Read today's news --> ⚡️Click here 

বন্যাদুর্গত ছাত্রছাত্রী সার্টিফিকেট পাবেন পুলিশি রিপোর্ট ছাড়াই

বন্যাদুর্গত ছাত্রছাত্রী সার্টিফিকেট পুনরায় পেতে এখন আর পুলিশি রিপোর্ট জমা দিতে হবে না, জানিয়েছে অসম স্টেট স্কুল এডুকেশন বোর্ড (ASSEB)। বুধবার বোর্ডের সচিব নারনারায়ণ নাথ জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ছাত্রছাত্রীরা এখন থেকে শুধুমাত্র একটি স্ব-ঘোষণাপত্র জমা দিয়ে বিনামূল্যে ডুপ্লিকেট মার্কশিট ও সার্টিফিকেট পেতে পারবেন । উজান অসমের বন্যাদুর্গত ছাত্রছাত্রীদের জন্য এই সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকারের বৃহত্তর শিক্ষা-সহায়তা প্যাকেজের অংশ হিসেবে ঘোষিত হয়েছে ।

কীভাবে মিলবে এই সুবিধা

নাথ জানিয়েছেন, “অনলাইন পোর্টালে পুলিশ রিপোর্ট আপলোড করার বিকল্প থাকলেও, এখন আর তা জমা দিতে হবে না। এর বদলে ছাত্রছাত্রীরা একটি স্ব-ঘোষণাপত্র আপলোড করতে পারবেন, যাতে বলা থাকবে যে তারা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন,” অসম ট্রিবিউনকে উদ্ধৃত করে জানানো হয়েছে । HSLC সংক্রান্ত নথির জন্য ছাত্রছাত্রীরা sebaonlineservices.in পোর্টালে এবং উচ্চ মাধ্যমিক নথির জন্য ahsec.gov.in পোর্টালে আবেদন করতে পারবেন। আবেদন প্রক্রিয়া অপরিবর্তিত থাকলেও, ডুপ্লিকেট নথির জন্য কোনও ফি লাগবে না বলে নাথ স্পষ্ট করেছেন ।

সাধারণত SEBA-র নিয়ম অনুযায়ী ডুপ্লিকেট রেজিস্ট্রেশন কার্ড, অ্যাডমিট কার্ড, মার্কশিট বা পাশ সার্টিফিকেটের জন্য ২০০ থেকে ৬৫০ টাকা পর্যন্ত ফি এবং বিলম্ব হলে অতিরিক্ত ১,০০০ টাকা জরিমানা দিতে হয়, পাশাপাশি মূল নথি হারিয়ে গেলে পুলিশ FIR-এর স্ক্যান কপি বাধ্যতামূলক ছিল । বন্যা পরিস্থিতিতে এই দুটি শর্তই আপাতত শিথিল করা হয়েছে, যা ছাত্রছাত্রীদের জন্য বড় স্বস্তি এনেছে।

কোন জেলার শিক্ষার্থীরা সুবিধা পাবেন

ইন্ডিয়া টুডে এনই ও জাগরণ জোশের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সুবিধা আপাতত চরাইদেও, শিবসাগর, যোরহাট ও গোলাঘাট—এই চার উজান অসম জেলার বন্যাদুর্গত ছাত্রছাত্রীদের জন্যই প্রযোজ্য । HSLC/AHM ও উচ্চ মাধ্যমিক চূড়ান্ত পরীক্ষার সঙ্গে যুক্ত পাশ সার্টিফিকেট, অ্যাডমিট কার্ড, মার্কশিট ও রেজিস্ট্রেশন কার্ডের ডুপ্লিকেট কপি এই বিশেষ ব্যবস্থার আওতায় পড়বে । নাথ জানিয়েছেন, আবেদন জমা দেওয়ার জন্য এখনও কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়নি ।

হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে দেখা যায়, মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা মঙ্গলবার এক বৃহত্তর ত্রাণ ঘোষণায় জানান, শিবসাগর ও চরাইদেও জেলার ছাত্রছাত্রীরা বই ও পোশাকের জন্যও আর্থিক সহায়তা পাবে—উচ্চ মাধ্যমিক পড়ুয়াদের জন্য ১,০০০ টাকা, স্নাতক স্তরে ৩,০০০ টাকা এবং স্নাতকোত্তর স্তরে ৫,০০০ টাকা । এই অর্থ আসছে মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে, যেখানে বন্যা শুরুর প্রায় দশ দিনের মধ্যেই ২৬ কোটি টাকারও বেশি অনুদান জমা পড়েছে বলে সরকারি সূত্রে জানা গেছে ।

ছাত্র সংগঠনের দাবি বৃহত্তর প্রেক্ষাপট

সর্বজনীন ছাত্র সংগঠন অল অসম স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (AASU) সরকারের কাছে আরও বড় পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে। AASU নেতারা বলেছেন, “আমরা চাই জন্ম, বাসস্থান, জাতি ও আয়ের সার্টিফিকেট-সহ সমস্ত সরকারি নথি একটি নির্দিষ্ট অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে বিনামূল্যে পুনরায় ইস্যু করা হোক,” অসম ট্রিবিউনকে উদ্ধৃত করে জানানো হয়েছে । তাদের মতে, ASSEB-এর পাশাপাশি গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয়, ডিব্রুগড় বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকেও একই ধরনের ব্যবস্থা চালু করতে হবে, যাতে বন্যায় নথি হারানো সব স্তরের শিক্ষার্থীরাই উপকৃত হতে পারেন ।

এই দাবি এমন সময়ে এসেছে, যখন রাজ্যের বন্যা পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুতর জায়গায় পৌঁছেছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এবারের বন্যায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৫-এ এবং সাত জেলা জুড়ে তিন লক্ষেরও বেশি মানুষ এখনও ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় রয়েছেন । এই প্রেক্ষাপটে ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষাগত নথি দ্রুত ও সহজে ফিরে পাওয়ার ব্যবস্থা রাজ্যের সামগ্রিক পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

বরাক উপত্যকা হাইলাকান্দির জন্য তাৎপর্য

বর্তমানে এই সুবিধা শুধু উজান অসমের চার জেলার জন্য নির্দিষ্ট থাকলেও, হাইলাকান্দি ও লালা টাউনের ছাত্রছাত্রীদের জন্য এই খবরের একটি ভবিষ্যৎ-মুখী তাৎপর্য রয়েছে। প্রতি বছর বর্ষায় কাছাড় ও হাইলাকান্দি জেলার নিচু এলাকায় বন্যার প্রকোপ দেখা যায়, আর সেই সময় বহু ছাত্রছাত্রীর বই, খাতা ও গুরুত্বপূর্ণ সার্টিফিকেট নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঘটনা নতুন নয়। ASSEB-এর এই নীতিগত পরিবর্তন প্রমাণ করে যে বন্যার মতো দুর্যোগে নথি হারানো ছাত্রছাত্রীদের জন্য সরকার দ্রুত ও সহানুভূতিশীল ব্যবস্থা নিতে পারে, এবং ভবিষ্যতে বরাক উপত্যকায় একই পরিস্থিতি তৈরি হলে এই নজির কাজে লাগানো যেতে পারে।

স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অভিভাবকদের জন্যও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা—দুর্যোগের সময় সরকারি ঘোষণা ও পোর্টালের হালনাগাদ তথ্যের দিকে নিয়মিত নজর রাখা প্রয়োজন, যাতে যোগ্য শিক্ষার্থীরা সময়মতো সুবিধা নিতে পারে।

সামনে কী দেখার আছে

ASSEB-এর এই সিদ্ধান্ত বন্যাদুর্গত ছাত্রছাত্রীদের জন্য তাৎক্ষণিক স্বস্তি এনে দিলেও, AASU-র দাবি অনুযায়ী একটি স্থায়ী ও সর্বজনীন অনলাইন ব্যবস্থা তৈরি হয় কিনা, তা এখন দেখার বিষয়। রাজ্য সরকার ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য এক্স-গ্রেসিয়া, ঘরভাড়া সহায়তা ও শিক্ষা খাতে একাধিক ছাড় ঘোষণা করেছে, এবং আগামী দিনে এই তালিকা আরও দীর্ঘ হতে পারে। যতদিন না সম্পূর্ণ পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শেষ হচ্ছে, ততদিন বন্যাদুর্গত ছাত্রছাত্রী ও তাদের পরিবারের জন্য এই ধরনের প্রশাসনিক ছাড়ই সবচেয়ে বড় ভরসা হয়ে থাকবে।

বন্যাদুর্গত ছাত্রছাত্রী সার্টিফিকেট পাবেন পুলিশি রিপোর্ট ছাড়াই
Scroll to top