাম বৃদ্ধি
সরকারি বক্তব্য অনুযায়ী, বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশীয় বাজারে মূল্য নির্ধারণ করা হচ্ছে। কেন্দ্রের এক শীর্ষ আধিকারিক বলেন, “ভারতে এখনও এলপিজি অনেক উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের তুলনায় সস্তা। মূল্য বৃদ্ধির পরেও আমাদের বাজার আন্তর্জাতিক তুলনায় প্রতিযোগিতামূলক।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত সরকার ধীরে ধীরে বাজারমুখী মূল্যব্যবস্থার দিকে এগোচ্ছে। গত কয়েক বছরে এলপিজি ভর্তুকি কমানো হয়েছে, ফলে সরাসরি বাজারদরের প্রভাব বাড়ছে। আন্তর্জাতিক এনার্জি রিপোর্ট অনুযায়ী, ইউরোপ ও এশিয়ার কিছু দেশে LPG-র দাম ভারতের তুলনায় অনেক বেশি, যা কেন্দ্রের দাবিকে সমর্থন করে ।
রান্নার গ্যাস মূল্য ও ভর্তুকির প্রভাব
বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনার আওতায় দরিদ্র পরিবারগুলিকে ভর্তুকিযুক্ত এলপিজি সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে শহরাঞ্চল ও মধ্যবিত্ত পরিবারের বড় অংশকেই বাজারদরে গ্যাস কিনতে হচ্ছে। এর ফলে মাসিক খরচে সরাসরি প্রভাব পড়ছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, “রান্নার গ্যাস মূল্য বৃদ্ধি সরাসরি পরিবারের বাজেটে চাপ তৈরি করে, বিশেষত যখন খাদ্যদ্রব্য ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দামও বাড়ছে।”
একই সঙ্গে, ভর্তুকি ধীরে ধীরে সীমিত হওয়ায় ভবিষ্যতে এই খাতে আরও পরিবর্তন আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আসাম ও লালা টাউনে প্রভাব
এলপিজি গ্যাসের দাম বৃদ্ধি উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলিতেও প্রভাব ফেলছে। আসামের হাইলাকান্দি জেলা ও লালা টাউনের মতো এলাকায় অধিকাংশ পরিবার রান্নার জন্য এলপিজির উপর নির্ভরশীল।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, প্রতি মাসে গ্যাসের খরচ বাড়তে থাকায় সংসারের অন্যান্য খরচে কাটছাঁট করতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে বিকল্প জ্বালানি যেমন কাঠ বা কয়লার ব্যবহারও বাড়ছে।
এছাড়া পরিবহন খরচের কারণে উত্তর-পূর্ব ভারতে গ্যাসের দাম প্রায়ই কিছুটা বেশি থাকে, যা এই অঞ্চলের মানুষের উপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করে।
ভবিষ্যতের দিক ও সম্ভাবনা
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে যদি জ্বালানির দাম স্থিতিশীল থাকে, তবে দেশীয় বাজারেও কিছুটা স্বস্তি আসতে পারে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে LPG দাম ওঠানামা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনাই বেশি।
সরকারের তরফে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে দরিদ্র পরিবারের জন্য ভর্তুকি ব্যবস্থা বজায় রাখা হবে, তবে দীর্ঘমেয়াদে বাজারভিত্তিক মূল্য নির্ধারণই প্রধান নীতি হিসেবে থাকবে।
সার্বিকভাবে, এলপিজি গ্যাসের দাম বৃদ্ধি শুধুমাত্র একটি অর্থনৈতিক বিষয় নয়, বরং এটি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। বিশেষ করে লালা টাউন ও হাইলাকান্দির মতো এলাকায় এর প্রভাব আরও স্পষ্ট, যেখানে জ্বালানির খরচ সংসারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।