অসমের রাজধানী গুয়াহাটি থেকে থাইল্যান্डের রাজধানী ব্যাংকক পর্যন্ত সরাসরি বিমান পরিষেবা চালু হতে চলেছে আগামী ২৭ অক্টোবর থেকে। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বৃহস্পতিবার, ২৮ আগস্ট এই তথ্য জানিয়ে বলেছেন যে, ইন্ডিগো এয়ারলাইন্স এই নতুন রুটে বিমান পরিষেবা পরিচালনা করবে। সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ প্রকাশিত এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, “গুয়াহাটি আরও দূরে উড়ছে! দুবাই এবং আবু ধাবির পর, এখন ব্যাংকক” ।
গুয়াহাটি ব্যাংকক সরাসরি বিমান রুটের বিস্তারিত তথ্য
মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা তাঁর পোস্টে আরও উল্লেখ করেছেন, “২৭ অক্টোবর থেকে ইন্ডিগো গুয়াহাটিকে সরাসরি ব্যাংককের সাথে সংযুক্ত করবে, যা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় আরেকটি প্রবেশদ্বার খুলে দেবে এবং পর্যটন, বাণিজ্য ও যাত্রায় নতুন গতি সঞ্চার করবে” । এই নতুন সংযোগ গুয়াহাটিকে উত্তর-পূর্ব ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, এই রুটটি চালু হলে গুয়াহাটি থেকে ব্যাংককের দূরত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে সহজতর হয়ে উঠবে, যা বর্তমানে বিভিন্ন সংযোগকারী ফ্লাইটের মাধ্যমে পরিভ্রমণ করতে হয়। ইটিভি ভারতের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ঘোষণাটি অসমের আন্তর্জাতিক সংযোগ সম্প্রসারণের ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার একটি অংশ, যেখানে ইতিমধ্যে দুবাই এবং আবু ধাবির সাথে সরাসরি বিমান সংযোগ চালু রয়েছে ।
দুবাই ও আবু ধাবির পর নতুন সাফল্যের ধারা
গুয়াহাটি থেকে দুবাই এবং আবু ধাবির মধ্যে সরাসরি বিমান পরিষেবা ইতিমধ্যে চালু রয়েছে, যা উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রথম সরাসরি উপসাগরীয় সংযোগ হিসেবে বিবেচিত হয়। এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের তথ্য অনুযায়ী, এই দুটি রুটই প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা সময় নেয় এবং এগুলো “উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রথম সরাসরি গালফ লিঙ্ক” হিসেবে পরিচিত । এই সাফল্যের ভিত্তিতেই এখন ব্যাংককের সাথে সংযোগ স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
বর্তমানে গুয়াহাটি থেকে দুবাই পর্যন্ত প্রতিদিন প্রায় ৫৫টি বিমান পরিচালিত হয়, যার মধ্যে এয়ার ইন্ডিয়া, এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস এবং ইন্ডিগো উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে। এই পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, আন্তর্জাতিক রুটে যাত্রীদের চাহিদা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং গুয়াহাটি বিমানবন্দর ধীরে ধীরে একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক হাব হিসেবে গড়ে উঠছে ।
অসমের পর্যটন ও বাণিজ্যে সম্ভাব্য প্রভাব
মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার মতে, ব্যাংককের সাথে সরাসরি সংযোগ স্থাপিত হলে এটি অসমের পর্যটন, বাণিজ্য এবং যাত্রা ক্ষেত্রে ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সাথে সরাসরি সংযোগ থাকার ফলে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, রপ্তানিকারক এবং পর্যটন সংস্থাগুলো নতুন সুযোগ খুঁজে পাবে। থাইল্যান্ড দীর্ঘদিন ধরেই ভারতীয় পর্যটকদের কাছে একটি জনপ্রিয় গন্তব্যস্থল, এবং সরাসরি ফ্লাইট চালু হলে ভ্রমণের সময় ও খরচ দুটোই উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
এভিয়েশন উইক-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্স তাদের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে এশিয়ার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরের মধ্যে নতুন সংযোগ স্থাপন করছে, এবং গুয়াহাটি-ব্যাংকক রুট এই প্রবৃদ্ধির একটি উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে ।
বরাক উপত্যকা ও হাইলাকান্দির জন্য এই সংযোগের গুরুত্ব
গুয়াহাটি বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক সংযোগ সম্প্রসারণের এই খবর হাইলাকান্দি জেলা এবং বরাক উপত্যকার বাসিন্দাদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। যদিও শিলচর বিমানবন্দর থেকে সরাসরি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট এখনও সীমিত, তবে বরাক উপত্যকার বহু বাসিন্দা ব্যবসা, শিক্ষা এবং পর্যটনের জন্য গুয়াহাটি বিমানবন্দর ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক যাত্রা করেন। ব্যাংকক এবং অন্যান্য দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশের সাথে সরাসরি সংযোগ স্থাপিত হলে হাইলাকান্দি ও ললা টাউনের ব্যবসায়ী এবং শিক্ষার্থীদের জন্যও যাত্রা সহজতর হবে।
এছাড়া, একই দিনে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা গুয়াহাটি-দিল্লি রেল রুটকে চার-ট্র্যাক সংযোগে উন্নীত করার ঘোষণাও দিয়েছেন, যা যাত্রী ও পণ্য পরিবহন ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই দুটি উদ্যোগ একসাথে অসমের সামগ্রিক পরিবহন অবকাঠামোর উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে, যার সুফল বরাক উপত্যকার বাসিন্দারাও পরোক্ষভাবে ভোগ করবেন ।
ভবিষ্যতের পরিকল্পনা ও প্রত্যাশা
গুয়াহাটি-ব্যাংকক রুট চালু হওয়ার পর অসম সরকার ভবিষ্যতে আরও নতুন আন্তর্জাতিক রুট যুক্ত করার পরিকল্পনা করছে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর বিবৃতি থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, দুবাই ও আবু ধাবির পর এখন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দিকে অসম সরকারের দৃষ্টি প্রসারিত হচ্ছে, যা রাজ্যের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আগামী দিনগুলোতে এই নতুন রুটের যাত্রী চাহিদা এবং বাণিজ্যিক সাফল্য কীভাবে বিকশিত হয়, তার দিকে নজর থাকবে সবার। যদি এই রুট প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জন করে, তবে ভবিষ্যতে গুয়াহাটি থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আরও গন্তব্যে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে, যা সামগ্রিকভাবে অসম ও উত্তর-পূর্ব ভারতের অর্থনৈতিক ও পর্যটন খাতের জন্য একটি ইতিবাচক দিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।