Read today's news --> ⚡️Click here 

অসম পুলিশে ২০ হাজার নিয়োগ, বরাক উপত্যকায় মাদক দমনে কড়া নির্দেশ

আগামী পাঁচ বছরে অসম পুলিশে ১৫,০০০ থেকে ২০,০০০ নতুন কর্মী নিয়োগ করার লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী ডঃ হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর গোলাঘাট জেলার ডেরগাঁওয়ে অবস্থিত লাচিত বরফুকন পুলিশ একাডেমি (LBPA)-তে ৪০৩ জন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মীর পাসিং আউট প্যারেড অনুষ্ঠানে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি এই ঘোষণা করেন বলে জানানো হয়েছে ।

অসম পুলিশে ২০ হাজার নিয়োগের মাধ্যমে জিরো ভ্যাকেন্সি ফোর্স গঠনের লক্ষ্য

মুখ্যমন্ত্রী শর্মা বলেন, “আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দুই লক্ষ যুবক-যুবতীকে সরকারি চাকরি প্রদানের অসম সরকারের সিদ্ধান্তের অধীনে, আমি নিশ্চিত যে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আমরা আরও ১৫,০০০ থেকে ২০,০০০ পুলিশ কর্মী নিয়োগ করতে সক্ষম হব” । তিনি জানান যে, গত পাঁচ বছরে ন্যায্য ও মেধাভিত্তিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রায় ২১,০০০ পুলিশ অফিসার ও কনস্টেবল নিয়োগ করা হয়েছে, যা অসম পুলিশকে একটি “যুব-নেতৃত্বাধীন বাহিনী”-তে রূপান্তরিত করেছে।

মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান যে, সরকার অসম পুলিশকে একটি “জিরো ভ্যাকেন্সি” বাহিনীতে পরিণত করার লক্ষ্যে কাজ করছে। তিনি বলেন, “আমরা অসম পুলিশকে একটি জিরো ভ্যাকেন্সি ফোর্সে রূপান্তরিত করার দিকে এগিয়ে যাচ্ছি, নিয়োগের জন্য কোনো পদ শূন্য রাখা হবে না” । এই একাডেমি এখন পর্যন্ত প্রায় ২১,০০০ প্রশিক্ষিত পুলিশ অফিসার ও কর্মী তৈরি করেছে এবং এটি জাতীয় পর্যায়ের প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে উন্নীত হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে ।

অপরাধ নিয়ন্ত্রণ মাদক বিরোধী অভিযানে অগ্রগতি

অপরাধ নিয়ন্ত্রণের প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শর্মা দাবি করেন যে, অসম উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে, যেখানে অপরাধের হার প্রতি লক্ষ জনসংখ্যায় ২০২১ সালের ৩৭৯ থেকে কমে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ১১৬-তে নেমে এসেছে। তিনি জানান যে, নথিভুক্ত মামলার সংখ্যা ১,৩৩,২৩৯ থেকে কমে প্রায় ২৫,০০০-এ দাঁড়িয়েছে, যেখানে চার্জশিট দাখিলের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৬.৮৫ শতাংশ এবং দোষী সাব্যস্তকরণের হার প্রায় ৩০ শতাংশে পৌঁছেছে ।

মাদক বিরোধী অভিযানের প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, গত পাঁচ বছরে অসম পুলিশ ৩,২৫৪ কোটি টাকা মূল্যের মাদক জব্দ করেছে এবং ২৬,৫৩৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে, যেখানে মাদক সংক্রান্ত মামলায় দোষী সাব্যস্তকরণের হার পৌঁছেছে ৫৭ শতাংশে। টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী অরুণাচল প্রদেশের চাংলাং হয়ে অসমের তিনসুকিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত একটি নতুন মাদক পাচার রুট শনাক্ত হওয়ার কথাও জানিয়েছেন ।

বরাক উপত্যকায় মাদক বিরোধী অভিযান জোরদারের নির্দেশ

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা স্পষ্টভাবে পুলিশ বাহিনীকে বরাক উপত্যকা, গোলাঘাট, শিবসাগর, তিনসুকিয়া এবং ডিব্রুগড়ে মাদক বিরোধী অভিযান আরও জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন বলে আসাম ট্রিবিউন জানিয়েছে । এই নির্দেশ থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, রাজ্য সরকার বরাক উপত্যকাকে মাদক পাচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংবেদনশীল অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং এখানে বিশেষ নজরদারি ও অভিযান পরিচালনার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে।

মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এসেছে যখন তিনি “নারী শক্তির” নিরাপত্তার প্রতি “জিরো টলারেন্স” নীতি গ্রহণেরও আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ লেখেন, “আমাদের নারী শক্তির নিরাপত্তা নিয়ে কোনো আপস হবে না। অপরাধী যেই হোক না কেন, আমাদের আইন তাকে ধরবে। নারীদের বিরুদ্ধে অপরাধে আমাদের একটাই নীতি: জিরো টলারেন্স” । তিনি বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহের বিরুদ্ধে পুলিশকে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ারও আহ্বান জানান।

দুই দিনব্যাপী এসএসপি সম্মেলন ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

পাসিং আউট প্যারেড অনুষ্ঠানের পরপরই মুখ্যমন্ত্রী শর্মা ডেরগাঁওয়ে সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ (SSP)-দের নিয়ে দুই দিনব্যাপী একটি সম্মেলন শুরু করেন। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর এটিই প্রথম এই ধরনের সম্মেলন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বুধবার ও বৃহস্পতিবার, আইনশৃঙ্খলা, নতুন নিয়োগ, মাদক, নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে অপরাধ এবং অন্যান্য বিষয়ে আমি তাদের সাথে আলোচনা করব” ।

৩২ জন ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ ৫২ সপ্তাহের মৌলিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে লাচিত বরফুকন পুলিশ একাডেমিতে দুই সপ্তাহের ওরিয়েন্টেশন এবং মেঘালয়ের নর্থ ইস্টার্ন পুলিশ একাডেমিতে দুই মাসের বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ। এই প্রশিক্ষণে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা, পকসো আইন এবং এনডিপিএস আইনের মতো আইন, পাশাপাশি সাইবার ক্রাইম ও ফরেনসিক সায়েন্স সম্পর্কিত মডিউলও অন্তর্ভুক্ত ছিল ।

হাইলাকান্দি বরাক উপত্যকার নিরাপত্তায় সম্ভাব্য প্রভাব

হাইলাকান্দি জেলা এবং ললা টাউনের বাসিন্দাদের জন্য এই ঘোষণাগুলো বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি বরাক উপত্যকায় মাদক বিরোধী অভিযান জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন। বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরেই মাদক পাচারের ঝুঁকি রয়েছে, এবং এই নতুন নির্দেশনা স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনে উৎসাহিত করবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

এছাড়াও, আগামী পাঁচ বছরে ২০,০০০ নতুন পুলিশ নিয়োগের এই পরিকল্পনা বরাক উপত্যকার যুবক-যুবতীদের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে। স্থানীয় থানাগুলোতে জনবল বৃদ্ধি পেলে হাইলাকান্দি জেলার নিরাপত্তা ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী হবে, যা সামগ্রিকভাবে অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে সহায়ক হবে।

আগামী দিনের প্রত্যাশা পর্যবেক্ষণ

লাচিত বরফুকন পুলিশ একাডেমিকে জাতীয় পর্যায়ের একটি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শর্মা। ইন্ডিয়া টুডে এনই-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে অসম, মণিপুর ও গোয়াসহ একাধিক রাজ্যের পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা এই একাডেমিতে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছেন । এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে অসমকে উত্তর-পূর্ব ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ পুলিশ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে।

দুই দিনব্যাপী এসএসপি সম্মেলনের ফলাফল এবং তার ভিত্তিতে গৃহীত নীতিগত সিদ্ধান্তসমূহ আগামী দিনগুলোতে রাজ্যের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে কী প্রভাব ফেলে, তার দিকেই এখন নজর থাকবে সবার। বরাক উপত্যকাসহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে মাদক বিরোধী অভিযানের এই নতুন উদ্যোগ কতটা কার্যকর প্রমাণিত হয়, তা নির্ভর করবে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের বাস্তবায়ন ক্ষমতার উপর।

অসম পুলিশে ২০ হাজার নিয়োগ, বরাক উপত্যকায় মাদক দমনে কড়া নির্দেশ
Scroll to top