Read today's news --> ⚡️Click here 

NIT শিলচর কর্মী অনশন: চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে ৫৪ জন

NIT শিলচর কর্মী অনশন শুরু করেছেন চাকরি নিয়মিতকরণের দাবিতে। কাছাড় জেলার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (NIT) প্রধান প্রশাসনিক ভবনের সামনে এই প্রতিবাদ চলছে। ৫৪ জন মাস্টার রোল কর্মী এই অনশনে অংশ নিয়েছেন। বুধবার তাদের এই আন্দোলন তৃতীয় দিনে পড়েছে। আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, চাকরি স্থায়ী না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই কর্মসূচি চলবে ।

NIT ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সদস্যরা জানিয়েছেন, কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটিতে অস্থায়ীভাবে কাজ করছেন। তাদের প্রধান দাবি হলো, গৌহাটি হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশ মেনে মাস্টার রোল কর্মীদের স্থায়ী কর্মী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া। হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়েছিল, দীর্ঘসময় ধরে কাজ করা কর্মীদের স্থায়ী করে নিয়মিত কর্মীদের মতো সব সুযোগ-সুবিধা প্রদান করতে হবে ।

৩৫ বছরের বঞ্চনা দাবি

আন্দোলনকারী কর্মীদের দাবি, তারা প্রায় ৩৫ বছর ধরে NIT শিলচরে কর্মরত। ১৯৯৩ সাল থেকে অনেকেই এই প্রতিষ্ঠানে সেবা দিচ্ছেন। কিন্তু এত বছর পেরিয়ে গেলেও তাদের চাকরির কোনো নিশ্চয়তা নেই। ইউনিয়নের এক নেতা জানান, প্রতিষ্ঠানে মোট ১২২ জন মাস্টার রোল কর্মী ছিলেন, যার মধ্যে মাত্র ২০ জনকে এ পর্যন্ত স্থায়ী করা হয়েছে। বাকিরা এখনও অস্থায়ী হিসেবে কাজ করছেন ।

কর্মীরা জানান, প্রতিদিন কাজ করলেও তাদের বেতন, ছুটি এবং চিকিৎসা সুবিধা স্থায়ী কর্মীদের তুলনায় অনেক কম। হাইকোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও NIT কর্তৃপক্ষ তা কার্যকর করতে টালবাহানা করছে। এই বঞ্চনার অবসান ঘটাতেই তারা অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশনে বসতে বাধ্য হয়েছেন ।

গৌহাটি হাইকোর্টের নির্দেশ

গৌহাটি হাইকোর্ট আগেই নির্দেশ দিয়েছিল যে, সরকারি বা আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা অস্থায়ী কর্মীদের নিয়মিত করতে হবে। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টও একই ধরনের একটি রায়ে জানিয়েছে, শুধু নিয়োগের সময় পদটি অস্থায়ী ছিল বা অনুমোদিত ছিল না—এই অজুহাতে বছরের পর বছর কাজ করা কর্মীদের স্থায়ীকরণ থেকে বঞ্চিত করা যায় না ।

আন্দোলনকারীরা এই আইনি নির্দেশিকাগুলোকেই তাদের প্রতিবাদের হাতিয়ার করেছেন। তারা বলছেন, আদালত তাদের অধিকারকে স্বীকৃতি দিলেও NIT কর্তৃপক্ষ তা বাস্তবায়নে অনীহা দেখাচ্ছে। হাইকোর্টের রায় দ্রুত কার্যকর করার দাবিতেই তাদের এই লাগাতার অবস্থান ।

স্থানীয় প্রতিক্রিয়া বরাক উপত্যকার প্রভাব

বরাক উপত্যকার অন্যতম প্রধান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান NIT শিলচর। এই প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের সমস্যা স্থানীয়ভাবেও আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। লালা টাউন, হাইলাকান্দি এবং করিমগঞ্জের অনেক মানুষ এই প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন বা পড়াশোনা করেন। কর্মীদের এই অনশন স্থানীয় নাগরিক সমাজ ও অন্যান্য সংগঠনেরও মনোযোগ আকর্ষণ করেছে ।

সম্প্রতি বরাক উপত্যকায় গৌহাটি হাইকোর্টের একটি স্থায়ী বেঞ্চ স্থাপনের দাবিতেও আন্দোলন জোরদার হয়েছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, আইনি প্রক্রিয়া ও রায় কার্যকর করার ক্ষেত্রে এই অঞ্চলের মানুষ সবসময়ই দূরত্বের কারণে ভোগান্তির শিকার হন। NIT কর্মীদের দীর্ঘদিনের আইনি লড়াইও সেই ভোগান্তিরই একটি অংশ ।

কর্তৃপক্ষের নীরবতা ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ

অনশন তৃতীয় দিনে পড়লেও NIT শিলচর কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা আশ্বাস পাওয়া যায়নি। কর্মীরা জানিয়েছেন, কর্তৃপক্ষ তাদের সঙ্গে কোনো আলোচনায় বসেনি। তবে তাদের মনোবল ভাঙেনি; দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা প্রধান প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান চালিয়ে যাবেন ।

প্রতিষ্ঠানের শান্তি ও স্বাভাবিক কাজকর্ম বজায় রাখতে কর্তৃপক্ষের দ্রুত এই সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। আদালতের নির্দেশ মেনে এই কর্মীদের চাকরি নিয়মিতকরণ করা হলে তা শুধু ৫৪টি পরিবারের জন্যই নয়, বরং প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক কর্মপরিবেশের জন্যও ইতিবাচক হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

NIT শিলচর কর্মী অনশন: চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে ৫৪ জন
Scroll to top