Read today's news --> ⚡️Click here 

আসাম মন্ত্রিসভা শপথ ২০২৬: হিমন্তের ১২ সদস্যের তালিকায় বরাক উপত্যকার দুই প্রতিনিধি

আসাম মন্ত্রিসভা শপথ ২০২৬-এর আগের দিন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ৪ জুন সামাজিক মাধ্যম X-এ ১২ জন বিধায়কের নাম ঘোষণা করেন, যাঁরা ৫ জুন দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন। এই ঘোষণাটি নির্বাচনে বিজয়ের প্রায় এক মাস পর এল। ১২৬ আসনের আসাম বিধানসভায় NDA জোট ১০২টি আসন জিতে তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় এসেছে, এবং এই মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণই সেই সরকারের পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়ার পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা X-এ লেখেন, “আমি আনন্দিত যে নিম্নোক্ত সম্মানিত বিধায়করা ৫ জুন ২০২৬ দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে আসাম সরকারের মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন।” তালিকায় যাঁদের নাম রয়েছে তাঁরা হলেন অশ্বিনী রায় সরকার, অশোক সিঙ্ঘাল, বিমল বোরা, বিশ্বজিৎ দৈমারী, জয়ন্ত মল্ল বরুয়া, কৌশিক রাই, কেশব মহন্ত, কৃষ্ণেন্দু পল, নীলিমা দেবী, পীযূষ হজারিকা, ড. রনজ পেগু এবং সুশান্ত বরগোহাইঁ। এই তালিকা প্রকাশের পরই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

নতুন চার মুখ এবং অভিজ্ঞদের ফিরে আসা

আসাম মন্ত্রিসভা শপথ ২০২৬-এ চারজন সম্পূর্ণ নতুন মুখ মন্ত্রিপরিষদে জায়গা পেলেন। তাঁরা হলেন গোলকগঞ্জের অশ্বিনী রায় সরকার, মঙ্গলদইয়ের নীলিমা দেবী, তামুলপুরের বিশ্বজিৎ দৈমারী এবং ডেমোর সুশান্ত বরগোহাইঁ। এঁদের সকলেই BJP-র বিধায়ক। নীলিমা দেবী মঙ্গলদই থেকে প্রথমবার MLA নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর অন্তর্ভুক্তিতে মন্ত্রিসভায় নারী প্রতিনিধিত্ব বাড়ল এবং অর্থমন্ত্রী অজন্তা নেওগের পাশে মহিলা মন্ত্রীর সংখ্যা হলো দুই।

বাকি আটজন পূর্ববর্তী সরকার বা দলে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা নেতা। অশোক সিঙ্ঘাল, বিমল বোরা, জয়ন্ত মল্ল বরুয়া, পীযূষ হজারিকা, রনজ পেগু এবং কৌশিক রাই আগের মন্ত্রিসভায়ও সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। বিশ্বজিৎ দৈমারী ২০২১ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত আসাম বিধানসভার অধ্যক্ষ ছিলেন। AGP থেকে কেশব মহন্ত মন্ত্রিসভায় ঢোকায় জোট-অংশীদার AGP-র মন্ত্রী সংখ্যা এখন দুইয়ে দাঁড়াল।

জোট রাজনীতির ভারসাম্য পোর্টফোলিও অপেক্ষা

আসাম মন্ত্রিসভা শপথ ২০২৬-এর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো জোট-শরিকদের প্রতিনিধিত্বের ভারসাম্য। BJP ছাড়া AGP থেকে কেশব মহন্ত নতুন করে মন্ত্রিসভায় যোগ দিলেন। এর আগে থেকেই AGP-র অতুল বোরা পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তর সামলাচ্ছেন। BPF থেকে চরণ বোরো একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবেই থাকলেন। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, শপথের পরেই পোর্টফোলিও বিতরণ করা হবে। কোন মন্ত্রী কোন দপ্তর পাবেন, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্যে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে।

মন্ত্রিসভায় ১৯টি আসনের মধ্যে ১২ জন নতুন শপথ নেওয়ার পর মোট মন্ত্রী সংখ্যা দাঁড়াল ১৭-তে। দুটি পদ এখনও শূন্য থাকছে। BJP-র কিছু সিনিয়র নেতা—যেমন প্রদ্যুৎ বরদলৈ ও চন্দ্রমোহন পাটোয়ারি—এবার মন্ত্রিসভায় জায়গা পাননি, যা দলের ভেতরে কিছুটা আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে মুখ্যমন্ত্রী আগস্টের মধ্যে আরও পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন।

বরাক উপত্যকার প্রতিনিধিত্ব: কৃষ্ণেন্দু পল কৌশিক রাই

আসাম মন্ত্রিসভা শপথ ২০২৬-এ বরাক উপত্যকার জন্য সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো দুজন পরিচিত নেতার পুনরায় অন্তর্ভুক্তি। পাথরকান্দি আসনের বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু পল এবং লক্ষীপুর আসনের বিধায়ক কৌশিক রাই—দুজনেই বরাক উপত্যকার প্রতিনিধি।  কৃষ্ণেন্দু পল শ্রীভূমি (পূর্বতন করিমগঞ্জ) জেলার প্রতিনিধি এবং পাথরকান্দি থেকে দুইবারের MLA। আগের মন্ত্রিসভায় তিনি পশু-পালন ও মৎস্য বিভাগ সামলেছিলেন এবং PWD মন্ত্রীকেও সহায়তা করতেন।

কৌশিক রাই লক্ষীপুর থেকে নির্বাচিত এবং কাছাড় জেলার প্রতিনিধি। ২০২৪ সালের আগের মন্ত্রিসভায় তাঁকে বিশেষভাবে তৈরি করা বরাক উপত্যকা উন্নয়ন বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, যা এই অঞ্চলের জন্য রাজ্য সরকারের আলাদা মনোযোগের প্রতীক ছিল। এবারও তাঁর অন্তর্ভুক্তি বরাক উপত্যকার মানুষের জন্য ইতিবাচক সংকেত। লালা টাউন, হাইলাকান্দি এবং পুরো বরাক অঞ্চলে দীর্ঘদিনের যে দাবি—রাস্তাঘাট, বন্যা-নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং কর্মসংস্থান—তা মন্ত্রিসভায় স্থানীয় প্রতিনিধির মাধ্যমে আরও জোরালোভাবে উঠে আসতে পারে।

নির্বাচন-পরবর্তী সরকার গঠনের পূর্ণ ছবি

১২ মে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা দ্বিতীয় মেয়াদে মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেন এবং সেই সময় মাত্র চারজন মন্ত্রী নিয়ে সরকার শুরু হয়। সেই চারজন ছিলেন BJP-র অজন্তা নেওগ ও রামেশ্বর তেলি, AGP-র অতুল বোরা এবং BPF-এর চরণ বোরো। তারপর থেকে পূর্ণ মন্ত্রিসভা গঠনের অপেক্ষা ছিল। BJP ৮২টি আসন এবং জোট-শরিক AGP ও BPF মিলিয়ে ১০টি করে আসন জিতে মোট ১০২ আসনের বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে, যা রাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাসে তৃতীয় পরপর জয় হিসেবে বিশেষ স্থান পেয়েছে।

শপথের পর পোর্টফোলিও বিতরণই হবে পরবর্তী বড় পদক্ষেপ। কে কোন মন্ত্রক পাবেন, কৃষ্ণেন্দু পল বা কৌশিক রাই কোন দপ্তর সামলাবেন, কোন মন্ত্রকে নতুন অগ্রাধিকার আসবে—এসব প্রশ্নের উত্তর শীঘ্রই পাওয়া যাবে। মুখ্যমন্ত্রী আগস্টের মধ্যে আরও পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেওয়ায় এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া হিসেবেই দেখা হচ্ছে। বরাক উপত্যকা থেকে লালা টাউন, হাইলাকান্দি থেকে শিলচর—সবাই এখন অপেক্ষায় আছেন কোন দপ্তর কার হাতে যায়, এবং সেই দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীরা স্থানীয় প্রয়োজনে কতটা সাড়া দেন।

আসাম মন্ত্রিসভা শপথ ২০২৬: হিমন্তের ১২ সদস্যের তালিকায় বরাক উপত্যকার দুই প্রতিনিধি
Scroll to top