Read today's news --> ⚡️Click here 

সোণাপুর বাস দুর্ঘটনায় অল্প প্রাণে রক্ষা ২৫ যাত্রী

গুয়াহাটি থেকে হাফলং যাওয়া একটি রাতের বাস শনিবার ভোরে সোণাপুরে দুর্ঘটনায় পড়েছে, যেখানে প্রায় ২৫ জন যাত্রী অল্প প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন। রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ভোরে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে, যখন বাস চালক বিপরীত দিক থেকে আসা একটি গাড়িকে এড়ানোর চেষ্টা করছিলেন এবং নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মধ্যবর্তী বিভাজকে থাকা একটি গাছে ধাক্কা মারেন । এই দুর্ঘটনা এনএইচ-২৭-এর সোণাপুর-খেত্ৰী সড়ক অংশে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে, যেখানে গত কয়েক সপ্তাহে একাধিক মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটেছে।

সোণাপুর বাস দুর্ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনাটি ঘটে যখন বাসটি বিপরীত দিক থেকে আসা একটি গাড়িকে এড়ানোর চেষ্টা করে। চালক হঠাৎ স্টিয়ারিং ঘোরানোর ফলে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মধ্যবর্তী বিভাজকে লাগানো গাছটিতে ধাক্কা মারে । বাসটিতে তখন প্রায় ২৫ জন যাত্রী ছিলেন, এবং সবাই অল্প প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন বলে প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। কোনো বড় ধরনের হতাহতের খবর এখনও পাওয়া যায়নি, তবে যাত্রীদের মধ্যে কিছু আহতের খবর থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসন ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ চালান এবং আহত যাত্রীদের প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। বাসটি গুয়াহাটি থেকে হাফলং যাচ্ছিল, যা দিমা হাসাও জেলার (পূর্বে উত্তর কাছাড় পার্বত্য জেলা) সদর শহর। হাফলং হাইলাকান্দি জেলার লালা টাউন থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত, এবং গুয়াহাটি-হাফলং রুটটি বরাক উপত্যকার যাত্রীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগকারী সড়ক।

এনএইচ-২৭-এর সোণাপুর-খেত্ৰী সড়কে একাধিক দুর্ঘটনা

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে এনএইচ-২৭-এর সোণাপুর-খেত্ৰী সড়ক অংশে একাধিক মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটেছে, যা এই রুটটিকে একটি দুর্ঘটনা-প্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ১ সেপ্টেম্বর সকালে ধেমাজি থেকে লখিমপুর যাওয়া ‘আজিবা’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাস খেত্ৰীতে দুর্ঘটনায় পড়ে, যা জাতীয় সড়কের খারাপ অবস্থার বিষয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করে । এর ঠিক একদিন আগে, ৩০ আগস্ট, একই সড়কে একটি যাত্রীবাহী ট্রাভেলার ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে সাতজন নিহত হয়েছিল।

৩০ আগস্টের দুর্ঘটনায় ছয়জন নিহত ও তিনজন আহত হয়েছিল, যেখানে একটি গর্তে পড়ে ট্রাভেলারটির টায়ার ফেটে যাওয়ার পর চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা ট্রাকের সাথে ধাক্কা খায় । এই দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন নাজিরখাট টোল প্লাজায় কাজ বন্ধ করে দিয়ে প্রতিবাদ জানায় এবং সড়ক মেরামতের দাবি তোলে।

মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তের এনএইচএআই-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ

এই ধারাবাহিক দুর্ঘটনার পর আসামের মুখ্যমন্ত্রী ডঃ হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এনএইচএআই-এর বিরুদ্ধে সড়ক রক্ষণাবেক্ষণে অবহেলার অভিযোগ তোলেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “জনসাধারণ দাবি করেছিলেন যে জাতীয় সড়কের গর্তগুলি এই দুর্ঘটনার কারণ। পুলিশ তাদের তদন্তে দেখেছে যে এনএইচএআই-এর খারাপ রক্ষণাবেক্ষণ এই দুর্ঘটনার জন্য দায়ী” । তিনি জানান যে এনএইচএআই সড়ক রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব একটি ঠিকাদারকে দিয়েছিল, যিনি কাজটি সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে পারেননি।

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন যে দুর্ঘটনায় জড়িত যানবাহনের গতিবেগও তদন্তের অংশ হওয়া উচিত, কারণ মনে হচ্ছে গাড়িটি অত্যধিক গতিতে চলছিল । তিনি দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, “গাড়িটি বিভাজক পার করে সড়কের অন্য পাশে চলে গিয়েছিল, এবং এর পেছনের পরিস্থিতিগুলি তদন্ত করা প্রয়োজন” । মুখ্যমন্ত্রী নিহতদের পরিবারকে পাঁচ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণেরও ঘোষণা দিয়েছেন।

কংগ্রেস নেতা গৌরব গগৈয়ের কড়া সমালোচনা

কংগ্রেস নেতা গৌরব গগৈ এই দুর্ঘটনার পর আসামের জাতীয় সড়কগুলির অবস্থার কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “টোল টাকা বিনিময়ে আমরা গর্ত, আঘাত এবং দুর্ঘটনা পাচ্ছি” । তাঁর এই মন্তব্য ৩০ আগস্টের মারাত্মক দুর্ঘটনার একদিন পরে আসে, যেখানে ছয়জন নিহত হয়েছিল। গগৈ সড়ক নিরাপত্তা, টোল সংগ্রহ এবং ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক অংশে অবহেলার বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় সংগঠন ও জনসাধারণ জাতীয় সড়ক মেরামতের দাবিতে সোণাপুর টোল গেটে প্রতিবাদ জানায় এবং টোল সংগ্রহ বন্ধ রাখার দাবি তোলে । পুলিশ এই প্রতিবাদের সময় একজন ছাত্র নেতাকে আটক করে, যিনি প্রতিবাদকারীদের উসকানি দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত ছিলেন।

হাইলাকান্দি বরাক উপত্যকার যাত্রীদের জন্য এর তাৎপর্য

হাফলং দিমা হাসাও জেলার সদর শহর হলেও, গুয়াহাটি-হাফলং রুটটি হাইলাকান্দি ও বরাক উপত্যকার যাত্রীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। লালা টাউন ও হাইলাকান্দির বাসিন্দারা প্রায় এই রুট ব্যবহার করেন গুয়াহাটি বা উত্তর-পূর্বের অন্যান্য শহরে যাওয়ার জন্য। সোণাপুর-খেত্ৰী সড়ক অংশে এই ধারাবাহিক দুর্ঘটনা স্থানীয় যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি করেছে, বিশেষত যখন রাতের বেলায় ভ্রমণ করতে হয়।

জাতীয় সড়কের রক্ষণাবেক্ষণে অবহেলা কেবল দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায় না, বরং টোল দানকারী যাত্রীদের নিরাপদ ভ্রমণের অধিকারকেও লঙ্ঘন করে । হাইলাকান্দি জেলার যাত্রীদের জন্য এই বিষয়টি বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক, কারণ তাঁরা প্রায়শই দীর্ঘ দূরত্বের রাতের যাত্রা করেন এবং খারাপ সড়ক অবস্থার ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে থাকেন।

আগামী দিনের পরিকল্পনা প্রত্যাশা

জেলা প্রশাসন ইতিমধ্যে এনএইচএআই-কে সাত দিনের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক অংশ মেরামতের নির্দেশ দিয়েছে। রেডিফ.কমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় সংগঠন ও জনসাধারণ দাবি করেছেন যে সড়কটি মেরামত না হওয়া পর্যন্ত টোল সংগ্রহ বন্ধ রাখা উচিত । মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা অবশ্য টোল সংগ্রহ নিয়ে বিতর্ককে “অপ্রয়োজনীয়” বলে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন যে টোল রাজস্ব বড় প্রকল্পের জন্য ব্যবহৃত হয় ।

সোণাপুর বাস দুর্ঘটনায় কোনো বড় হতাহত না হওয়ায় যাত্রীরা অল্প প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন, কিন্তু এই ঘটনাটি এনএইচ-২৭-এর সোণাপুর-খেত্ৰী সড়ক অংশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুতর ত্রুটি উন্মোচন করেছে। হাইলাকান্দি ও বরাক উপত্যকার যাত্রীদের জন্য এই সড়ক অংশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দ্রুত মেরামতের কাজ সম্পন্ন করা এখন জরুরি হয়ে পড়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এই ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।

সোণাপুর বাস দুর্ঘটনায় অল্প প্রাণে রক্ষা ২৫ যাত্রী
Scroll to top