Read today's news --> ⚡️Click here 

গুয়াহাটি স্কুলে AI ডিপফেক কাণ্ডে তিন ছাত্র বরখাস্ত, ৬৪ জনের ছবি বিকৃত

গুয়াহাটি স্কুলে AI ডিপফেক কাণ্ড এখন অসম জুড়ে চর্চার কেন্দ্রে। গুয়াহাটির দুটি নামকরা বেসরকারি বিদ্যালয়ের কমপক্ষে তিনজন ছাত্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে তারা AI সরঞ্জাম ব্যবহার করে ৬৪ জন ছাত্রী ও শিক্ষকের অশ্লীল ডিপফেক ছবি ও ভিডিও তৈরি করে অনলাইনে ছড়িয়েছে। ঘটনা সামনে আসতেই অসম পুলিশের Crime Branch তদন্ত শুরু করেছে এবং মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা সকলকে তাড়াহুড়ো করে কোনো সিদ্ধান্তে না পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

দুটি স্কুল হলো দিল্লি পাবলিক স্কুল (DPS) এবং সেন্ট ফ্রান্সিস ডি সেলস (SFS) স্কুল। অভিযোগ, ছাত্ররা এই বিদ্যালয়গুলোর Instagram অ্যাকাউন্ট থেকে ছবি সংগ্রহ করে AI সফটওয়্যার দিয়ে বিকৃত করে এবং সেই কন্টেন্ট Telegram-সহ বিভিন্ন মেসেজিং প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে দেয়। তদন্তকারীরা আরও জানতে পেরেছেন যে এই ছবিগুলো অর্থের বিনিময়ে বিক্রিও করা হয়েছে বলে দাবি রয়েছে।

কীভাবে সামনে এল গুয়াহাটি স্কুলে AI ডিপফেক কাণ্ড

SFS স্কুল জানিয়েছে, ১১ জুন বিষয়টি তাদের নজরে আসে এবং তারা সঙ্গে সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব প্রক্রিয়া সক্রিয় করে। বিষয়টি Child Abuse Monitoring Committee (CAMC)-তে পাঠানো হয়েছে এবং প্রাথমিক তদন্ত চলছে। যে ছাত্ররা এই কাজে সরাসরি জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত হয়েছে, তাদের তদন্ত শেষ হওয়া পর্যন্ত বরখাস্ত রাখা হয়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ অভিভাবকদের সঙ্গেও বৈঠক করেছে এবং cyber misconduct, bullying ও digital platform-এর অপব্যবহারের বিরুদ্ধে তাদের zero-tolerance নীতির কথা পুনরায় স্মরণ করিয়ে দিয়েছে।

দুই বিদ্যালয়ের তিনজন ছাত্র ৬৪ জন ছাত্রী ও শিক্ষকের Instagram-এর ছবি সংগ্রহ করে AI দিয়ে বিকৃত করেছে এবং সেই কন্টেন্ট অনলাইনে বিক্রি করেছে বলে অভিযোগ। এই ঘটনার গভীরতা ও বিস্তার স্কুল কর্তৃপক্ষ থেকে শুরু করে অভিভাবক মহল পর্যন্ত সবাইকে হতবাক করেছে।

CM হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সতর্কতার আহ্বান

মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা শনিবার সাংবাদিকদের বলেন, “নকল ভিডিও তৈরি ও ছড়ানো সত্যিই উদ্বেগজনক। শিক্ষা বিভাগের পক্ষ থেকে আমরা পুলিশের তদন্ত শেষ হওয়ার অপেক্ষায় থাকব।” তিনি আরও বলেন, “অনেক সময় প্রাথমিক তথ্য সঠিক নাও হতে পারে। তাই পুলিশ রিপোর্ট ও তাদের দেওয়া সুনির্দিষ্ট তথ্যের আগে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত হবে না।”

Crime Branch-এর Joint Commissioner of Police অঙ্কুর জৈন জানান, “বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল, তাই সব দিক থেকে তদন্ত করা হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “অভিযুক্ত ও ভুক্তভোগী উভয়পক্ষই নাবালক হওয়ায় এই মুহূর্তে সব তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়।” উভয় বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে তদন্তকারীরা ইতিমধ্যেই কথা বলেছেন।

অসম পুলিশের সাইবার তদন্ত আইনি প্রক্রিয়া

গুয়াহাটি স্কুলে AI ডিপফেক কাণ্ডে অসম পুলিশের Crime Branch প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ শুরু করেছে। ছবিগুলোর উৎস, কোন AI সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়েছে, কোন প্ল্যাটফর্মে আপলোড ও শেয়ার করা হয়েছে এবং অর্থের বিনিময়ে বিক্রির অভিযোগ কতটা সত্য—এই সব বিষয়ে তদন্ত চলছে।

ভারতে এর আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটুরে একজন ছাত্র AI দিয়ে ২৪ জন ছাত্রীর morphed ছবি তৈরি করে fake Instagram account-এ পোস্ট করে। তার বিরুদ্ধে IT Act Section 67A এবং Bharatiya Nyaya Sanhita Section 75(1)(iii) ধারায় মামলা দায়ের হয়। অসমেও এই ধরনের আইনি ধারায় মামলা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সাইবার আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

উল্লেখযোগ্য, এই ঘটনার মাত্র কয়েক দিন আগে, ৯ জুন, অসম পুলিশ সামাজিক মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের ছবি ও তথ্য শেয়ারের বিরুদ্ধে সতর্কতা জারি করেছিল। সেই সতর্কবার্তায় বলা হয়েছিল, শিশুদের ছবি AI দিয়ে বিকৃত করে child sexual abuse material (CSAM) তৈরি করা, grooming এবং sextortion-এর মতো অপরাধে ব্যবহার হতে পারে।

বরাক উপত্যকা লালা টাউনের জন্য সতর্কবার্তা

গুয়াহাটি স্কুলে AI ডিপফেক কাণ্ড শুধু ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় নয়, বরাক উপত্যকার হাইলাকান্দি, কাছাড় ও করিমগঞ্জের অভিভাবক ও শিক্ষকদের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত। লালা টাউনের মতো জায়গায় স্মার্টফোন ও সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে এবং স্কুলপড়ুয়া শিশুরাও Instagram, WhatsApp ও Telegram ব্যবহার করছে। এই পরিস্থিতিতে সন্তানের অনলাইন কার্যকলাপ সম্পর্কে অভিভাবকদের সচেতন থাকাটা আর শুধু ইচ্ছার বিষয় নয়—এটি এখন জরুরি।

অসম পুলিশ ইতিমধ্যেই সতর্ক করেছে যে স্কুলের বার্ষিকী, পুরস্কার অনুষ্ঠান বা দলগত ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করার আগে দুবার ভাবতে হবে। বরাক উপত্যকার স্কুলগুলোতেও cyber safety নীতি এবং digital literacy শিক্ষার প্রসার এখন সময়ের দাবি।

ডিপফেক: সমাজের জন্য ক্রমবর্ধমান বিপদ

এই ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়। ভারত জুড়ে AI-নির্মিত ডিপফেক কন্টেন্টের মাধ্যমে হেনস্থার ঘটনা বাড়ছে। গুয়াহাটি স্কুলে AI ডিপফেক কাণ্ডের আগেও, ২০২৬ সালের মার্চে অসম পুলিশের DGP হরমিত সিংহের পরিচয় ব্যবহার করে একটি AI-নির্মিত ভিডিও ছড়ানো হয়েছিল। সেই ঘটনায় পুলিশ আইনি ব্যবস্থা নেয়।

এই প্রেক্ষাপটে স্কুলের মতো সংবেদনশীল পরিবেশে এমন অপরাধ ঘটলে তা মানসিক স্বাস্থ্য, পারিবারিক সম্পর্ক এবং শিক্ষার পরিবেশে গভীর আঘাত হানে। তদন্ত যত এগোবে, তত স্পষ্ট হবে এই কাজে কতটা পরিকল্পনা ছিল এবং আইনি পরিণতি কতটা কঠোর হবে। এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল যে digital literacy এবং সাইবার নিরাপত্তা শিক্ষা এখন স্কুল পাঠ্যক্রমের অবিচ্ছেদ্য অংশ হওয়া দরকার, এবং অভিভাবক থেকে শিক্ষক—সবাইকে এই বিষয়ে সমানভাবে সচেতন হতে হবে।

গুয়াহাটি স্কুলে AI ডিপফেক কাণ্ডে তিন ছাত্র বরখাস্ত, ৬৪ জনের ছবি বিকৃত
Scroll to top