আসাম স্টেট স্কুল এডুকেশন বোর্ড (ASSEB) দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির নিয়মিত ক্লাসের সময়সীমা বৃদ্ধি করেছে, যা বন্যা ও চলমান গণনার কাজের কারণে ব্যাহত শিক্ষাকালীন সূচি পুনরুদ্ধারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। বোর্ড ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ তারিখে জারি করা একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে যে দশম শ্রেণির ক্লাস ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৭ পর্যন্ত এবং দ্বাদশ শ্রেণির ক্লাস ৮ মার্চ, ২০২৭ পর্যন্ত চলবে, যাতে নির্ধারিত পাঠ্যসূচি সম্পূর্ণ করা যায় । আসাম বোর্ড ক্লাস এক্সটেনশন এই ঘোষণা রাজ্যের হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ খবর, বিশেষত হাইলাকান্দি জেলার মতো বন্যাপ্রবণ এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য।
আসাম বোর্ড ক্লাস এক্সটেনশনের বিস্তারিত বিবরণ
বোর্ডের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে যে সাম্প্রতিক বন্যা ও চলমান গণনা প্রক্রিয়ার কারণে শিক্ষাকালীন সূচি এতটাই ব্যাহত হয়েছে যে দশম শ্রেণির পাঠ্যসূচি ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহের মধ্যে এবং দ্বাদশ শ্রেণির পাঠ্যসূচি ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সম্পূর্ণ করার সম্ভাবনা নেই । এই পরিস্থিতি বিবেচনা করে বোর্ড সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে দশম শ্রেণির নিয়মিত ক্লাস ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৭ পর্যন্ত এবং দ্বাদশ শ্রেণির ক্লাস ৮ মার্চ, ২০২৭ পর্যন্ত চলবে।
এই এক্সটেনশন মূলত সেইসব জেলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ যেখানে বন্যার কারণে স্কুল বন্ধ ছিল এবং শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ক্লাস করতে পারেনি । বোর্ডের বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে এইচএসএলসি (HSLC) পরীক্ষা এবং উচ্চ মাধ্যমিক চূড়ান্ত পরীক্ষার সময়সূচি এই পরিবর্তিত ক্লাসের সময়সীমা বিবেচনা করে পরবর্তী সময়ে নির্ধারণ করা হবে ।
বন্যা ও গণনার প্রভাব শিক্ষাকালীন সূচিতে
আসামে সাম্প্রতিক বন্যায় চারটি জেলা—মরিগাঁও, শিবসাগর, বিশ্বনাথ ও নগাঁও—প্রভাবিত হয়েছে, যেখানে ১৩৭টি গ্রাম প্লাবিত এবং ৩০,৬০১ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে । আসামে নতুন করে বন্যার কবলে পড়ে সাতটি জেলার ২৫,০৮৩ জন মানুষ প্রভাবিত হয়েছে এবং ১৩টি ত্রাণ শিবির স্থাপন করা হয়েছে । এই পরিস্থিতি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতিতে গুরুতর প্রভাব ফেলেছে।
আসামে ২০২৭ সালের গণনার প্রথম পর্যায় ২ আগস্ট থেকে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত স্ব-গণনা এবং ১৭ আগস্ট থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ি তালিকাকরণ ও আবাসন গণনা চলছে, যা শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়ের জন্যই একটি ব্যস্ত সময় তৈরি করেছে । এই দুটি কারণ—বন্যা ও গণনা—মিলে শিক্ষাকালীন সূচিকে এতটাই ব্যাহত করেছে যে পাঠ্যসূচি সম্পূর্ণকরণের জন্য অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজন হয়েছে।
হাইলাকান্দি ও বরাক উপত্যকার শিক্ষার্থীদের জন্য এর তাৎপর্য
হাইলাকান্দি জেলা বরাক উপত্যকার একটি অংশ হিসেবে বন্যাপ্রবণ এলাকা, এবং এই জেলার শিক্ষার্থীরাও এই ক্লাস এক্সটেনশন থেকে উপকৃত হবেন। লালা টাউন ও হাইলাকান্দির যেসব স্কুলে দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করছেন, তাদের জন্য এই অতিরিক্ত সময় পাঠ্যসূচি সম্পূর্ণ করতে এবং পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে সহায়ক হবে। বিশেষত যেসব শিক্ষার্থী বন্যার কারণে কয়েক সপ্তাহ স্কুলে যেতে পারেনি, তাদের জন্য এই এক্সটেনশন একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।
আসামের বিভিন্ন জেলায় বন্যার প্রভাব ভিন্ন ভিন্ন ছিল, এবং কিছু জেলায় শিক্ষাকালীন ক্ষতি অন্যগুলোর তুলনায় বেশি হয়েছে । হাইলাকান্দি জেলার শিক্ষার্থীরাও যদি বন্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে, তবে এই ক্লাস এক্সটেনশন তাদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় শিক্ষক ও অভিভাবকদের জন্য এখন গুরুত্বপূর্ণ হলো এই অতিরিক্ত সময়টি শিক্ষার্থীদের পাঠ্যসূচি সম্পূর্ণ করতে এবং পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা।
২০২৭ এইচএসএলসি পরীক্ষার সময়সূচি নিয়ে প্রত্যাশা
বোর্ড স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে এইচএসএলসি পরীক্ষা এবং উচ্চ মাধ্যমিক চূড়ান্ত পরীক্ষার সময়সূচি পরিবর্তিত ক্লাসের সময়সীমা বিবেচনা করে পরবর্তী সময়ে নির্ধারণ করা হবে । এই ঘোষণা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে একটি প্রশ্ন তুলেছে যে পরীক্ষার তারিখ কতটা পিছিয়ে যেতে পারে। সাধারণত আসামে এইচএসএলসি পরীক্ষা ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত হয়, এবং এই ক্লাস এক্সটেনশনের পর পরীক্ষার তারিখ মার্চ-এপ্রিল মাসে সরে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বোর্ডের এই সিদ্ধান্ত শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক সকলের জন্যই একটি স্বস্তির খবর, কারণ এটি নিশ্চিত করে যে পাঠ্যসূচি সম্পূর্ণ করার পরই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে । হাইলাকান্দি জেলার শিক্ষার্থীদের জন্য এখন গুরুত্বপূর্ণ হলো বোর্ডের পরবর্তী বিজ্ঞপ্তির দিকে নজর রাখা, যেখানে পরীক্ষার নির্দিষ্ট তারিখ ও সময়সূচি ঘোষণা করা হবে।
আগামী দিনের পরিকল্পনা ও শিক্ষার্থীদের জন্য পরামর্শ
আসাম বোর্ড ক্লাস এক্সটেনশনের এই সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সুযোগ তৈরি করেছে যাতে তারা পাঠ্যসূচি সম্পূর্ণ করতে এবং পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে অতিরিক্ত সময় পায়। হাইলাকান্দি ও লালা টাউনের শিক্ষার্থীদের জন্য এখন গুরুত্বপূর্ণ হলো এই অতিরিক্ত সময়টি কার্যকরভাবে ব্যবহার করা, বিশেষত যেসব শিক্ষার্থী বন্যার কারণে পেছনে পড়ে গেছে।
স্থানীয় শিক্ষক ও স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আশা করা যায় যে তারা এই অতিরিক্ত সময়ে শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ক্লাস, রিভিশন সেশন এবং মক টেস্টের ব্যবস্থা করবেন। বোর্ডের পরবর্তী বিজ্ঞপ্তি, যেখানে এইচএসএলসি ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হবে, তার দিকেই এখন নজর থাকবে রাজ্যের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের। এই ক্লাস এক্সটেনশন প্রমাণ করে যে বোর্ড শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত স্বার্থকে প্রাধান্য দিচ্ছে এবং বন্যা ও গণনার মতো অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিতেও শিক্ষার্থীদের পাঠ্যসূচি সম্পূর্ণ করার ব্যবস্থা নিচ্ছে।