অসমের প্রাক্তন কংগ্রেস নেত্রী ও বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সদস্য সুষ্মিতা দেব রাজ্যসভা পদত্যাগ করেছেন। মঙ্গলবার (১০ জুন) তাঁর এই সিদ্ধান্ত সামনে আসে এবং একই দিনে তিনি অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এই ঘটনাকে ঘিরে অসমের রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে যে, তিনি শীঘ্রই বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন।
সুষ্মিতা দেব রাজ্যসভা পদত্যাগের এই সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কারণ, তিনি একসময় বরাক উপত্যকার অন্যতম প্রভাবশালী মুখ হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার পরও তাঁর প্রভাব বজায় ছিল। হঠাৎ করে পদত্যাগ ও মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মোড় আনতে পারে।
হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সঙ্গে সাক্ষাৎ: জল্পনার কেন্দ্রবিন্দু
স্থানীয় সূত্র এবং আঞ্চলিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সুষ্মিতা দেব গুয়াহাটিতে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সঙ্গে বৈঠক করেন। যদিও বৈঠকের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি, তবে রাজনৈতিক মহলে এই সাক্ষাৎকে বিজেপিতে সম্ভাব্য যোগদানের পূর্বাভাস হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অসম বিজেপির কয়েকজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “রাজনীতিতে পরিবর্তন স্বাভাবিক বিষয়, এবং সুষ্মিতা দেবের মতো নেত্রী যোগ দিলে দলের শক্তি বাড়বে।” যদিও এই বিষয়ে সুষ্মিতা দেব বা বিজেপির পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
তৃণমূল কংগ্রেসের অবস্থান ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
সুষ্মিতা দেব ২০২১ সালে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন এবং পরবর্তীতে রাজ্যসভায় পাঠানো হয়। তাঁর পদত্যাগের পর তৃণমূল কংগ্রেস এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি, তবে দলীয় সূত্রে অসন্তোষের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর-পূর্ব ভারতে তৃণমূল কংগ্রেসের সংগঠন এখনও দুর্বল, এবং এই পরিস্থিতিতে একজন গুরুত্বপূর্ণ নেত্রীর প্রস্থান দলের জন্য ধাক্কা হতে পারে। অন্যদিকে বিজেপি এই সুযোগকে কাজে লাগাতে চাইবে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
অসমে আগামী সময়ে রাজনৈতিক সমীকরণ আরও বদলাতে পারে এবং বিভিন্ন দল নিজেদের শক্তি বাড়াতে সক্রিয় হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে সুষ্মিতা দেবের পদক্ষেপকে একটি বড় পরিবর্তনের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বরাক উপত্যকা ও লালা টাউনের প্রভাব
সুষ্মিতা দেব বরাক উপত্যকার রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় ছিলেন, বিশেষ করে শিলচর ও হাইলাকান্দি অঞ্চলে তাঁর প্রভাব রয়েছে। তাই তাঁর সুষ্মিতা দেব রাজ্যসভা পদত্যাগের সিদ্ধান্ত লালা টাউন ও আশেপাশের এলাকায় রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, যদি তিনি বিজেপিতে যোগ দেন, তবে বরাক উপত্যকার ভোট সমীকরণে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে হাইলাকান্দি জেলার লালা টাউনের মতো এলাকায় দলীয় সমর্থনের পুনর্বিন্যাস হতে পারে।
এছাড়া, স্থানীয় স্তরে তৃণমূল কংগ্রেসের সংগঠন আরও দুর্বল হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা আগামী নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে।
ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ইঙ্গিত
বর্তমানে সুষ্মিতা দেব রাজ্যসভা পদত্যাগ এবং তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। তিনি বিজেপিতে যোগ দেবেন কি না, তা নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও ঘটনাপ্রবাহ সেই দিকেই ইঙ্গিত করছে।
আগামী কয়েকদিনে তাঁর পরবর্তী পদক্ষেপ স্পষ্ট হতে পারে এবং তা অসম তথা উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। রাজনৈতিক মহল এখন নজর রাখছে তাঁর সিদ্ধান্তের দিকে, যা ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সমীকরণ নির্ধারণে বড় ভূমিকা নিতে পারে।