ভারী বৃষ্টির কারণে মাটি ক্ষয়ের ঘটনায় কাটাখাল বৈরাবি রেল বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাবে হাইলাকান্দি স্টেশন থেকে একাধিক ট্রেন সংক্ষিপ্তভাবে সমাপ্ত ও বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে (NFR)। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়, ৩ সেপ্টেম্বর অসমের জামিরা এবং মিজোরামের বৈরাবির মধ্যবর্তী প্রায় ৭০ মিটার দীর্ঘ রেললাইন মাটি ক্ষয়ের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
কাটাখাল বৈরাবি রেল বিপর্যয়ের বিস্তারিত ঘটনাক্রম
NFR-এর মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কপিঞ্জল কিশোর শর্মা জানিয়েছেন, “জামিরা ও বৈরাবির মধ্যবর্তী কাটাখাল-বৈরাবি সেকশনের রেললাইন ৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ভারী বৃষ্টির ফলে মাটি ক্ষয়ের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।” ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সরাসরি সড়ক যোগাযোগ না থাকায় পুনরুদ্ধার কাজে অতিরিক্ত জটিলতা তৈরি হয়েছে, এবং সাইট পরিস্থিতি ও প্রবেশযোগ্যতার সীমাবদ্ধতা বিবেচনা করে সম্পূর্ণ পুনরুদ্ধারে কিছু সময় লাগতে পারে বলে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে ।
এই বিপর্যয়ের ফলে ট্রেন নং ১৫৬১০ (সাইরাং-গুয়াহাটি) এক্সপ্রেস বৈরাবিতে সংক্ষিপ্তভাবে সমাপ্ত করে সাইরাংয়ে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও ট্রেন নং ৫৫৬৬৭ (শিলচর-বৈরাবি) প্যাসেঞ্জার ট্রেন জামিরাতে সংক্ষিপ্তভাবে সমাপ্ত হয়েছে এবং পরদিন জামিরা থেকেই ফিরতি যাত্রা শুরু করবে বলে জানানো হয়েছে ।
হাইলাকান্দি থেকে ট্রেন বাতিলের প্রত্যক্ষ প্রভাব
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই বিপর্যয়ের সরাসরি প্রভাব পড়েছে হাইলাকান্দি স্টেশনের উপর। শর্মা জানিয়েছেন, “ট্রেন নং ১৫৬০৯ (গুয়াহাটি-সাইরাং) হাইলাকান্দিতে সংক্ষিপ্তভাবে সমাপ্ত হয়েছে এবং হাইলাকান্দি থেকে সাইরাং পর্যন্ত অংশে বাতিল থাকবে” ৪ সেপ্টেম্বর যাত্রা শুরু করার কথা থাকা সাইরাং-গুয়াহাটি এক্সপ্রেসও হাইলাকান্দি থেকে সংক্ষিপ্তভাবে যাত্রা শুরু করবে এবং সাইরাং থেকে হাইলাকান্দি পর্যন্ত অংশে বাতিল থাকবে ।
সাইরাং-আনন্দ বিহার টার্মিনাল এক্সপ্রেসও হাইলাকান্দি থেকে সংক্ষিপ্তভাবে যাত্রা শুরু করবে এবং সাইরাং থেকে হাইলাকান্দি পর্যন্ত অংশে বাতিল থাকবে । এছাড়াও ৪ সেপ্টেম্বর যাত্রা শুরু করার কথা থাকা ট্রেন নং ৫৫৬৬৮ (বৈরাবি-শিলচর), ট্রেন নং ১৩১২৬ (সাইরাং-কলকাতা) এবং ট্রেন নং ৫৫৬৬৯ (শিলচর-সাইরাং) সম্পূর্ণভাবে বাতিল থাকবে বলে জানানো হয়েছে ।
আটকে পড়া যাত্রীদের জন্য NFR-এর জরুরি ব্যবস্থা
এই বিপর্যয়ের ফলে সাইরাং থেকে আইজলগামী প্রায় ৯০০ যাত্রী আটকা পড়েছেন। শর্মা জানিয়েছেন, “সাইরাং থেকে আইজল যাওয়ার জন্য আটকে পড়া প্রায় ৯০০ যাত্রীর যাত্রা সহজতর করার জন্য সড়ক পরিবহনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যাত্রীদের তাদের গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার জন্য সাইরাংয়ে মোট ১৬টি বাস মোতায়েন করা হয়েছে” ।
বৈরাবির দিকে ভ্রমণকারী যাত্রীদের জন্যও বিকল্প সড়ক যান ব্যবস্থার ব্যবস্থা করা হয়েছে। NFR জামিরা, বৈরাবি এবং সাইরাং স্টেশনে আটকে পড়া যাত্রীদের জন্য পানীয় জল ও লাইট রিফ্রেশমেন্টের ব্যবস্থাও করেছে। এছাড়াও গুয়াহাটি, লামডিং, নাহারলাগুন, বদরপুর এবং সাইরাংয়ে যাত্রীদের রিয়েল-টাইম তথ্য, টিকেটিং সহায়তা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের জন্য নিবেদিত হেল্পডেস্ক স্থাপন করা হয়েছে ।
যাত্রীদের জন্য হেল্পলাইন নম্বর ও যোগাযোগের তথ্য
আটকে পড়া যাত্রীদের সহায়তা ও তথ্য প্রদানের জন্য NFR নির্দিষ্ট হেল্পলাইন নম্বর প্রকাশ করেছে। ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বদরপুরে যাত্রীরা ০৩৮৪৩-২৬৮৪২৪, ২৬৯৫৪৭, ২৬৯৫৪৬ এবং ২৬৯৫৪৮ নম্বরে যোগাযোগ করতে পারবেন, এবং লামডিংয়ে ০৩৬৭৪-২৬৩৮৫৮, ২৬৩৮৩১ এবং ২৬৫৯৫৮ নম্বরে যোগাযোগের সুযোগ রয়েছে ।
এই হেল্পলাইনগুলো বরাক উপত্যকা ও হাইলাকান্দির যাত্রীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তারা তাদের যাত্রা সংক্রান্ত সর্বশেষ তথ্য এবং বিকল্প ব্যবস্থা সম্পর্কে সরাসরি জানতে পারবেন। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, তারা পরিস্থিতি ক্রমাগত পর্যবেক্ষণ করছে এবং যাত্রীদের সহায়তায় সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
হাইলাকান্দি ও বরাক উপত্যকার জন্য এই বিপর্যয়ের বিশেষ তাৎপর্য
হাইলাকান্দি জেলা সদর স্টেশন হিসেবে এই ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকায়, স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য এই বিপর্যয় বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। ললা টাউন এবং আশেপাশের এলাকার বাসিন্দারা যারা মিজোরামে যাতায়াত করেন বা সাইরাং-গুয়াহাটি রুটে নিয়মিত যাত্রা করেন, তাদের জন্য এই বিপর্যয় সরাসরি দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটেছে যখন লামডিং-বদরপুর সেকশনেও নিউ হারাঙ্গাজাওয়ে ট্র্যাক পুনরুদ্ধারের কাজ চলছিল, যা বরাক উপত্যকার সামগ্রিক রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে একসাথে দুটি দিক থেকে চাপের মুখে ফেলেছে। স্থানীয় যাত্রীদের জন্য এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ হলো, যাত্রার আগে NFR-এর সর্বশেষ ঘোষণা যাচাই করে নেওয়া এবং প্রয়োজনে হেল্পলাইন নম্বরে যোগাযোগ করা।
আগামী দিনের প্রত্যাশা ও পুনরুদ্ধারের অগ্রগতি
রেলওয়ে কর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছেন এবং কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানিয়েছে NFR। যদিও সাইটের প্রবেশযোগ্যতার সীমাবদ্ধতার কারণে সম্পূর্ণ পুনরুদ্ধারে কিছুটা সময় লাগতে পারে, তবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দ্রুততম সময়ে স্বাভাবিক ট্রেন পরিষেবা পুনরুদ্ধারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
আগামী কয়েক দিনের মধ্যে NFR-এর পক্ষ থেকে আরও বিস্তারিত পুনরুদ্ধার অগ্রগতির তথ্য প্রকাশিত হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। ততদিন পর্যন্ত হাইলাকান্দি ও বরাক উপত্যকার যাত্রীদের রেলওয়ের নিয়মিত আপডেটের দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখা এবং প্রয়োজনে বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থার কথা বিবেচনা করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।