Read today's news --> ⚡️Click here 

নিউ হারাঙ্গাজাও ট্রেন বাতিল, শিলচর-গুয়াহাটি রুটে ভোগান্তি চলছে

নিউ হারাঙ্গাজাও ট্রেন বাতিল ঘোষণা করেছে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল (এনএফআর), লামডিং-বদরপুর পাহাড়ি লাইনে চলমান মেরামতির কাজের কারণে। সোমবার, ২৪ আগস্ট ও মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট গুয়াহাটি-শিলচর এক্সপ্রেস ও গুয়াহাটি-ডুল্লাভচেরা এক্সপ্রেসসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রেন বাতিল করা হয়েছে, যা বরাক উপত্যকা ও দক্ষিণ আসামের যাত্রীদের মধ্যে নতুন করে ভোগান্তির সৃষ্টি করেছে।

এনএফআর এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, নিউ হারাঙ্গাজাও স্টেশনের কাছে ১ ও ২ নম্বর লাইনে ট্র্যাক সেটেলমেন্ট বা মাটি ধসের সমস্যার কারণে পুনরুদ্ধারমূলক কাজ চলছে। এই সমস্যা প্রথম দেখা যায় গত ২৩ জুলাই প্রবল বৃষ্টির পর, যখন স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় রেললাইনের নীচের মাটি ও পাথর ধসে যায়। নিরাপত্তার স্বার্থে ওই দুই লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং বর্তমানে সীমিত পরিসরে ৩ নম্বর লাইন ব্যবহার করে দূরপাল্লার ট্রেন পরিষেবা চালানো হচ্ছে ।

কোন কোন ট্রেন বাতিল পরিবর্তিত

এনএফআর-এর ঘোষণা অনুযায়ী, ২৪ আগস্ট ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকা ট্রেন নম্বর ১৫৬১৭ (গুয়াহাটি-ডুল্লাভচেরা) এবং ট্রেন নম্বর ১৫৬১৫ (গুয়াহাটি-শিলচর) এক্সপ্রেস সম্পূর্ণভাবে বাতিল করা হয়েছে। এগুলোর ফেরতি পরিষেবা, অর্থাৎ ২৫ আগস্টের ট্রেন নম্বর ১৫৬১৮ (ডুল্লাভচেরা-গুয়াহাটি) এবং ১৫৬১৬ (শিলচর-গুয়াহাটি)ও বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে ।

এছাড়াও বেশ কয়েকটি ট্রেনের সময়সূচি পরিবর্তন করা হয়েছে। ট্রেন নম্বর ১৫৬৫০ (নারঙ্গি-আগরতলা) এক্সপ্রেস ২৪ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে নারঙ্গি থেকে ছেড়ে যাবে। ট্রেন নম্বর ২০৫০১ (আগরতলা-আনন্দ বিহার টার্মিনাল) তেজস এক্সপ্রেস আগরতলা থেকে সন্ধ্যা ৭টায় এবং ট্রেন নম্বর ১৪০৩৭ (শিলচর-নিউ দিল্লি) পূর্বোত্তর সম্পর্ক ক্রান্তি এক্সপ্রেস শিলচর থেকে রাত ১০টা ১০ মিনিটে ছেড়ে যাবে বলে ঘোষণা করা হয়েছে ।

লামডিং-বদরপুর পাহাড়ি লাইনের দুর্দশা

নিউ হারাঙ্গাজাও লামডিং-বদরপুর পাহাড়ি রুটের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ স্টেশন, যেখানে বর্ষার মরশুমে বারবার ভূমিধস, ট্র্যাক সেটেলমেন্ট এবং লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা ঘটে। টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিমি ১১৮/১-৩ এলাকায় ২ নম্বর লাইনের একটি অংশ, যা আগেই ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, আবারও ধসে গেছে। এই সমস্যার কারণে ২৪ জুলাই থেকে ১ ও ২ নম্বর লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে ।

এনএফআর বর্তমানে লামডিং-বদরপুর হিল সেকশনে ৩ নম্বর লাইনের মাধ্যমে সীমিত পরিষেবা চালিয়ে যাচ্ছে, তবে বর্ধিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। রেল কর্তৃপক্ষের মুখোমুখি হতে হচ্ছে মাটি ও ঢাল স্থিতিশীল করার চ্যালেঞ্জ, একই সাথে ক্ষতিগ্রস্ত ট্র্যাক পুনর্নির্মাণের কাজ চালিয়ে যেতে হচ্ছে। ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে মাটি ও ঢালের স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, যা মেরামতির কাজে আরও বিলম্বের কারণ হতে পারে ।

বরাক উপত্যকা হাইলাকান্দির যাত্রীদের ভোগান্তি

এই ট্রেন বাতিল ও পরিবর্তনের সরাসরি প্রভাব পড়ছে বরাক উপত্যকা, বিশেষ করে হাইলাকান্দি জেলা ও লালা টাউনের বাসিন্দাদের ওপর। শিলচর-গুয়াহাটি রুটটি বরাক উপত্যকার মানুষের জন্য গুয়াহাটি ও উত্তর-পূর্বের অন্যান্য রাজ্যের সঙ্গে সংযোগের প্রধান রেলপথ। শিক্ষা, চিকিৎসা ও ব্যবসার জন্য নিয়মিত এই রুটে যাতায়াতকারী হাজার হাজার যাত্রী বর্তমান অচলাবস্থায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

স্থানীয় যাত্রীদের জন্য বার্তা স্পষ্ট—ভ্রমণ পরিকল্পনা করার আগে এনএফআর-এর সাম্প্রতিক ঘোষণা ও আপডেট যাচাই করে নেওয়া জরুরি। বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থা, যেমন সড়কপথে যাতায়াত, বিবেচনা করা যেতে পারে, যদিও বর্ষার মরশুমে সড়কপথও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। হাইলাকান্দি জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় পরিবহন সংগঠনগুলোর উচিত যাত্রীদের বিকল্প ব্যবস্থা সম্পর্কে তথ্য প্রদান করা।

দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের প্রয়োজনীয়তা

নিউ হারাঙ্গাজাও-এর মতো ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বারবার ট্র্যাক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা প্রমাণ করে যে লামডিং-বদরপুর পাহাড়ি রুটে দীর্ঘমেয়াদি প্রকৌশলগত সমাধানের প্রয়োজন। সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে ডিমা হাসাও জেলার লংকুলা-উমরাংসো নতুন রেললাইন প্রকল্পের বিস্তারিত প্রকল্প প্রতিবেদন (ডিপিআর) জমা দেওয়া হয়েছে, যার আনুমানিক খরচ ১,০৮৪ কোটি টাকা। এই ১৫.৮৭ কিলোমিটার দীর্ঘ ব্রড-গেজ লাইনটি ডিমা হাসাও-র সংযোগ উন্নত করতে সাহায্য করবে, তবে এটি এখনও রেলওয়ে বোর্ডের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে ।

বর্তমান পরিস্থিতিতে এনএফআর-কে কেবল ক্ষতিগ্রস্ত ট্র্যাক মেরামতই নয়, বরং ভবিষ্যতে একই ধরনের সমস্যা প্রতিরোধে টেকসই প্রকৌশলগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাহাড়ি এলাকায় রেলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আধুনিক প্রযুক্তি, যেমন স্যাটেলাইট মনিটরিং ও জিও-টেকনিক্যাল সেন্সর, ব্যবহারের কথা বিবেচনা করা যেতে পারে।

আগামী দিনগুলোতে কী প্রত্যাশিত

এনএফআর জানিয়েছে যে মেরামতির কাজ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে, তবে অব্যাহত বৃষ্টিপাতের কারণে কাজের গতি ব্যাহত হচ্ছে। যাত্রীদের সুবিধার্থে রেল কর্তৃপক্ষ নিয়মিত আপডেট প্রকাশ করছে এবং প্রয়োজনে আরও ট্রেন বাতিল বা পরিবর্তনের ঘোষণা দেওয়া হতে পারে।

আগামী কয়েক দিনে মেরামতির কাজের অগ্রগতি এবং বৃষ্টিপাতের পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে লাইন ১ ও ২ কত দ্রুত পুনরায় চালু করা যায়। ততদিন পর্যন্ত যাত্রীদের ধৈর্য ধরে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং রেল কর্তৃপক্ষের ঘোষণার দিকে নজর রাখাই একমাত্র পথ। বরাক উপত্যকার মানুষের দীর্ঘদিনের এই রেল সংযোগ সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত এই ধরনের ভোগান্তি চলতেই থাকবে।

নিউ হারাঙ্গাজাও ট্রেন বাতিল, শিলচর-গুয়াহাটি রুটে ভোগান্তি চলছে
Scroll to top