Read today's news --> ⚡️Click here 

নশামুক্ত যুব অভিযান শুরু, ১০০ সপ্তাহের মাদকবিরোধী প্রচারণা

নশামুক্ত যুব অভিযান নামে একটি ১০০ সপ্তাহের মাদকবিরোধী জনঅংশীদারিত্ব প্রচারণা শুরু করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ২ আগস্ট ভার্চুয়ালি এই অভিযান উদ্বোধন করে তিনি বলেন, এটি কেবল মাদকবিরোধী প্রচার নয়, বরং একটি সুস্থ ও বিকশিত ভারত গড়ার দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপ । কেন্দ্রীয় যুব বিষয়ক ও ক্রীড়ামন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডবীয়া জানিয়েছেন, এই ১০০ সপ্তাহের কর্মসূচিতে প্রতি রবিবার দেশজুড়ে সচেতনতা কার্যক্রম চলবে এবং প্রায় ১ কোটি যুবক “নশামুক্তি” শপথ নেবেন ।

কীভাবে চলবে এই ১০০ সপ্তাহের অভিযান

প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের পর থেকে প্রতি রবিবার সারা দেশের প্রায় ১০,০০০টি স্থানে নানা ধরনের কার্যক্রম আয়োজিত হবে। এর মধ্যে রয়েছে ওয়াক-আ-থন, খেলাধুলার প্রতিযোগিতা, ধ্যান সেশন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নুক্কড় নাটক, আলোচনাচক্র, শিল্প প্রতিযোগিতা এবং সম্প্রদায়ভিত্তিক কর্মসূচি । MY Bharat প্ল্যাটফর্মের নেতৃত্বে এই জনভাগীদারিত্ব অভিযান স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, যুব ক্লাব, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এবং ১২৫-এরও বেশি আধ্যাত্মিক সংস্থার অংশগ্রহণে পরিচালিত হবে ।

প্রধানমন্ত্রী তরুণদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আপনারা ভারতের অমৃত পিড়ি। নশা থেকে দূরে থাকুন, এবং অন্যদেরও এ থেকে দূরে রাখার দূত হয়ে উঠুন” । তিনি আরও উল্লেখ করেন, মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং গত কয়েক বছরে মাদকদ্রব্য উদ্ধার ও গ্রেফতারের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে । এই পরিসংখ্যানের মাধ্যমে তিনি দেখাতে চেয়েছেন যে শুধু সচেতনতা নয়, আইনি পদক্ষেপও একই সঙ্গে চলছে।

কেন এই অভিযান এখন জরুরি

ভারতে তরুণদের মধ্যে মাদকাসক্তির সমস্যা গত কয়েক দশকে ক্রমবর্ধমান। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী রাজ্য এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলে মাদক পাচারের নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী হয়েছে। আসামও এর ব্যতিক্রম নয়। রাজ্য সরকারের পাশাপাশি সামাজিক সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরে মাদকবিরোধী সচেতনতা ও পুনর্বাসন কর্মসূচি চালাচ্ছে, কিন্তু সমস্যাটি বহুমুখী হওয়ায় আরও বড় জনআন্দোলনের প্রয়োজন ছিল ।

এই প্রেক্ষাপটে ১০০ সপ্তাহের ধারাবাহিক প্রচারণা একটি নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। কারণ এখানে শুধু সরকার নয়, স্থানীয় যুবক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সম্প্রদায়ও সরাসরি অংশ নিচ্ছে। এ ধরনের জনভাগীদারিত্ব মডেল মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক অবরোধ গড়ে তুলতে সাহায্য করতে পারে, যা শুধু আইনি ব্যবস্থার চেয়ে দীর্ঘমেয়াদে বেশি কার্যকর হতে পারে।

বরাক উপত্যকা হাইলাকান্দির প্রাসঙ্গিকতা

বরাক উপত্যকা—বিশেষ করে কাছাড়, হাইলাকান্দি ও করিমগঞ্জ—মাদক পাচারের একটি সংবেদনশীল রুট হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের পাশাপাশি স্কুল, কলেজ ও এনজিও-গুলো এখানে নিয়মিত মাদকবিরোধী শিবির ও আলোচনাসভা করে। লালা টাউন ও আশপাশের এলাকায়ও যুবকদের মধ্যে মাদক সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা একটি চলমান চ্যালেঞ্জ।

এই নতুন ১০০ সপ্তাহের অভিযানের অংশ হিসেবে বরাক উপত্যকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, যুব ক্লাব ও স্থানীয় সংস্থাগুলোও যুক্ত হতে পারে। যদি স্থানীয় পর্যায়ে ওয়াক-আ-থন, খেলাধুলার মাধ্যমে সচেতনতা, নুককড় নাটক এবং আলোচনাচক্র নিয়মিত হয়, তবে লালা টাউনের যুবকদের মধ্যে “নশামুক্তি” শপথ আরও কার্যকরভাবে পৌঁছাতে পারবে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে যেখানে তথ্যের প্রাপ্যতা সীমিত, সেখানে এই ধরনের সম্প্রদায়ভিত্তিক প্রচারণা বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

কীভাবে অংশ নিতে পারেন যুবকরা

প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি যুবকদের সরাসরি আহ্বান জানিয়েছেন এই অভিযানের অংশ হতে। MY Bharat প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে স্থানীয় স্তরে নিবন্ধন করে যুবক, শিক্ষার্থী, এনএসএস স্বেচ্ছাসেবীরা এই কার্যক্রমে যুক্ত হতে পারেন । স্থানীয় স্কুল-কলেজ, যুব সংগঠন বা পৌরসভার মাধ্যমেও প্রতি রবিবারের কার্যক্রমের তথ্য পাওয়া যাবে।

এছাড়া পরিবারের স্তরেও এই শপথের গুরুত্ব বোঝা দরকার। অনেক ক্ষেত্রে মাদকাসক্তি লুকিয়ে রাখা হয়, যা চিকিৎসা ও পুনর্বাসনকে কঠিন করে তোলে। প্রধানমন্ত্রীও এই বিষয়ে জোর দিয়ে বলেছেন যে মাদকাসক্তিকে লজ্জা বা অপরাধ নয়, বরং একটি স্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে দেখতে হবে এবং পরিবারের সহায়তা অপরিহার্য ।

সামনে কী দেখার আছে

এই ১০০ সপ্তাহের অভিযান শেষ পর্যন্ত কতটা কার্যকর হয়, তা নির্ভর করবে স্থানীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণ, ধারাবাহিকতা এবং প্রশাসনিক সহযোগিতার ওপর। যদি প্রতিটি জেলা, ব্লক ও গ্রামে নিয়মিত কার্যক্রম চালু থাকে, তবে মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন একটি নতুন রূপ নিতে পারে। একই সঙ্গে মাদক পাচারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা এবং পুনর্বাসন কেন্দ্রের প্রসারও সমানভাবে জরুরি।

বরাক উপত্যকা ও হাইলাকান্দির মতো এলাকায় এই অভিযান শুধু শপথের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে স্থানীয় বাস্তবতার সাথে মানানসই কর্মসূচিতে রূপান্তরিত হলে, তা লালা টাউনসহ আশপাশের যুবকদের জন্য দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষা ও সচেতনতার ভিত্তি তৈরি করতে পারে।

নশামুক্ত যুব অভিযান শুরু, ১০০ সপ্তাহের মাদকবিরোধী প্রচারণা
Scroll to top