Read today's news --> ⚡️Click here 

অসম বন্যায় ২২ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত, কেন্দ্রীয় সহায়তার আশ্বাস দিলেন অমিত শাহ

চলতি বর্ষা মৌসুমের প্রথম দফা বন্যায় অসমের ছয়টি জেলায় ২২,১২৪ জনেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। অসম বন্যায় ২২ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রেক্ষাপটে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সোমবার মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সাথে ফোনে কথা বলেন এবং কেন্দ্র থেকে সর্বাত্মক সহায়তার আশ্বাস দেন। ASDMA (অসম রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ)-এর তথ্যে জানা গেছে, ধেমাজি, নলবাড়ি, ডিব্রুগড়, চিরাং, লখিমপুর এবং কোকরাঝাড় জেলায় এই বন্যার প্রভাব সবচেয়ে বেশি l

ছয় জেলায় ৯৬টি গ্রাম প্লাবিত, ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

এই বন্যায় ইতিমধ্যে ৯৬টি গ্রাম জলের তলায় চলে গেছে এবং কৃষিজমিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রেলপথ যোগাযোগ বিঘ্নিত হওয়ায় অনেক এলাকায় ত্রাণ পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ছে। অসমে এবং পার্শ্ববর্তী অরুণাচল প্রদেশে প্রবল ও অবিরাম বৃষ্টির কারণে নদীগুলোর জলস্তর দ্রুত বাড়ছে বলে জানিয়েছে।

ASDMA-র তথ্যমতে, এটি বছরের প্রথম দফা বন্যা। অতীতের বছরগুলোতে এই প্রথম দফা বন্যার পরেই পরিস্থিতি ক্রমশ আরও খারাপ হয়েছে। ২০২৫ সালেও বন্যার প্রথম দফায় ছয় লাখেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন এবং ২১টি জেলা মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হয়েছিল।

অমিত শাহ হিমন্তের পর্যালোচনা বৈঠক, কেন্দ্রীয় সহায়তার প্রতিশ্রুতি

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এই বিপর্যয়কে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সাথে যোগাযোগ করেন। অমিত শাহ পরিস্থিতি বিস্তারিত জেনে নিয়ে রাজ্যকে কেন্দ্রের পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা পরে জানান, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজ্যকে সমস্ত ধরনের সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

অতীতে এই ধরনের উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনার পরে NDRF (ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স)-এর দলগুলোকে দ্রুত মোতায়েন করা হয়েছে। এর আগেও অমিত শাহ অসম বন্যায় হিমন্তকে ফোন করে কেন্দ্রীয় সহায়তার আশ্বাস দিয়েছিলেন এবং সেই সময় সংকটকবলিত জেলাগুলোতে NDRF দ্রুত মোতায়েন করা হয়েছিল।

বরাক উপত্যকা হাইলাকান্দি — ঐতিহাসিকভাবে সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত অঞ্চল

বরাক উপত্যকা বারবার অসমের বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ২০২৫ সালে শ্রীভূমিতে ২ লক্ষ ১৮ হাজার, হাইলাকান্দিতে ১ লক্ষ ২৮ হাজার এবং কাছাড়ে ৭০ হাজারের বেশি মানুষ প্লাবিত হয়েছিলেন। এই পরিসংখ্যান থেকেই স্পষ্ট যে বরাক উপত্যকার তিনটি জেলা — শ্রীভূমি, হাইলাকান্দি এবং কাছাড়ে — প্রতি বছর বন্যার মৌসুমে চরম ঝুঁকিতে থাকে।

লালা টাউন এবং হাইলাকান্দি জেলার বাসিন্দাদের জন্য কাটাখাল ও লংগাই নদীর জলস্তর প্রতি বছর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। হাইলাকান্দিতে কাটাখাল নদী বিপৎসীমার উপরে প্রবাহিত হয়েছে এবং বরাক উপত্যকার সাথে রাজ্যের অন্যান্য অংশের সড়ক ও রেলযোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। লংগাই নদীর বাঁধে ভাঙন ধরার ঘটনা ঘটেছে এবং রাজ্য সরকার লংগাই ও শিংলা নদীর বাঁধ মেরামতে জরুরি প্রকল্প হাতে নিয়েছে।

ত্রাণ কার্যক্রম সামনের পরিস্থিতি

রাজ্য সরকার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় একাধিক ত্রাণ শিবির স্থাপন করেছে। গত বছরের পরিস্থিতিতে ১৫৬টি ত্রাণ শিবির ও ১৭২টি বিতরণ কেন্দ্র খোলা হয়েছিল, যেখানে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছিলেন। এবারও একইভাবে রাজ্য সরকার দ্রুত সাড়া দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

IMD আগামী দিনগুলোতে অসমের একাধিক জেলায়, বিশেষত হাইলাকান্দিসহ বরাক উপত্যকায়, ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস দিয়েছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিচু এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

অসম বন্যায় ২২ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার এই পরিসংখ্যান কেবল সংখ্যা নয় — এর পিছনে রয়েছে হাজার হাজার পরিবারের ঘরছাড়া হওয়ার যন্ত্রণা, ফসল হারানোর দুর্ভোগ এবং অনিশ্চিত ভবিষ্যতের আতঙ্ক। কেন্দ্রীয় সহায়তা ও রাজ্য সরকারের তৎপরতা এখন কতটা দ্রুত ও কার্যকরভাবে মাঠে পৌঁছায়, সেটাই হবে আসল পরীক্ষা।

অসম বন্যায় ২২ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত, কেন্দ্রীয় সহায়তার আশ্বাস দিলেন অমিত শাহ
Scroll to top