Read today's news --> ⚡️Click here 

অসম শিক্ষক পুরস্কার ২০২৬ পেলেন কাছাড়ের স্বস্ত্যায়ন দেব সহ ১৫ জন

জাতীয় শিক্ষক দিবস উপলক্ষে অসম সরকার শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ১৪টি জেলার ১৫ জন শিক্ষককে অসম শিক্ষক পুরস্কার ২০২৬ প্রদান করছে। রাজ্যের স্কুল শিক্ষা ক্ষেত্রে তাদের অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই পুরস্কার ৬৫তম শিক্ষক দিবস উপলক্ষে গুয়াহাটির শ্রীশ্রী দামোদরদেব ইন্টারন্যাশনাল অডিটোরিয়ামে প্রদান করা হচ্ছে ।

অসম শিক্ষক পুরস্কার ২০২৬ প্রাপকদের বিস্তারিত তালিকা

রাজ্যস্তরীয় নির্বাচন কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এবং রাজ্য সরকারের অনুমোদনক্রমে এই তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে, যা প্রকাশ করেছে অসমের মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগ থেকে নয়জন শিক্ষক এবং প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ থেকে ছয়জন শিক্ষক এই পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন ।

মাধ্যমিক বিভাগে পুরস্কার প্রাপকদের মধ্যে রয়েছেন জোরহাটের মালোআলি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রিন্সিপাল শ্যামলিমা বরাহ, কামরূপ মেট্রোপলিটনের কামাখ্যা বিদ্যালয় উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বিজন রায় ভৌমিক, এবং নলবাড়ির সরকারি গার্ডন উচ্চ বিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর শিক্ষক মানব ভারালি। প্রাথমিক বিভাগে ডিব্রুগড় জেলা থেকে দুজন শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন, যেখানে অন্য ১৩টি জেলা থেকে একজন করে শিক্ষক এই সম্মান পাচ্ছেন ।

কাছাড় জেলার শিক্ষক স্বস্ত্যায়ন দেবের বিশেষ কৃতিত্ব

বরাক উপত্যকার জন্য এই ঘোষণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো কাছাড় জেলার একজন শিক্ষকের এই সম্মানে অন্তর্ভুক্তি। কাছাড় জেলার ৫৭ নং টিকল পার টি.ই. এলপিএস-এর সহকারী শিক্ষক স্বস্ত্যায়ন দেব প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের অধীনে এই পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন ।

এই স্বীকৃতি বরাক উপত্যকার শিক্ষা ক্ষেত্রে নিবেদিত শিক্ষকদের অবদানের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগে এই ধরনের পুরস্কার সাধারণত সেইসব শিক্ষকদের দেওয়া হয় যারা প্রান্তিক ও প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষার্থীদের শিক্ষাদানে দীর্ঘমেয়াদি ও উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন।

জাতীয় শিক্ষক দিবসের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তাৎপর্য

ভারতে প্রতি বছর ৫ সেপ্টেম্বর প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ও দার্শনিক ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণানের জন্মবার্ষিকী স্মরণে জাতীয় শিক্ষক দিবস উদযাপিত হয়। ১৯৬২ সাল থেকে এই দিনটি শিক্ষক দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে, যখন রাধাকৃষ্ণান নিজেই তাঁর ছাত্র ও বন্ধুদের অনুরোধে তাঁর জন্মদিনের পরিবর্তে এই দিনটি সমস্ত শিক্ষকদের সম্মানে উদযাপনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন ।

এই বছরের শিক্ষক দিবসে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু নয়াদিল্লির বিজ্ঞান ভবনে ৪৮ জন বিদ্যালয় শিক্ষককে জাতীয় শিক্ষক পুরস্কার ২০২৬ প্রদান করছেন। জেলা, রাজ্য ও জাতীয় পর্যায়ে তিন স্তরের নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাচিত এই শিক্ষকরা ২৭টি রাজ্য, সাতটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এবং ছয়টি কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিত্ব করছেন । এই ৪৮ জন প্রাপকের মধ্যে ২৬ জন পুরুষ এবং ২২ জন নারী শিক্ষক রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে ।

রাষ্ট্রপতির বার্তা শিক্ষকদের ভূমিকার স্বীকৃতি

শিক্ষক দিবসের প্রাক্কালে প্রকাশিত এক বার্তায় রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু বলেন, “শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আমি দেশের সকল শিক্ষককে আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই।” তিনি আরও বলেন যে শিক্ষকরা কেবল জ্ঞান প্রদানই করেন না, বরং শিশুদের ব্যক্তিত্ব ও চরিত্র গঠনেও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন । তিনি প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ডঃ রাধাকৃষ্ণানকে একজন বিশিষ্ট লেখক, দার্শনিক এবং অসাধারণ শিক্ষক হিসেবে স্মরণ করে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এই প্রেক্ষাপটে অসম সরকারের রাজ্যস্তরীয় শিক্ষক পুরস্কার প্রদান একটি বৃহত্তর জাতীয় উদযাপনের অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে রাজ্য ও জাতীয় দুই স্তরেই শিক্ষকদের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে।

বরাক উপত্যকা হাইলাকান্দির জন্য এই স্বীকৃতির তাৎপর্য

কাছাড় জেলার একজন শিক্ষকের এই সম্মান প্রাপ্তি হাইলাকান্দি জেলা এবং সমগ্র বরাক উপত্যকার শিক্ষা ক্ষেত্রের জন্য একটি গর্বের বিষয়। এটি প্রমাণ করে যে, বরাক উপত্যকার প্রত্যন্ত এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতেও নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকরা রাজ্যস্তরে স্বীকৃতি পাওয়ার মতো উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে চলেছেন।

হাইলাকান্দি জেলার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য এই খবরটি একটি অনুপ্রেরণার উৎস হতে পারে, বিশেষত যখন প্রতিবেশী কাছাড় জেলার একজন প্রাথমিক শিক্ষক এই ধরনের সম্মান অর্জন করেছেন। এটি স্থানীয় শিক্ষকদের মধ্যে তাদের কাজের প্রতি আরও নিবেদিত হওয়ার প্রেরণা জাগাতে পারে এবং আগামী বছরগুলোতে হাইলাকান্দি থেকেও এই ধরনের স্বীকৃতি পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।

আগামী দিনের প্রেক্ষাপট প্রত্যাশা

এই বছরের অসম শিক্ষক পুরস্কার ২০২৬ প্রদান রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার মান উন্নয়নে নিবেদিত শিক্ষকদের প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রতি বছর এই ধরনের পুরস্কার প্রদানের মাধ্যমে রাজ্য সরকার শিক্ষকদের মধ্যে উৎকর্ষ অর্জনের প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতা তৈরি করতে চাইছে, যা দীর্ঘমেয়াদে রাজ্যের সামগ্রিক শিক্ষার মান উন্নয়নে সহায়ক হবে।

আগামী বছরগুলোতে বরাক উপত্যকা থেকে আরও বেশি শিক্ষক এই ধরনের রাজ্যস্তরীয় এবং জাতীয় স্তরের স্বীকৃতি অর্জন করেন কিনা, তার দিকেই এখন নজর থাকবে স্থানীয় শিক্ষা মহলের। কাছাড়ের স্বস্ত্যায়ন দেবের এই সাফল্য বরাক উপত্যকার শিক্ষকদের জন্য একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে দীর্ঘদিন স্মরণীয় থাকবে।

অসম শিক্ষক পুরস্কার ২০২৬ পেলেন কাছাড়ের স্বস্ত্যায়ন দেব সহ ১৫ জন
Scroll to top