Read today's news --> ⚡️Click here 

জোড়াবাট অবরোধ তৃতীয় দিনে, আজ কৈনাধরায় সমাধানের চেষ্টা

জোড়াবাট অবরোধ তৃতীয় দিনে গড়িয়েছে শনিবার, ২২ আগস্ট, এবং একই দিনে অসম ও মেঘালয়ের প্রতিনিধিরা গুয়াহাটির কৈনাধরা সরকারি অতিথিশালায় বেলা সাড়ে ১১টায় উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসছেন এই অচলাবস্থা কাটাতে। শিলংয়ে খাসি স্টুডেন্টস ইউনিয়নের (কেএসইউ) বাইক র‍্যালি ঘিরে সহিংসতার জেরে শুরু হওয়া এই অবরোধ ক্রমেই জটিল রূপ নিচ্ছে, কারণ মেঘালয়ের বিভিন্ন প্রান্তে নতুন করে অগ্নিসংযোগ ও পেট্রোল বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে ।

অসমের সীমান্ত সুরক্ষা মন্ত্রী অতুল বরা এবং মেঘালয়ের উপমুখ্যমন্ত্রী স্নিয়াবলাং ধর আজকের এই বৈঠকে মুখোমুখি হবেন, যা মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা ও কনরাড কে. সাংমার মধ্যে বৃহস্পতিবারের ফোনালাপের পর প্রথম সরাসরি প্রশাসনিক পর্যায়ের আলোচনা । শিলং টাইমস একে “কৈনাধরা পরীক্ষা” বলে অভিহিত করেছে, কারণ এই বৈঠকের ফলাফলের ওপরই নির্ভর করছে দুই রাজ্যের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমিত হবে কিনা ।

অবরোধের বাস্তব চিত্র নতুন জটিলতা

জোড়াবাট ও খানাপাড়ায় গুয়াহাটিভিত্তিক ক্যাব চালক ও পরিবহন শ্রমিকরা টানা তৃতীয় দিনের মতো ১২৭ নম্বর জাতীয় সড়কে মেঘালয়-নিবন্ধিত যানবাহনের চলাচল রুদ্ধ করে রেখেছেন। শুক্রবার পর্যন্ত পরিস্থিতি ছিল—জোড়াবাটে যাত্রীদের নামিয়ে দিয়ে অসমের ট্যাক্সিতে যাত্রা চালিয়ে যেতে বাধ্য করা হচ্ছিল, আর মেঘালয়ের ট্যাক্সিগুলোকে গুয়াহাটি থেকে যাত্রী ছাড়াই ফিরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হচ্ছিল। তবে অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি পরিষেবার গাড়িগুলোকে এই অবরোধ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে ।

পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে মেঘালয়ের বারাপানিতে পাল্টা অবরোধ, যেখানে মেঘালয়ের ক্যাব চালকরা অসম-নিবন্ধিত কোনো গাড়িকে শিলংয়ে প্রবেশ করতে দিচ্ছেন না। এই “পাল্টা-অবরোধ” পরিস্থিতিকে একপ্রকার সংঘাতমূলক অচলাবস্থায় পরিণত করেছে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি । অল ইন্ডিয়া রোড ট্রান্সপোর্ট ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক বীরেন শর্মা বলেন, “এটি শিলংয়ে ঘটা প্রথম এমন ঘটনা নয়। অসমের যানবাহন অতীতেও একই ধরনের হামলার শিকার হয়েছে। প্রতিটি সংগঠনের প্রতিবাদ করার অধিকার আছে, কিন্তু তারা সাধারণ মানুষ ও যানবাহনের ওপর হামলা চালাতে পারে না। মেঘালয় সরকারকে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে” ।

জ্বালানি সরবরাহও বন্ধ, বাড়ছে অর্থনৈতিক চাপ

অবরোধের প্রভাব এখন শুধু যাত্রী পরিবহনেই সীমাবদ্ধ নেই। নর্থ ইস্ট পেট্রোলিয়াম মজদুর ইউনিয়ন ঘোষণা করেছে যে শান্তি প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত তারা মেঘালয়গামী জ্বালানি পণ্যের লোডিং-আনলোডিং অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখবে । এর ফলে মেঘালয়ে জ্বালানি সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে কেবল পরিবহন সমস্যা থেকে একটি বৃহত্তর অর্থনৈতিক উদ্বেগে রূপান্তরিত করছে।

অসমের সীমান্ত সুরক্ষা মন্ত্রী অতুল বরা সাংবাদিকদের বলেন, “এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং আমরা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছি। আমাদের মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই তার প্রতিপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছেন, এবং আমরা মেঘালয়ের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি যাতে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসে এবং সেখানে আটকে পড়া আমাদের মানুষ নিরাপদে ফিরে আসতে পারেন” । তিনি আরও জানান, উপমুখ্যমন্ত্রী স্নিয়াবলাং ধরের সঙ্গে তার ইতিমধ্যে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে।

মেঘালয়ে ছড়িয়ে পড়া অগ্নিসংযোগের ঘটনা

গত ২৪ ঘণ্টায় মেঘালয়ের বিভিন্ন প্রান্তে সরকারি সম্পত্তিতে নতুন করে অগ্নিসংযোগ ও পেট্রোল বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে, যদিও এতে কেউ আহত হননি বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। বুধবারের বাইক র‍্যালি সহিংসতা থেকে শুরু হওয়া এই অস্থিরতা এখন শিলংয়ের বাইরে রাজ্যের অন্যান্য অংশেও ছড়িয়ে পড়েছে, যা প্রশাসনের জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ।

এই পরিস্থিতিতে দুই মুখ্যমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উপমুখ্যমন্ত্রী ধর ও মন্ত্রী বরাকে যৌথভাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য। দুই সরকারের লক্ষ্য যাত্রী ও পরিবহন কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ও পরিষেবার নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখা ।

বরাক উপত্যকা হাইলাকান্দির জন্য প্রাসঙ্গিকতা

জোড়াবাট অবরোধ দীর্ঘায়িত হলে তার প্রভাব শুধু গুয়াহাটি-শিলং করিডরে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরাক উপত্যকা, বিশেষ করে হাইলাকান্দি ও লালা টাউনের বহু বাসিন্দা প্রতি বছর শিক্ষা, চিকিৎসা ও পর্যটনের জন্য শিলং যাতায়াত করেন, এবং তাদের অনেকেই গুয়াহাটি হয়েই মেঘালয়ে প্রবেশ করেন। জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ থাকা এবং যানবাহন চলাচলে বিধিনিষেধ দীর্ঘস্থায়ী হলে তা বরাক উপত্যকা থেকে মেঘালয়গামী যাত্রী ও পরিবহন ব্যবসায়ীদের জন্যও বাড়তি ভোগান্তির কারণ হতে পারে।

স্থানীয় পরিবহন সংগঠন ও নিয়মিত যাত্রীদের উচিত আজকের কৈনাধরা বৈঠকের ফলাফলের দিকে নজর রাখা, কারণ এই বৈঠকেই নির্ধারিত হতে পারে কবে নাগাদ গুয়াহাটি-শিলং যাতায়াত পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে। মেঘালয়গামী যাত্রা পরিকল্পনা থাকলে বর্তমানে বিকল্প পথ বা সময়সূচি বিবেচনা করাই সমীচীন হবে।

এখন কী প্রত্যাশিত

আজকের কৈনাধরা বৈঠক এই সংকট সমাধানের প্রথম বাস্তব পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বৈঠকে ফলপ্রসূ সিদ্ধান্ত না এলে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ থাকা, পাল্টাপাল্টি অবরোধ এবং মেঘালয়ে ছড়িয়ে পড়া অগ্নিসংযোগের ঘটনা—এই তিনটি বিষয় একত্রে পরিস্থিতিকে আরও সংকটময় করে তুলতে পারে।

আগামী কয়েক ঘণ্টায় মন্ত্রী অতুল বরা ও উপমুখ্যমন্ত্রী স্নিয়াবলাং ধরের আলোচনা থেকে কী সিদ্ধান্ত বেরিয়ে আসে, তার ওপরই নির্ভর করবে জোড়াবাট ও খানাপাড়ায় অবরোধ প্রত্যাহার হবে কিনা এবং দুই রাজ্যের মধ্যে যাতায়াত কত দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে। ততক্ষণ পর্যন্ত যাত্রী, পরিবহন ব্যবসায়ী ও দুই রাজ্যের সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের জন্য অপেক্ষা আর সতর্কতাই একমাত্র পথ।

জোড়াবাট অবরোধ তৃতীয় দিনে, আজ কৈনাধরায় সমাধানের চেষ্টা
Scroll to top