Read today's news --> ⚡️Click here 

কাছাড় কারখানা বিস্ফোরণ ক্ষতিপূরণ: চার শ্রমিকের মৃত্যুতে ঘোষণা

কাছাড় কারখানা বিস্ফোরণ ক্ষতিপূরণ নিয়ে বড় ঘোষণা করলেন অসম সরকারের মন্ত্রী কৌশিক রায়। রবিবার, ২৬ জুলাই সকাল প্রায় ১১টা ৩ মিনিট নাগাদ কাছাড় জেলার উধারবন্দ থানার অন্তর্গত পাংগ্রাম এলাকায় একটি লোহা ঢালাই কারখানায় বিস্ফোরণ ঘটে, যাতে চার জন শ্রমিকের মৃত্যু হয় । ঘটনাস্থলে পৌঁছে অসমের আবাসন ও নগর উন্নয়ন মন্ত্রী কৌশিক রায় জানান, মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা প্রত্যেক মৃত শ্রমিকের পরিবারের জন্য ৫ লক্ষ টাকা অন্তর্বর্তী ক্ষতিপূরণ অনুমোদন করেছেন ।

পাংগ্রামে বিস্ফোরণ কীভাবে ঘটল

ঘটনাটি ঘটে Kade Global Infrastructure LLP এবং IRID Casting Works LLP-র যুগ্ম চত্বরে, যা পাংগ্রামে উধারবন্দ থানার আওতায় পড়ে । কারখানার ভেতরে ধাতু গলানোর সময় আকস্মিক বিস্ফোরণ ঘটে, যার আওয়াজ আশপাশের এলাকা থেকেও শোনা গিয়েছিল বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন । মন্ত্রী কৌশিক রায় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “বিস্ফোরণের সঠিক কারণ এখনও নির্ধারিত হয়নি। বর্তমানে চার স্তরের তদন্ত চলছে” ।

কাছাড় কারখানা বিস্ফোরণ ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি প্রশাসনিক জবাবদিহিও এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে। মন্ত্রী রায় জানান, ঘটনার তদন্তে একটি ম্যাজিস্ট্রেট তদন্ত, পুলিশি তদন্ত এবং জেলা শ্রম আয়ুক্তের পক্ষ থেকে পৃথক তদন্ত—এই তিন স্তরের পাশাপাশি চতুর্থ একটি তদন্তও চালানো হচ্ছে, যার মাধ্যমে বাধ্যতামূলক শ্রমিক সুরক্ষা নিয়ম মানা হয়েছিল কিনা তা যাচাই করা হবে ।

ক্ষতিপূরণের পরিমাণ কোম্পানির দায়

সরকারি ৫ লক্ষ টাকার ক্ষতিপূরণের বাইরে মন্ত্রী কৌশিক রায় স্পষ্ট করে দেন, কোম্পানি কর্তৃপক্ষকেও নিহতদের পরিবারকে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য বলা হবে । এই ঘোষণা অসম সরকারের সাম্প্রতিক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে শিল্প দুর্ঘটনায় মৃত শ্রমিকদের পরিবারকে দ্রুত অন্তর্বর্তী সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানকেও দায় নিতে বাধ্য করা হয়।

এর আগেও একই ধরনের ঘটনায় মন্ত্রী কৌশিক রায় সরাসরি জড়িত ছিলেন। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দিমা হাসাও জেলার উমরাংশোতে কয়লাখনি দুর্ঘটনায় মৃত চার শ্রমিকের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ বিতরণ করেছিলেন তিনি, যার মধ্যে ৬ লক্ষ টাকা এসেছিল মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ কোষ থেকে এবং ৪ লক্ষ টাকা অসম রাজ্য বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (ASDMA) থেকে । সেই সময় তিনি বলেছিলেন, “কোনো ক্ষতিপূরণই একটি জীবনের মূল্য পূরণ করতে পারে না, কিন্তু এই সহায়তা শোকার্ত পরিবারগুলোকে কিছুটা স্বস্তি ও সহমর্মিতা দেওয়ার চেষ্টা মাত্র” ।

বরাক উপত্যকা হাইলাকান্দির জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ

কাছাড় কারখানা বিস্ফোরণ ক্ষতিপূরণের এই ঘটনাটি হাইলাকান্দি জেলার বাসিন্দাদের জন্য বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ পাংগ্রাম ও উধারবন্দ এলাকা কাছাড় জেলার অন্তর্গত হলেও তা হাইলাকান্দি ও লালা টাউনের একেবারে কাছাকাছি এবং একই বরাক উপত্যকা অঞ্চলের অংশ। অনেক শ্রমিক হাইলাকান্দি ও লালা টাউন থেকে কাজের জন্য শিলচর, উধারবন্দ ও আশপাশের ছোট-বড় শিল্প ইউনিটে যান। ফলে এই ধরনের কারখানা দুর্ঘটনা কেবল কাছাড়ের সমস্যা নয়, বরং পুরো বরাক অঞ্চলের শ্রমজীবী পরিবারের সুরক্ষা সংক্রান্ত একটি সতর্কবার্তা।

এর আগে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে মেঘালয়ের একটি অবৈধ কয়লাখনি বিস্ফোরণে মৃত ১৮ জন শ্রমিকের মধ্যে ৬ জনই ছিলেন কাছাড়ের কাটিগড়ার বাসিন্দা, যাদের পরিবারকেও মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ৫ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছিলেন এবং স্থানীয় বিধায়ক কমলাক্ষ্য দে পুরকায়স্থকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কাছে পাঠিয়েছিলেন । এই ঘটনাগুলো একসাথে দেখলে স্পষ্ট হয়, বরাক উপত্যকার শ্রমজীবী মানুষ প্রায়ই নিরাপত্তাহীন কর্মপরিবেশে কাজ করতে বাধ্য হন, তা কারখানা হোক বা খনি। কাছাড় কারখানা বিস্ফোরণ ক্ষতিপূরণের ঘোষণা তাৎক্ষণিক স্বস্তি দিলেও, চার স্তরের তদন্তের ফলাফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার আসল কারণ এবং দায় স্পষ্ট হবে না। আগামী দিনে ম্যাজিস্ট্রেট তদন্ত ও শ্রম আয়ুক্তের রিপোর্টের দিকে নজর রাখা জরুরি, কারণ তার ভিত্তিতেই ঠিক হবে কারখানার নিরাপত্তা নিয়ম ভাঙা হয়েছিল কিনা এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে বরাক উপত্যকার শিল্প ইউনিটগুলোতে কী নতুন সুরক্ষা নীতি প্রয়োজন।

কাছাড় কারখানা বিস্ফোরণ ক্ষতিপূরণ: চার শ্রমিকের মৃত্যুতে ঘোষণা
Scroll to top