Read today's news --> ⚡️Click here 

আর্থিক সহায়তায় চিনি ডাল অসম সরকার দিচ্ছে রেশন কার্ডধারীদের সেপ্টেম্বরে

দেশজুড়ে চিনির দাম ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার মধ্যেই অসম সরকার রাজ্যের জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইন (NFSA)-এর অধীনে থাকা রেশন কার্ডধারীদের জন্য আর্থিক সহায়তায় চিনি ও মসুর ডাল সরবরাহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রবিবার, ৩০ আগস্ট অনুষ্ঠিত রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে এবং সেপ্টেম্বর মাস জুড়ে যোগ্য উপভোক্তারা এই সুবিধা পাবেন বলে  জানানো হয়েছে ।

আর্থিক সহায়তায় চিনি ডাল অসম সরকারের নতুন উদ্যোগ

এই প্রকল্পের অধীনে সরকারের আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে উপভোক্তারা প্রতি কেজি মসুর ডাল ৭০ টাকায় এবং প্রতি কেজি চিনি ৩৫ টাকায় ক্রয় করতে পারবেন, যার মোট মূল্য দাঁড়াবে ১০৫ টাকা। এই সহায়তাপ্রাপ্ত সামগ্রী রাজ্যের ফেয়ার প্রাইস শপের মাধ্যমে মাসিক রেশনের সাথেই সরবরাহ করা হবে। মুখ্যমন্ত্রী ডঃ হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানিয়েছেন যে, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো সরকারের আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল পরিবারগুলোকে সাশ্রয়ী মূল্যে অপরিহার্য খাদ্যদ্রব্যের সুযোগ নিশ্চিত করা ।

রেশন কার্ডধারীদের জন্য সরকারি আর্থিক সহায়তায় এই চিনি সরবরাহ কার্যক্রমটি সরকারের কল্যাণমূলক ব্যবস্থার আওতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা নির্দিষ্ট ৩৫ টাকা প্রতি কেজি দামে চিনির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করবে ।

দেশব্যাপী চিনির দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষাপট

অসম সরকারের এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এসেছে যখন দেশজুড়ে চিনির দাম উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ভোক্তা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৩০ আগস্ট দেশব্যাপী গড় খুচরা চিনির দাম দাঁড়িয়েছে প্রতি কেজি ৬৪.২৪ টাকা, যা এক মাস আগের তুলনায় ৩০ শতাংশ এবং গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৮.৬৩ শতাংশ বেশি। সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য রেকর্ড করা হয়েছে প্রতি কেজি ৭৪ টাকা, যেখানে দিল্লিতে ৬২ টাকা, মুম্বাইয়ে ৬৬ টাকা এবং রাঁচিতে ৬৮ টাকা দরে চিনি বিক্রি হয়েছে ।

ভারতীয় চিনি ও জৈব শক্তি প্রস্তুতকারক সংস্থা (ISMA)-এর সভাপতি নীরজ শিরগাওকর সাংবাদিকদের বলেন, “দেশে চিনির কোনো ঘাটতি নেই। আমাদের উৎপাদন ও মজুদ পরিস্থিতি মৌলিকভাবে স্বস্তিদায়ক অবস্থায় রয়েছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, দাম বৃদ্ধির পেছনে ব্যবসায়ী ও বৃহৎ উপভোক্তাদের অনুমানমূলক ক্রয় এবং প্রত্যাশার তুলনায় কম উৎপাদন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে । কেন্দ্রীয় সরকার ইতিমধ্যে শুল্কমুক্ত চিনি আমদানির অনুমতি এবং ব্যবসায়ীদের জন্য মজুদ সীমা আরোপের মতো পদক্ষেপ নিয়েছে, যা মূলত বাজারে সরকারি হস্তক্ষেপের একটি রূপ।

অরুণোদয় প্রকল্পের অধীনে অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা

চিনি ও ডালে আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা অরুণোদয় প্রকল্পের অধীনে সরাসরি নগদ আর্থিক সহায়তার কথাও ঘোষণা করেছেন। শিবসাগর ও চরাইদেউ জেলার উপভোক্তারা এই মাসে ২,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা পাবেন, যেখানে অন্যান্য জেলার উপভোক্তারা পাবেন ১,২০০ টাকা। এই আর্থিক সহায়তা সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১০ সেপ্টেম্বর জমা করা হবে বলে জানিয়েছে ।

রাজ্য মন্ত্রিসভা অরুণোদয় প্রকল্পের আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধি এবং বন্যা-বিধ্বস্ত পরিবারগুলোর জন্য ১৫,০০০ টাকা অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তার অনুমোদনও দিয়েছে, যা রাজ্যের সামগ্রিক কল্যাণমূলক কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে । এই সিদ্ধান্তগুলো একসাথে রাজ্যের অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল ও দুর্যোগ-আক্রান্ত পরিবারগুলোর জন্য একটি সামগ্রিক আর্থিক সহায়তা ব্যবস্থা গড়ে তুলছে।

হাইলাকান্দি বরাক উপত্যকার বাসিন্দাদের জন্য প্রাসঙ্গিকতা

হাইলাকান্দি জেলা এবং ললা টাউনের বহু পরিবার, বিশেষত অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল শ্রেণির মানুষ, জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনের অধীনে রেশন কার্ডের সুবিধা গ্রহণ করেন। দেশজুড়ে চিনির দাম যখন প্রায় ৬৫ টাকা প্রতি কেজি ছুঁয়েছে, তখন সরকারের আর্থিক সহায়তায় ৩৫ টাকায় চিনি প্রাপ্তির সুযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য একটি বড় স্বস্তির বিষয় হয়ে উঠবে। বিশেষত গ্রামীণ ও প্রান্তিক এলাকার পরিবারগুলোর জন্য এই আর্থিক সহায়তা মাসিক বাজেটের উপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে।

এছাড়াও, হাইলাকান্দি জেলার অরুণোদয় প্রকল্পের উপভোক্তারাও প্রতি মাসের নির্ধারিত আর্থিক সহায়তা ১০ সেপ্টেম্বর তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাবেন। স্থানীয় ফেয়ার প্রাইস শপগুলোতে এই আর্থিক সহায়তাপ্রাপ্ত সামগ্রী মাসিক রেশনের সাথেই বিতরণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে, যা প্রক্রিয়াটিকে উপভোক্তাদের জন্য আরও সহজতর করে তুলবে।

আগামী দিনের প্রেক্ষাপট প্রত্যাশা

কেন্দ্রীয় সরকারের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাস থেকে বৃহৎ উপভোক্তাদের ১৫ দিনের বেশি চিনির মজুদ রাখার অনুমতি দেওয়া হবে না, যা বাজারে কৃত্রিম ঘাটতি রোধ করতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই পদক্ষেপগুলোর প্রভাবে আগামী দিনগুলোতে দেশব্যাপী চিনির দাম কিছুটা স্থিতিশীল হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে ভারতীয় চিনি শিল্প সংস্থা 1456।

অসম সরকারের এই আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি রাজ্যের অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল পরিবারগুলোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করবে, বিশেষত যখন দেশজুড়ে খাদ্যপণ্যের দাম ক্রমাগত বৃদ্ধির দিকে রয়েছে। হাইলাকান্দি ও বরাক উপত্যকার বাসিন্দাদের জন্য প্রতি মাসে এই ধরনের সরকারি আর্থিক সহায়তার ধারাবাহিকতা কতদিন বজায় থাকে এবং বাজারে চিনির দাম কীভাবে পরিবর্তিত হয়, তার দিকেই এখন নজর থাকবে সবার।

আর্থিক সহায়তায় চিনি ডাল অসম সরকার দিচ্ছে রেশন কার্ডধারীদের সেপ্টেম্বরে
Scroll to top