Read today's news --> ⚡️Click here 

বিকশিত ভারত ২০৪৭ লক্ষ্য নিয়ে লালকেল্লায় ভাষণ দিলেন মোদী

বিকশিত ভারত ২০৪৭ লক্ষ্য নিয়ে শনিবার লালকেল্লার প্রাচীর থেকে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দিল্লির ঐতিহাসিক লালকেল্লায় জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর তিনি এই ভাষণ দেন। টানা ত্রয়োদশ বারের জন্য স্বাধীনতা দিবসে ভাষণ দিলেন তিনি, যেখানে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করার সংকল্পের কথা তুলে ধরেন ।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে গত ১২ বছরে ভারতের অর্থনৈতিক রূপান্তরের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “১২ বছর আগে বিশ্ব ভারতকে ‘ফ্র্যাজাইল ফাইভ’ অর্থাৎ দুর্বল পাঁচ অর্থনীতির একটি বলে গণ্য করত। আজ ভারত বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল বৃহৎ অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে” । মহাত্মা গান্ধী এবং অগণিত স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করে তিনি বলেন, “স্বাধীনতা সংগ্রামীদের স্বপ্ন আজও দেশকে বিকশিত ভারত গড়ার লক্ষ্যে অনুপ্রাণিত করে চলছে” ।

বড় স্বপ্ন দেখার আহ্বান

প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁর ভাষণে দেশবাসীকে বড় স্বপ্ন দেখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “কোনো জাতি তখনই মহান হয় যখন সে তার সামর্থ্য ও লক্ষ্যের ভিত্তিতে অগ্রসর হয়। আমাদের ছোট স্বপ্ন দেখার প্রয়োজন নেই; আমাদের বড় স্বপ্ন দেখা উচিত। বড় স্বপ্ন অগ্রগতির গতি বাড়িয়ে দেয়। যখন সংকল্প দৃঢ় হয়, তখন সম্ভাবনা নিজের পথ খুঁজে নেয়” ।

তিনি জানান, ভারত যখন ১০০ বছরের স্বাধীনতা উদযাপন করবে, অর্থাৎ ২০৪৭ সালে, ততদিনে ১৪০ কোটি ভারতীয়ের অবদান, প্রচেষ্টা এবং অংশগ্রহণের মাধ্যমে বিকশিত ভারত গড়ে তোলা হবে। তিনি আরও বলেন, “যখন বিশ্বের সর্বাধিক জনবহুল দেশ উন্নত রাষ্ট্র হওয়ার সংকল্প নেয়, তখন এটি আমাদের সাহসের পরিচয় হয়ে ওঠে এবং বিশ্ব আমাদের নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে বাধ্য হয়” ।

প্রথমবার লালকেল্লায় ‘বন্দে মাতরম’

এই বছরের স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের একটি বিশেষ ঐতিহাসিক তাৎপর্য রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁর ভাষণে জানান, স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো লালকেল্লায় জাতীয় সঙ্গীত ‘বন্দে মাতরম’ ধ্বনিত হয়েছে। এই বছর ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তিও উদযাপিত হচ্ছে। তিনি বলেন, “আজ প্রতিটি হৃদয় ‘বন্দে মাতরম’-এর সুরে স্পন্দিত হচ্ছে। আজ প্রতিটি ঘর তিরঙ্গা, প্রতিটি মন তিরঙ্গা” ।

এই বছরের অনুষ্ঠানটি বিশেষভাবে “২০৪৭-এ বিকশিত ভারতের জন্য যুব শক্তি” থিমের ওপর আলোকপাত করেছে। প্রধানমন্ত্রী তরুণ প্রজন্মের শক্তির ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে একটি বিকশিত ভারত হিসেবে গড়ে তোলার যাত্রায় তরুণ প্রজন্মের শক্তি এবং আকাঙ্ক্ষাই হবে প্রধান চালিকাশক্তি ।

বন্যা দুর্গতদের প্রতি সহমর্মিতা

তাঁর ভাষণে প্রধানমন্ত্রী দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “গত কয়েক দিনে আমাদের দেশের কিছু অংশে বন্যার কারণে বিপর্যয় ঘটেছে। নিহতদের পরিবারের প্রতি আমাদের সমবেদনা রয়েছে এবং আমি আপনাদের আশ্বাস ও ভরসা দিতে চাই যে সমগ্র জাতি ক্ষতিগ্রস্ত সবার পাশে দাঁড়িয়ে আছে” ।

অসমের সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তা রাজ্যের বাসিন্দাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। বরাক উপত্যকা ও হাইলাকান্দি জেলার বহু এলাকাও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। কেন্দ্রীয় সরকারের এই সহমর্মিতাপূর্ণ বার্তা স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে আশা জাগিয়েছে যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর পুনর্গঠনে প্রয়োজনীয় সহায়তা মিলবে।

বরাক উপত্যকা লালার জন্য তাৎপর্য

লালা টাউনসহ হাইলাকান্দি জেলার বিভিন্ন স্কুল ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে এই বছর ৮০তম স্বাধীনতা দিবস বিশেষ উৎসাহের সঙ্গে উদযাপিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে বিকশিত ভারতের লক্ষ্যে তরুণ প্রজন্মের ভূমিকার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ থাকায় স্থানীয় শিক্ষার্থী ও যুবকদের মধ্যে বিশেষ উদ্দীপনা দেখা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করেন, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রগতির সুফল যেন প্রান্তিক অঞ্চল যেমন বরাক উপত্যকাতেও সমানভাবে পৌঁছায়, সেই প্রত্যাশাই তাদের রয়েছে। রেল, সড়ক যোগাযোগ এবং শিক্ষাক্ষেত্রে উন্নয়নের মাধ্যমে এই অঞ্চলও জাতীয় উন্নয়নের মূল স্রোতে সামিল হতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন অনেকে।

ভবিষ্যতের অভিমুখ

প্রধানমন্ত্রী মোদীর এই বছরের ভাষণ ছিল দেশের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি দিকনির্দেশনা। ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে বিশ্বের একটি প্রধান অর্থনৈতিক শক্তি এবং আত্মনির্ভর জাতি হিসেবে গড়ে তোলার সংকল্প তাঁর ভাষণের মূল সুর ছিল। ১৪০ কোটি নাগরিকের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই এই লক্ষ্য অর্জিত হবে বলে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন।

আগামী বছরগুলোতে এই লক্ষ্য অর্জনের পথে কী কী নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তার ওপরই নির্ভর করবে ভারতের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতির গতিপ্রকৃতি। দেশের প্রতিটি প্রান্তের মানুষ, বিশেষ করে উত্তর-পূর্ব ও বরাক উপত্যকার মতো অঞ্চলগুলো, এই উন্নয়ন যাত্রায় সমানভাবে অংশগ্রহণ করতে পারবে কিনা, তা সময়ই বলে দেবে।

বিকশিত ভারত ২০৪৭ লক্ষ্য নিয়ে লালকেল্লায় ভাষণ দিলেন মোদী
Scroll to top