Read today's news --> ⚡️Click here 

কলম্বিয়া ভূমিকম্প ৭.৪ মাত্রার কম্পনে মৃত বেড়ে ১১১

কলম্বিয়া ভূমিকম্প ৭.৪ মাত্রার শক্তিশালী কম্পনে পশ্চিমাঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৩৪ মিনিটে আঘাত হানা এই ভূমিকম্পে অন্তত ১১১ জনের মৃত্যু এবং ৮৭ জনের আহত হওয়ার কথা জানিয়েছে কলম্বিয়া সরকার। ধসে পড়া ভবন ও ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির ধ্বংসস্তূপে আরও মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধারকারী দল বিভিন্ন শহরে তল্লাশি চালাচ্ছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় কলম্বিয়া সরকার জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে ।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা USGS জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল চোকো বিভাগের সান হোসে দেল পালমার এলাকার প্রায় ৫ কিলোমিটার পূর্বে। কম্পনের উৎসস্থল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০৭ কিলোমিটার গভীরে ছিল । গভীরতা বেশি হলেও কম্পনের শক্তি এতটাই প্রবল ছিল যে পশ্চিম কলম্বিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকায় তা অনুভূত হয়। রাজধানী বোগোটা ছাড়াও বিভিন্ন শহরে মানুষ আতঙ্কে ঘরবাড়ি ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন।

কোন এলাকায় বেশি ক্ষয়ক্ষতি

ভূমিকম্পে রিসারালদা, ভ্যালে দেল কাউকা, চোকো এবং আশপাশের অঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কফি উৎপাদনের জন্য পরিচিত রিসারালদা প্রদেশে অন্তত ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। প্রদেশটির দোসকেব্রাদাস শহরেও উল্লেখযোগ্য প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির খবর এসেছে । ভ্যালে দেল কাউকা অঞ্চলে তিন শিশুসহ অন্তত ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য উদ্ধৃত করে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে ।

সরকারি প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ১,৫৭৫টি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৬১টি ভবন সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ধসে পড়েছে বলে সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে। ১৮টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ৫২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ১৮টি সড়ক এবং কয়েকটি বিমানবন্দরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে । পেরেইরা, মানিজালেস, কুইবদো, আরমানিয়া, কার্তাগো ও বুয়েনাভেন্তুরার বিমানবন্দরগুলিতে কম্পনের প্রভাব পড়ায় বিমান চলাচলও ব্যাহত হয়েছে বলে জানা গেছে ।

শহর ও গ্রাম—দুই এলাকাতেই বাড়িঘরের দেওয়াল ফেটে যাওয়া, ছাদ ভেঙে পড়া এবং বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিঘ্নের খবর এসেছে। ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলিতে মানুষ ঢুকতে ভয় পাচ্ছেন, কারণ পরাঘাতের কারণে দুর্বল কাঠামো আরও ভেঙে পড়তে পারে।

ধ্বংসস্তূপে উদ্ধার অভিযান

ভূমিকম্পের পরপরই জাতীয় ও স্থানীয় উদ্ধারকারী দল ধসে পড়া ভবনগুলিতে তল্লাশি শুরু করে। বাসিন্দারাও অনেক জায়গায় উদ্ধারকর্মীদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজে অংশ নেন। আটকে পড়া ব্যক্তিদের মোবাইল ফোনের সংকেত, শব্দ এবং ভবনের কাঠামো বিশ্লেষণ করে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে, কারণ কিছু এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।

প্রথমদিকে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা প্রায় ১,৯০০ বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল। পরবর্তী সরকারি আপডেটে মৃতের সংখ্যা ১১১ এবং আহতের সংখ্যা ৮৭ জানানো হয়েছে, তবে নিখোঁজদের সঠিক সংখ্যা নিয়ে এখনও সম্পূর্ণ স্পষ্টতা নেই । উদ্ধারকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত হতাহতের চূড়ান্ত হিসাব প্রকাশ করা সম্ভব হবে না। পরিবারগুলি হাসপাতাল, আশ্রয়কেন্দ্র ও প্রশাসনিক দপ্তরে স্বজনদের খোঁজ করছেন।

কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা জাতীয় ভাষণে মৃত ও আহতদের সংখ্যা জানিয়ে উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন । নতুন প্রেসিডেন্টের শপথ নেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রশাসনের ওপর বড় চাপ তৈরি হয়েছে। সরকার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় চিকিৎসা, আশ্রয়, খাদ্য ও নিরাপত্তা সহায়তা পাঠাচ্ছে।

আফটারশক সতর্কতা

ভূমিকম্পের পর সোমবার দিন শেষ হওয়া পর্যন্ত অন্তত ২১টি আফটারশক অনুভূত হয়েছে বলে কলম্বিয়ার ভূতাত্ত্বিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে । মূল কম্পনের পর দুর্বল ভবনে প্রবেশ না করা, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ পরীক্ষা না করে চালু না করা এবং প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বহু মানুষ রাতেও বাড়িতে ফিরতে অস্বীকার করেছেন, কারণ পরবর্তী কম্পনের আশঙ্কা রয়েছে ।

ভূমিকম্পের কেন্দ্র অপেক্ষাকৃত কম জনবসতিপূর্ণ এলাকায় হলেও ক্ষয়ক্ষতি বহু অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। এর কারণ হিসেবে গভীর কম্পনের শক্তি, দুর্বল ভবন কাঠামো এবং পাহাড়ি এলাকার যোগাযোগ-সমস্যাকে বিশেষজ্ঞরা গুরুত্ব দিচ্ছেন। তবে ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত কারণ জানতে বিস্তারিত প্রকৌশলগত সমীক্ষা প্রয়োজন হবে।

আসাম বরাক উপত্যকার জন্য শিক্ষা

কলম্বিয়া ভূমিকম্প ৭.৪-এর ঘটনা আসাম ও বরাক উপত্যকার মানুষের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। কাছাড়, হাইলাকান্দি ও করিমগঞ্জে বহু বাড়ি পুরনো, আবার কিছু এলাকায় পাহাড়ি ঢাল, নদী ও নরম মাটির কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি রয়েছে। লালা টাউনের বাসিন্দাদেরও বাড়ির কাঠামো, বৈদ্যুতিক সংযোগ এবং জরুরি বেরোনোর পথ নিয়মিত পরীক্ষা করা উচিত।

ভূমিকম্পের সময় লিফট ব্যবহার না করে মজবুত টেবিলের নিচে আশ্রয় নেওয়া, জানালা ও ভারী আলমারি থেকে দূরে থাকা এবং কম্পন থামার পর খোলা জায়গায় যাওয়া জরুরি। পরিবারে জরুরি যোগাযোগ নম্বর, প্রাথমিক চিকিৎসার বাক্স, টর্চ ও পানীয় জল প্রস্তুত রাখা যেতে পারে। স্কুল, বাজার ও সরকারি ভবনগুলিতে নিয়মিত মহড়া চালালে আতঙ্ক কমিয়ে দ্রুত উদ্ধারকাজ করা সম্ভব হয়।

কলম্বিয়া ভূমিকম্প ৭.৪-এর পর এখন নজর রয়েছে নিখোঁজদের সন্ধান, ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের নিরাপত্তা যাচাই এবং দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের দিকে। উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত ও আহতের সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির জন্য দ্রুত চিকিৎসা, আশ্রয় এবং আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করাই কলম্বিয়া সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার।

কলম্বিয়া ভূমিকম্প ৭.৪ মাত্রার কম্পনে মৃত বেড়ে ১১১
Scroll to top