Read today's news --> ⚡️Click here 

কাছাড় তিরঙ্গা বাইক র‍্যালি: শিলচরের রাজপথে দেশাত্মবোধের বার্তা

কাছাড় তিরঙ্গা বাইক র‍্যালির মাধ্যমে হর ঘর তিরঙ্গা অভিযানে জনসাধারণের অংশগ্রহণের আহ্বান জানাল কাছাড় জেলা প্রশাসন। রবিবার সকালে শিলচরে জেলা প্রশাসন, কাছাড় পুলিশ এবং জেলা পরিবহণ দপ্তরের যৌথ উদ্যোগে এই র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়। জেলা কমিশনারের কার্যালয় থেকে শুরু হওয়া বাইক র‍্যালিতে সরকারি আধিকারিকদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও জাতীয় পতাকা হাতে অংশ নেন। ৮০তম স্বাধীনতা দিবসের আগে দেশাত্মবোধ, জাতীয় পতাকার প্রতি সম্মান এবং নাগরিক অংশগ্রহণের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই ছিল কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য ।

র‍্যালিতে অংশগ্রহণকারীরা তেরঙ্গা নিয়ে শিলচরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা ও এলাকায় যান। জেলা কমিশনারের কার্যালয় থেকে যাত্রা শুরু করে র‍্যালি রাঙ্গিরখাড়ি, নেতাজি মূর্তি এবং শহরের অন্যান্য প্রধান পথ অতিক্রম করে আবার জেলা কমিশনারের কার্যালয়ে ফিরে আসে । শহরের ব্যস্ত রাস্তায় জাতীয় পতাকা হাতে মোটরবাইকের সারি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং স্বাধীনতা দিবসের প্রস্তুতিতে নতুন আবহ তৈরি হয়।

শিলচরে র‍্যালির বার্তা

কাছাড় তিরঙ্গা বাইক র‍্যালি শুধু একটি আনুষ্ঠানিক শোভাযাত্রা ছিল না। প্রশাসনের উদ্দেশ্য ছিল, হর ঘর তিরঙ্গা অভিযানকে সরকারি অনুষ্ঠান থেকে সাধারণ মানুষের আন্দোলনে পরিণত করা। জেলা প্রশাসন ও পুলিশের আধিকারিকদের সঙ্গে সাধারণ নাগরিকদের একসঙ্গে র‍্যালিতে অংশগ্রহণ সেই বার্তাকেই সামনে এনেছে ।

হর ঘর তিরঙ্গা অভিযান ২০২২ সালে ‘আজাদি কা অমৃত মহোৎসব’-এর অধীনে শুরু হয়। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো নাগরিকদের নিজেদের বাড়ি, কর্মস্থল ও প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলনে উৎসাহিত করা এবং তেরঙ্গার সঙ্গে মানুষের ব্যক্তিগত ও আবেগপূর্ণ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা । ২০২৬ সালে এই কর্মসূচি ৯ থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত পালিত হচ্ছে বলে সরকারি ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে ।

র‍্যালির সময় অংশগ্রহণকারীদের হাতে থাকা পতাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় স্বাধীনতা দিবসের বার্তা পৌঁছে দেয়। একই সঙ্গে এমন কর্মসূচি যুবসমাজকে জাতীয় অনুষ্ঠান ও নাগরিক দায়িত্বের সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি করে। বাইক র‍্যালির মতো দৃশ্যমান উদ্যোগের মাধ্যমে শহরের সাধারণ মানুষও সহজে কর্মসূচির সঙ্গে পরিচিত হতে পারেন।

১২ আগস্ট গান তেরঙ্গা যাত্রা

কাছাড় জেলা প্রশাসনের কর্মসূচি শুধু রবিবারের বাইক র‍্যালিতে শেষ হচ্ছে না। ১২ আগস্ট শিলচরের গান্ধী বাগ পার্কে তেরঙ্গা র‍্যালি এবং ‘বন্দে মাতরম’ সমবেতভাবে গাওয়ার কর্মসূচি রয়েছে। জেলা প্রশাসন, পুলিশ, NCC, নেহরু যুব কেন্দ্র, NSS, অসম স্টেট রুরাল লাইভলিহুডস মিশন, ন্যাশনাল আরবান লাইভলিহুডস মিশন, সিভিল সোসাইটি সংগঠন, জেলা ক্রীড়া দপ্তর এবং অন্যান্য সরকারি বিভাগের প্রতিনিধিরা এই কর্মসূচিতে অংশ নেবেন ।

এই উদ্যোগে বিভিন্ন বয়স ও পেশার মানুষকে একত্র করার পরিকল্পনা রয়েছে। স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা তেরঙ্গা যাত্রা ও সমবেত গানে যোগ দিতে পারে, আর যুব সংগঠনগুলি সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা নিতে পারে। প্রশাসনের সঙ্গে সামাজিক সংগঠনগুলির অংশগ্রহণ কর্মসূচিকে আরও বিস্তৃত করার সুযোগ তৈরি করবে।

‘বন্দে মাতরম’ সমবেতভাবে গাওয়ার মাধ্যমে স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস এবং জাতীয় চেতনার সঙ্গে বর্তমান প্রজন্মের যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এই ধরনের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার সময় জাতীয় পতাকা ও জাতীয় সংগীতের মর্যাদা বজায় রাখা প্রত্যেক অংশগ্রহণকারীর দায়িত্ব।

কাছাড়ে আগের কর্মসূচির অভিজ্ঞতা

কাছাড় জেলায় হর ঘর তিরঙ্গা অভিযান ঘিরে আগেও একাধিক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালে জেলা প্রশাসন স্বাধীনতা দিবসের আগে বাইক র‍্যালি, রান এবং গান্ধী বাগানে বিশেষ সেলফি পয়েন্ট তৈরির পরিকল্পনা করেছিল । সেই সময় কাছাড় পুলিশকে তিরঙ্গা র‍্যালির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল এবং শিক্ষা দপ্তরের আধিকারিকদের মাধ্যমে স্কুলগুলিতে তেরঙ্গা যাত্রা ও শপথ কর্মসূচির প্রস্তুতি নেওয়া হয়।

২০২৫ সালেও শিলচরে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বাইক র‍্যালি এবং পদযাত্রার মাধ্যমে স্বাধীনতা দিবসের পরিবেশ তৈরি করেছিল । এই ধারাবাহিকতা দেখায়, কাছাড়ে হর ঘর তিরঙ্গা অভিযানকে শুধু বাড়িতে পতাকা উত্তোলনের কর্মসূচি হিসেবে দেখা হচ্ছে না; বরং র‍্যালি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনকে যুক্ত করে একটি বৃহত্তর জনসম্পৃক্ত উদ্যোগ হিসেবে পরিচালনা করা হচ্ছে।

লালা টাউন বরাক উপত্যকার জন্য প্রাসঙ্গিকতা

শিলচরের কাছাড় তিরঙ্গা বাইক র‍্যালি বরাক উপত্যকার অন্যান্য শহর ও এলাকার কাছেও একটি উদাহরণ তৈরি করেছে। হাইলাকান্দি জেলার লালা টাউন, কাটলিছড়া, আলগাপুর এবং অন্যান্য এলাকায় স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ, স্কুল, কলেজ ও যুব সংগঠন নিজেদের মতো করে তেরঙ্গা যাত্রা বা বাইক র‍্যালি আয়োজন করতে পারে। এতে স্বাধীনতা দিবসের কর্মসূচি শহরকেন্দ্রিক না থেকে ছোট শহর ও গ্রামাঞ্চলেও পৌঁছবে।

লালা টাউনের বাজার এলাকা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং পাড়া সংগঠনগুলি যদি জাতীয় পতাকা উত্তোলন, দেশাত্মবোধক গান, পরিচ্ছন্নতা অভিযান বা ইতিহাসভিত্তিক আলোচনা সভার আয়োজন করে, তবে হর ঘর তিরঙ্গা অভিযান আরও অর্থবহ হয়ে উঠবে। এমন কর্মসূচিতে শিশু ও তরুণদের যুক্ত করা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তাদের মাধ্যমেই জাতীয় ঐক্য ও নাগরিক দায়িত্বের বার্তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মে পৌঁছতে পারে।

পতাকার মর্যাদা রক্ষার আহ্বান

জাতীয় পতাকা উত্তোলনের সময় Flag Code of India-এর নির্দেশনা মেনে চলা জরুরি। কাছাড় জেলা প্রশাসন আগেও নাগরিকদের পতাকার মর্যাদা, পবিত্রতা ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব অক্ষুণ্ণ রাখার আহ্বান জানিয়েছে । পতাকা যেন মাটিতে না পড়ে, ছেঁড়া বা নোংরা পতাকা ব্যবহার না করা হয় এবং অনুষ্ঠান শেষে পতাকাকে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয়—এসব বিষয়ের দিকে নজর রাখা দরকার।

হর ঘর তিরঙ্গা অভিযানে অংশগ্রহণের অর্থ শুধু একটি পতাকা উত্তোলন নয়; দেশের প্রতি সম্মান ও দায়িত্ব প্রকাশ করাও এর অংশ। শিলচরের কাছাড় তিরঙ্গা বাইক র‍্যালি সেই সম্মিলিত চেতনাকে সামনে এনেছে। ১৫ আগস্টের আগে বরাক উপত্যকার আরও মানুষ এই উদ্যোগে যুক্ত হলে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন জনসম্পৃক্ততা ও জাতীয় ঐক্যের আরও শক্তিশালী বার্তা বহন করবে।

কাছাড় তিরঙ্গা বাইক র‍্যালি: শিলচরের রাজপথে দেশাত্মবোধের বার্তা
Scroll to top