Read today's news --> ⚡️Click here 

আসামে চাকরিপ্রার্থী ১৫.৪৩ লাখ, ২ লাখ চাকরির পরিকল্পনা

আসামে চাকরিপ্রার্থী সংখ্যা ১৫.৪৩ লাখে পৌঁছেছে বলে বিধানসভায় জানিয়েছে রাজ্য সরকার। একই সঙ্গে আগামী পাঁচ বছরে ২ লাখ সরকারি চাকরি তৈরি করার জন্য গঠিত টাস্ক ফোর্স কাজ শুরু করেছে, যা রাজ্যের কর্মসংস্থান নীতিতে বড় ইঙ্গিত দিচ্ছে । সোমবারের এই তথ্য সামনে আসে যখন সরকার পরিষ্কার জানায়, চাকরির ঘাটতি, অবসরজনিত শূন্যপদ এবং প্রশাসনিক পরিবর্তনের কারণে বিভিন্ন দফতরে নতুন নিয়োগের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। ফলে আসামে চাকরিপ্রার্থী সংখ্যা এবং সরকারি চাকরির প্রতিশ্রুতি—দুটিই এখন রাজনীতির পাশাপাশি প্রশাসনিক আলোচনার কেন্দ্রে।

বিধানসভায় উঠে এল সরকারি চাকরির হিসাব

আসামে চাকরিপ্রার্থী সংক্রান্ত সর্বশেষ সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত ডিরেক্টরেট অব স্কিল, এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড এন্টারপ্রেনারশিপে ১৫,৪৩,৩৫০ জন সক্রিয়ভাবে নথিভুক্ত ছিলেন । এর মধ্যে ১৪,৬৭,১৭১ জন দক্ষ এবং ৭৬,১৭৯ জন অদক্ষ চাকরিপ্রার্থী বলে সরকার জানিয়েছে । এই পরিসংখ্যান রাজ্যের কর্মসংস্থানের চাহিদা কতটা বড়, তা স্পষ্ট করে। শুধু নতুন শিক্ষিত যুবক নয়, দক্ষতা-ভিত্তিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বিপুল সংখ্যক মানুষও সরকারি বা আধা-সরকারি সুযোগের অপেক্ষায় আছেন।

Skill, Employment and Entrepreneurship Minister Prasanta Phukan বিধানসভায় জানান, চলতি বছরে আরও ৩,৫৫,৭৪১টি নতুন নিবন্ধন হয়েছে । এই সংখ্যা ইঙ্গিত করে, কর্মসংস্থানের চাপ কমছে না; বরং নিয়মিত বাড়ছে। রাজ্যের জন্য এটা শুধু পরিসংখ্যান নয়, নীতিনির্ধারণের বড় সংকেত। কারণ, চাকরিপ্রার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে প্রতিটি নতুন নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, গতি এবং আঞ্চলিক ভারসাম্য বজায় রাখা আরও জরুরি হয়ে পড়ে ।

লাখ সরকারি চাকরির টাস্ক ফোর্স

আসামে চাকরিপ্রার্থী নিয়ে সরকারি উদ্বেগের সঙ্গে মিলিয়ে সরকার ২ লাখ সরকারি চাকরির লক্ষ্যকে এগিয়ে নিতে বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করেছে। ২০২৬ সালের ১৯ মে এই টাস্ক ফোর্স গঠিত হয়, যার নেতৃত্বে আছেন মুখ্যসচিব । পরে বাজেট আলোচনাতেও জানানো হয়, বিভিন্ন দফতর, বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, statutory body, society, Sixth Schedule council এবং সরকারের অংশীদারিত্ব আছে এমন সংস্থায় নিয়োগের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে ।

টাস্ক ফোর্সকে তিন মাসের মধ্যে একটি বিস্তারিত রোডম্যাপ জমা দিতে বলা হয়েছে, যাতে বছরভিত্তিক অবসর, grade-wise vacancy এবং direct recruitment slots বিচার করে নিয়োগের পরিকল্পনা তৈরি করা যায় । Assam Government-এর মতে, এই প্রক্রিয়ায় শুধু নতুন পদ সৃষ্টি নয়, বিদ্যমান পদে promotions দ্রুত করাও লক্ষ্য, যাতে নিচের স্তরে আরও শূন্যপদ তৈরি হয় । এটি দেখাচ্ছে যে ২ লাখ চাকরির পরিকল্পনাটি কেবল ঘোষণার মধ্যে সীমিত নয়, বরং প্রশাসনিক কাঠামোর ভেতরে একটি দীর্ঘমেয়াদি রোডম্যাপের অংশ।

আগের নিয়োগ আর নতুন চাপে সাম্প্রতিক চিত্র

আসামে চাকরিপ্রার্থী সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার পেছনে আরেকটি বাস্তবতা হলো, গত কয়েক বছরে নিয়োগ হলেও চাহিদা এখনও অনেক বেশি। সরকারের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে ১.৬৪ লাখের বেশি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা আগে ঘোষিত লক্ষ্যের একটি বড় অংশ পূরণ করেছে । তবে এত নিয়োগ সত্ত্বেও নতুন চাকরিপ্রার্থীর সংখ্যা কমেনি। বরং ২০২৬ সালে নতুন নিবন্ধন ৩.৫৫ লাখে পৌঁছেছে, যা দেখায়, প্রতি বছর কর্মবাজারে আসা যুবকের সংখ্যা ব্যাপকভাবে বাড়ছে ।

এই চিত্র রাজ্যের উন্নয়ন নীতি, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচির ওপরও চাপ সৃষ্টি করছে। একদিকে সরকার বলছে, সরকারি চাকরি বাড়ানোর পাশাপাশি CMAAA ও অন্যান্য আত্মনির্ভর প্রকল্পের মাধ্যমে স্ব-কর্মসংস্থান বাড়ানো হবে । অন্যদিকে, পরিবারগুলো এখনও সরকারি চাকরিকেই স্থিতিশীল আয়ের মূল ভরসা বলে দেখছে। ফলে আসামে চাকরিপ্রার্থী প্রসঙ্গটি কেবল দফতরিক হিসাব নয়; এটি সামাজিক প্রত্যাশা, তরুণ প্রজন্মের উদ্বেগ এবং রাজ্যের দীর্ঘমেয়াদি মানবসম্পদ পরিকল্পনার প্রশ্নও বটে।

বরাক উপত্যকা হাইলাকান্দির দৃষ্টিভঙ্গি

আসামে চাকরিপ্রার্থী সংক্রান্ত এই তথ্য বরাক উপত্যকার জন্যও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। হাইলাকান্দি, কাছাড় ও করিমগঞ্জে অনেক তরুণ-তরুণী সরকারি চাকরি, স্কুলশিক্ষকতা, স্বাস্থ্যকর্মী, ক্লার্কশিপ, এবং অন্যান্য state-level recruitment-এর জন্য অপেক্ষা করছেন। লালা টাউন ও আশপাশের এলাকার শিক্ষিত যুবকদের কাছেও এই খবর তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ নিয়োগ-প্রক্রিয়া দ্রুত হলে দূরবর্তী এলাকার প্রার্থীরাও উপকৃত হতে পারেন। তবে বাস্তবে অনেকেই এখনো মনে করেন, জেলা-ভিত্তিক প্রস্তুতি, কোচিং সুবিধা এবং তথ্যপ্রাপ্তিতে আঞ্চলিক বৈষম্য রয়ে গেছে।

বরাক উপত্যকার ক্ষেত্রে আরেকটি দিক হলো, অনেক প্রার্থী উচ্চশিক্ষা শেষ করেও স্থানীয় কর্মসংস্থান না পেয়ে শিলচর বা রাজ্যের বাইরে কাজ খুঁজতে বাধ্য হন। তাই ২ লাখ সরকারি চাকরির রোডম্যাপ যদি সত্যিই পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়িত হয়, তবে তা লালা টাউনের মতো ছোট জনপদেও আশার বার্তা দিতে পারে। বিশেষ করে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, গ্রামীণ প্রশাসন ও স্থানীয় দফতরভিত্তিক পদে নিয়োগ হলে আঞ্চলিক ভারসাম্য কিছুটা হলেও তৈরি হতে পারে।

আসামে চাকরিপ্রার্থী সংখ্যা বাড়তে থাকা এবং ২ লাখ সরকারি চাকরির লক্ষ্য—দুটোই এখন একসঙ্গে বাস্তবতা ও প্রতিশ্রুতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগামী তিন মাসে টাস্ক ফোর্সের রিপোর্ট কীভাবে সামনে আসে, সেটাই ঠিক করবে এই পরিকল্পনা কেবল কাগজে থাকবে, না কি সত্যিই নিয়োগের গতিতে পরিবর্তন আনবে। রাজ্যের যুবসমাজের কাছে প্রশ্ন একটাই—ঘোষণার পর বাস্তব চাকরি কবে।

আসামে চাকরিপ্রার্থী ১৫.৪৩ লাখ, ২ লাখ চাকরির পরিকল্পনা
Scroll to top