Read today's news --> ⚡️Click here 

মন্ত্রী কৌশিক রায়ের উদ্যোগে লক্ষ্মীপুরে এইচএসএলসি সাজেশন বই বিতরণ ২,২০০ শিক্ষার্থী

লক্ষ্মীপুর কেন্দ্রের সরকারি স্কুলগুলোর প্রায় ২,২০০ জন শিক্ষার্থীর জন্য ২০২৭ সালের এইচএসএলসি পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সাজেশন বই বিতরণ কর্মসূচি শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে সূচনা করলেন অসম সরকারের খাদ্য ও গণবণ্টন, গৃহনির্মাণ ও নগর বিষয়ক এবং সমবায় মন্ত্রী কৌশিক রায়। লক্ষ্মীপুরের নেহরু উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “কঠোর পরিশ্রম ছাড়া সাফল্যের কোনো শর্টকাট নেই। যারা কঠোর পরিশ্রম করবে, তারা অবশ্যই ভালো ফল পাবে” ।

লক্ষ্মীপুরে এইচএসএলসি সাজেশন বই বিতরণের বিস্তারিত পরিকল্পনা

মন্ত্রী কৌশিক রায় জানান যে, শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করে এবং তাদের পরামর্শ নিয়েই এই উদ্যোগের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক প্রয়োজনীয়তা যথাযথভাবে পূরণ করা যায়। নেহরু উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু হওয়া এই বিতরণ কর্মসূচি আগামী দিনগুলোতে লক্ষ্মীপুরের সমস্ত সরকারি স্কুলে সম্পন্ন করা হবে, এবং বাকি সাজেশন বইগুলো আগামী সপ্তাহের মধ্যে বিভিন্ন স্কুলে পৌঁছে দেওয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছেন ।

মন্ত্রী রায় উল্লেখ করেন যে, আজকের শিক্ষার্থীরা একটি ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে পরীক্ষা দিচ্ছে এবং তাদের মূল্যায়ন পদ্ধতির পরিবর্তিত ধারা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা নিয়ে প্রস্তুতি নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। তিনি বলেন, “বিভাগ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত নয়। শিক্ষার্থীদের এমনভাবে প্রস্তুত হতে হবে যাতে তারা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সফলভাবে মুখোমুখি হতে পারে” ।

লক্ষ্মীপুরে উচ্চ শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ দক্ষতা উন্নয়ন

মন্ত্রী কৌশিক রায় লক্ষ্মীপুরে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের কথাও উল্লেখ করেন, জানিয়ে যে কেন্দ্রে এখন একটি মডেল ডিগ্রি কলেজ এবং একটি ল কলেজ রয়েছে। কেআরসি টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, লক্ষ্মীপুরে নির্মাণাধীন এই কলেজের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে এবং ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে ক্লাস শুরু হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে ।

মন্ত্রী আরও ঘোষণা করেন যে, আগামী বছর লক্ষ্মীপুরে বিনামূল্যে এমবিবিএস কোচিং চালু করা হবে, যা শিক্ষার্থীদের বাইরের ব্যয়বহুল কোচিং সুবিধার উপর সম্পূর্ণভাবে নির্ভর না করেই নিট পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ দেবে। এছাড়াও আগামী বছরের প্রথমার্ধে লক্ষ্মীপুরে একটি এপিএসসি কোচিং সেন্টারও চালু করা হবে এবং শীঘ্রই এডিআরই কোচিং ক্লাসও শুরু হবে বলে তিনি জানিয়েছেন ।

সরকারি চাকরিতে মেধাভিত্তিক নিয়োগের প্রতিশ্রুতি

কর্মসংস্থানের প্রসঙ্গে মন্ত্রী রায় জানান যে, মুখ্যমন্ত্রী ডঃ হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নেতৃত্বে রাজ্য সরকার গত পাঁচ বছরে মেধার ভিত্তিতে প্রায় ১.৬০ লক্ষ চাকরিপ্রার্থীকে সরকারি নিয়োগ প্রদান করেছে। তিনি বলেন, “সরকারি চাকরিতে কোনো ব্যাকডোর প্রবেশের সুযোগ নেই। কোনো বিধায়ক বা মন্ত্রীর মাধ্যমে কোনো চাকরি দেওয়া হবে না। শিক্ষার্থীর মেধাই তাকে চাকরি পাইয়ে দেবে” ।

মন্ত্রী শিক্ষার্থীদের অনুশাসন ও দৃঢ় সংকল্প নিয়ে নিজেদের প্রস্তুত করার আহ্বান জানান। তিনি আরও জানান যে, মুখ্যমন্ত্রী আগামী পাঁচ বছরে আরও দুই লক্ষ চাকরিপ্রার্থীকে সরকারি চাকরি প্রদানের পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছেন, যা রাজ্যের যুব সমাজের জন্য একটি বড় সুযোগ তৈরি করবে।

নিজুট মৈনা নিজুট বাবু প্রকল্পের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ

মন্ত্রী কৌশিক রায় মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন কন্যা শিক্ষার্থীদের জন্য নিজুট মৈনা এবং পুত্র শিক্ষার্থীদের জন্য নিজুট বাবু প্রকল্প প্রবর্তনের জন্য, যা শিক্ষা ক্ষেত্রে অগ্রসর হওয়া যুবক-যুবতীদের জন্য অতিরিক্ত সহায়তার সুযোগ তৈরি করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই দুটি প্রকল্পের অধীনে রাজ্যের প্রায় ৭ লক্ষ শিক্ষার্থী উপকৃত হচ্ছেন, যেখানে উচ্চ মাধ্যমিক ছাত্রীরা মাসে ৮০০ টাকা, স্নাতক পর্যায়ের ছাত্রীরা ১,২৫০ টাকা এবং স্নাতকোত্তর ছাত্রীরা ২,৫০০ টাকা আর্থিক সহায়তা পাচ্ছেন ।

এই বছর নিজুট বাবু প্রকল্পের সুবিধাভোগীর সংখ্যা ৫০,০০০ থেকে বাড়িয়ে ১.২০ লক্ষে উন্নীত করা হয়েছে, যেখানে স্নাতক পর্যায়ের ছাত্ররা মাসে ১,০০০ টাকা এবং স্নাতকোত্তর ছাত্ররা ২,০০০ টাকা সহায়তা পাচ্ছেন । এই প্রকল্পগুলো লক্ষ্মীপুরসহ সমগ্র বরাক উপত্যকার শিক্ষার্থীদের জন্যও প্রাসঙ্গিক, যারা উচ্চশিক্ষা অর্জনে আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন।

হাইলাকান্দি বরাক উপত্যকার শিক্ষার্থীদের জন্য এই উদ্যোগের তাৎপর্য

লক্ষ্মীপুর কাছাড় জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা কেন্দ্র এবং বরাক উপত্যকার শিক্ষা ব্যবস্থার একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়। মন্ত্রী কৌশিক রায়ের এই উদ্যোগ থেকে হাইলাকান্দি জেলার শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরাও একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা নিতে পারেন—সরকারি স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত শিক্ষামূলক সহায়তা প্রদান করলে তা পরীক্ষার প্রস্তুতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষত অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য।

যদি হাইলাকান্দি জেলার বিধায়করাও অনুরূপ উদ্যোগ গ্রহণ করেন, তবে এটি স্থানীয় সরকারি স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। লক্ষ্মীপুরে চালু হতে যাওয়া বিনামূল্যে এমবিবিএস কোচিং ও এপিএসসি কোচিং সেন্টারের মতো উদ্যোগও হাইলাকান্দির শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনুকরণীয় মডেল হতে পারে।

আগামী দিনের পরিকল্পনা প্রত্যাশা

মন্ত্রী কৌশিক রায় আগামী পাঁচ বছরের জন্য লক্ষ্মীপুরের বৃহত্তর অগ্রাধিকারের কথাও জানিয়েছেন, বলেছেন যে বিধায়ক ও মন্ত্রী হিসেবে তিনি সড়ক, অবকাঠামো ও অন্যান্য ভৌত উন্নয়ন প্রকল্পের পাশাপাশি মানবসম্পদ উন্নয়নেও অধিক গুরুত্ব দেবেন। যুবসমাজের দক্ষতা, জ্ঞান ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করা কেন্দ্রের উন্নয়ন এজেন্ডার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ভাষণের সমাপ্তিতে মন্ত্রী রায় ৫ সেপ্টেম্বর শিক্ষক দিবস উপলক্ষে শিক্ষকদের প্রতি শুভেচ্ছা জানান এবং শিক্ষার্থীদের একাডেমিক যাত্রায় তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার স্বীকৃতি দেন। আগামী দিনগুলোতে এই সাজেশন বই বিতরণ কর্মসূচি লক্ষ্মীপুরের শিক্ষার্থীদের ২০২৭ সালের এইচএসএলসি পরীক্ষায় কতটা সহায়ক প্রমাণিত হয়, তার দিকেই এখন নজর থাকবে স্থানীয় শিক্ষা মহলের।

মন্ত্রী কৌশিক রায়ের উদ্যোগে লক্ষ্মীপুরে এইচএসএলসি সাজেশন বই বিতরণ ২,২০০ শিক্ষার্থী
Scroll to top