লামডিং বদরপুর ট্রেন চলাচল এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি, কারণ নিউ হারাঙ্গাজাও স্টেশনের কাছে ট্র্যাক বসে যাওয়ার পর মেরামতির কাজ চলছে। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল বা NFR জানিয়েছে, লাইন-১ ও লাইন-২ মেরামত শেষ না হওয়ায় আপাতত ট্রেন চলাচল লাইন-৩ দিয়ে বাড়তি নিরাপত্তা বিধি মেনে হচ্ছে । এ কারণে ৪ ও ৫ আগস্টের জন্য আবারও একাধিক ট্রেন বাতিল, সময় বদল ও নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে, যা বরাক উপত্যকার যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়িয়েছে ।
কী কারণে আবারও সময়সূচি বদল
NFR-এর সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ৪ আগস্টের গুয়াহাটি-শিলচর এক্সপ্রেস (১৫৬১৫) এবং ৫ আগস্টের শিলচর-গুয়াহাটি এক্সপ্রেস (১৫৬১৬) বাতিল করা হয়েছে । একইসঙ্গে নারাঙ্গি-আগরতলা, আগরতলা-নারাঙ্গি, গুয়াহাটি-সাইরাং, সাইরাং-গুয়াহাটি, রাঙিয়া-শিলচর, শিলচর-রাঙিয়া, শিলচর-কোয়েম্বাটোর এবং ডেগর-আগরতলা এক্সপ্রেসে সময় পরিবর্তন বা পথে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে । রেল কর্তৃপক্ষের ভাষায়, পাহাড়ি অংশে নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে স্বাভাবিক গতিতে ট্রেন চালানো সম্ভব নয় ।
মূল সমস্যা তৈরি হয়েছে নিউ হারাঙ্গাজাও অঞ্চলে মাটি বসে যাওয়ার কারণে। গত কয়েকদিন ধরে ওই অংশে ধস সরিয়ে ট্র্যাক স্থিতিশীল করার কাজ চলছে, আর সে কারণেই নিয়মিত বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ট্রেন চলাচলের নতুন তালিকা প্রকাশ করতে হচ্ছে । রেল সূত্র বলছে, যাত্রীদের নিরাপত্তাই আপাতত প্রথম অগ্রাধিকার, তাই রাতের নির্দিষ্ট সময়ে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল সীমিত রাখা হয়েছে ।
কোন কোন ট্রেন প্রভাবিত
নতুন তালিকায় ১৫৬৫০ নারাঙ্গি-আগরতলা এক্সপ্রেস ৪ আগস্ট রাত ১০টা ৩০ মিনিটে ছাড়বে, আর ১৫৬৪৯ আগরতলা-নারাঙ্গি এক্সপ্রেস রাত ১১টা ৩০ মিনিটে যাত্রা শুরু করবে । ১৫৬০৯ গুয়াহাটি-সাইরাং এক্সপ্রেস ৪ আগস্ট রাত ১১টা ৩০ মিনিটে, ১৫৬১০ সাইরাং-গুয়াহাটি এক্সপ্রেস রাত ৯টা ৩০ মিনিটে ছাড়বে । ১৫৬১১ রাঙিয়া-শিলচর এক্সপ্রেসের সময়ও রাত ১১টা ৩০ মিনিটে বদলেছে, আর ১৫৬১২ শিলচর-রাঙিয়া এক্সপ্রেস ৫ আগস্ট ভোর ৫টায় রওনা দেবে ।
এছাড়া ১৫৬২৮ শিলচর-কোয়েম্বাটোর এক্সপ্রেস ৫ আগস্ট ভোর ৪টা ১০ মিনিটে ছাড়বে, এবং ১৫৬২৫ ডিগর-আগরতলা এক্সপ্রেস পথে উপযুক্তভাবে নিয়ন্ত্রিত হবে । এর আগে ১ ও ২ আগস্টেও একই কারণে একাধিক ট্রেন বাতিল ও পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছিল । তাই একটানা কয়েকদিন ধরে যাত্রীদের যাত্রা পরিকল্পনা বারবার বদলাতে হচ্ছে।
মেরামতির কাজ কতটা এগিয়েছে
রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিউ হারাঙ্গাজাওয়ের লাইন-১ ও লাইন-২ বসে যাওয়ার পর ট্র্যাকের স্থিতি ফেরাতে কাজ চলছে, আর আপাতত সমস্ত গাড়ি লাইন-৩ দিয়ে চালানো হচ্ছে । এই লাইনে বাড়তি সুরক্ষা ও গতি-নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে, যাতে মেরামতি শেষ না হওয়া পর্যন্ত বড় কোনও ঝুঁকি না তৈরি হয় । রেলওয়ের পুরনো অভিজ্ঞতা বলছে, এমন পাহাড়ি অংশে ধস বা মাটি বসে যাওয়ার পরে স্বাভাবিক পরিষেবা ফিরতে কয়েকদিন থেকে কয়েক সপ্তাহও লাগতে পারে ।
২০২৫ সালের জুনে একই হিল সেকশনে বড় ধরনের ভূমিধসের পর NFR প্রায় ২৫টিরও বেশি ভারী যন্ত্র ও প্রায় ২০০ কর্মী নিয়ে কাজ করেছিল । তখনও প্রায় ৮০ শতাংশ মেরামতি সম্পন্ন হওয়ার খবর আসে এবং পরে পরিষেবা স্বাভাবিক হয়েছিল । বর্তমান পরিস্থিতিতেও একই ধরনের ধাপে ধাপে পুনরুদ্ধার মডেল অনুসরণ করা হচ্ছে বলে বোঝা যাচ্ছে।
বরাক উপত্যকায় এর প্রভাব
লামডিং বদরপুর ট্রেন চলাচল বরাক উপত্যকার জন্য জীবনরেখার মতো। শিলচর, কাছাড়, হাইলাকান্দি এবং করিমগঞ্জের বহু যাত্রী চিকিৎসা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও ব্যবসার জন্য এই রুটের ওপর নির্ভরশীল। লালা টাউন ও আশপাশের মানুষও শিলচর-গুয়াহাটি, শিলচর-রাঙিয়া বা শিলচর-কোয়েম্বাটোর ট্রেনের সময়সূচির ওপর নির্ভর করে যাতায়াত পরিকল্পনা করেন। তাই একাধিক ট্রেন বাতিল বা সময় পরিবর্তন মানে শুধু বিলম্ব নয়, অনেকের জন্য মিসড অ্যাপয়েন্টমেন্ট, পরীক্ষায় দেরি, বা পণ্য পরিবহনে ক্ষতি l
স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও জানাচ্ছেন, ট্রেনের অনিশ্চয়তার ফলে মালপত্র আনা-নেওয়ায় সমস্যা হচ্ছে। বিশেষত বরাক উপত্যকা থেকে অসমের বাকি অংশ ও ত্রিপুরা-মিজোরামের সঙ্গে যোগাযোগে এই রেলপথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে যাত্রীদের জন্য আগেভাগে রেল বিজ্ঞপ্তি দেখে যাত্রা পরিকল্পনা করা এখন প্রায় বাধ্যতামূলক হয়ে উঠেছে।
সামনে কী দেখার আছে
এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, মেরামতি কত দ্রুত শেষ হয় এবং NFR কবে পূর্ণ নিরাপত্তা নিয়ে স্বাভাবিক পরিষেবা ফেরাতে পারে। যদি আগামী কয়েকদিন আবহাওয়া অনুকূল থাকে এবং ট্র্যাক স্থিতিশীলকরণ কাজ এগোয়, তবে বিধিনিষেধ ধীরে ধীরে কমতে পারে। কিন্তু পাহাড়ি রুটে ছোট একটি সেটলমেন্টও বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে, তাই রেলের সতর্কতা আপাতত স্বাভাবিক বলেই ধরা হচ্ছে। যাত্রীদের জন্য আপডেটকৃত সময়সূচি মেনে চলা এবং ভ্রমণের আগে স্টেশন বা সরকারি রেল বিজ্ঞপ্তি যাচাই করাই সবচেয়ে নিরাপদ পদক্ষেপ।