Read today's news --> ⚡️Click here 

অসম CM হিমন্ত মিয়া মন্তব্য মামলা: দিল্লি কোর্ট নোটিশ, ১৫ জুলাই জবাব

দিল্লি হাইকোর্ট অসমের মুখ্যমন্ত্রী ডা. হিমন্ত বিশ্ব শর্মাকে নোটিশ জারি করল। ২০২৬ সালের মে মাসে “Miya” শব্দ ব্যবহারের মামলায় মুখ্যমন্ত্রীকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত জবাব দিতে বলা হয়েছে। অসম CM হিমন্ত মিয়া মন্তব্য মামলায় এই নোটিশ জারি হয়েছে। বিচারপতি সঞ্জীব গাম্ভীর্যের বেঞ্চ মামলাটি শুনানি করে নোটিশ জারি করেন।

দিল্লি কোর্ট নোটিশ: মামলার প্রেক্ষাপট

দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি সঞ্জীব গাম্ভীর্যের বেঞ্চ মামলাটি বিবেচনা করে বলেন, “এই মামলায় গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্ন রয়েছে।” মামলার আবেদনকারী ছিলেন একজন আইনজীবী, যিনি দাবি করেন যে “Miya” শব্দটি ব্যবহার করে মুখ্যমন্ত্রী একটি সম্প্রদায়ের প্রতি অপমানিত করেছেন।

Assam Tribune-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মামলাটি ২০২১ সালে অসম বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে দায়ের করা হয়েছিল। সে সময় মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, “Miya প্রোলেটারিয়েট” সম্পর্কে কিছু কথা। এই মন্তব্যের ওপর ভিত্তি করে মামলা দায়ের করা হয়।

বিচারপতি সঞ্জীব গাম্ভীর্য বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীকে নোটিশ জারি করা হচ্ছে। ১৫ জুলাই পর্যন্ত জবাব দিতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “আগামী ১৫ জুলাই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।”

হিমন্ত বিশ্ব শর্মার মন্তব্য: প্রেক্ষাপট বিতর্ক

২০২১ সালে অসম বিধানসভায় হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেছিলেন, “Miya প্রোলেটারিয়েট শ্রমিক শ্রেণীর অংশ।” এই মন্তব্যের পর থেকে বিতর্ক শুরু হয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠন এই মন্তব্যের সমালোচনা করে।

মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, “মুখ্যমন্ত্রী কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি অপমানিত করেননি। তিনি শুধু শ্রমিক শ্রেণীর কথা বলেছিলেন।” অসমের বিজেপি সাংসদরাও মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষে রুখে দাঁড়ায়।

বিজেপি নেতা বরুণ গান্ধী বলেন, “হিমন্ত বিশ্ব শর্মা কোনোভাবেই কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি অপমানিত করেননি। মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।” তিনি আরও বলেন, “অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি সব সম্প্রদায়ের প্রতি সম্মান দেখিয়েছেন।”

আসামের রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

অসমের বিরোধী দলগুলির প্রতিক্রিয়া তীব্র। Congress নেতা ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মার মন্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, “এই মন্তব্যটি সম্প্রদায়বিদ্বেষী।” তিনি আরও বলেন, “অসম সরকারের উচিত এই মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাওয়া।”

AIUDF নেতা বদরুদ্দিন আজমল বলেন, “Miya শব্দটি ব্যবহার করে মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি অপমানিত করা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “অসম সরকারের উচিত এই মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাওয়া এবং ভবিষ্যতে এমন মন্তব্য থেকে বিরত থাকতে হবে।”

Raijor Dal নেতা অখিল গগৈ বলেন, “এই মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তবে মুখ্যমন্ত্রীর উচিত সাবধানে কথা বলতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “অসমের সব সম্প্রদায়ের প্রতি সম্মান দেখানো প্রয়োজন।”

বরাক উপত্যকা লালা টাউনের প্রতিক্রিয়া

বরাক উপত্যকার হাইলাকান্দি জেলা ও লালা টাউনে অসম CM হিমন্ত মিয়া মন্তব্য মামলার প্রতিক্রিয়া মিশ্র। হাইলাকান্দির একজন স্থানীয় নেতা বলেন, “আমরা সব সম্প্রদায়ের প্রতি সম্মান দেখাতে চাই। এমন মন্তব্য সম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করে।”

লালা টাউনের একজন শিক্ষক বলেন, “Miya শব্দটি ব্যবহার করে কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি অপমানিত করা উচিত নয়। অসমের সব সম্প্রদায়ের প্রতি সম্মান দেখানো প্রয়োজন।” তিনি আরও বলেন, “হিমন্ত বিশ্ব শর্মার উচিত ক্ষমা চাওয়া।”

হাইলাকান্দি জেলার একজন মুসলিম নেতা বলেন, “এই মামলাটি আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের সম্প্রদায়ের প্রতি সম্মান দেখানো প্রয়োজন।” তিনি আরও বলেন, “দিল্লি কোর্টের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করছি।”

ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ আইনি প্রক্রিয়া

দিল্লি হাইকোর্ট ১৫ জুলাই মামলার পরবর্তী শুনানি নির্ধারণ করেছে। মুখ্যমন্ত্রীকে এই তারিখের মধ্যে জবাব দিতে হবে। যদি মুখ্যমন্ত্রী জবাব না দেন, তাহলে কোর্ট আরও কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মামলায় মুখ্যমন্ত্রীর জবাব দেওয়া জরুরি। আইনজীবী অরুণ ফাগু বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর উচিত জবাব দিয়ে মামলার প্রেক্ষাপট স্পষ্ট করা।” তিনি আরও বলেন, “যদি মন্তব্যটি সত্যি হয়, তাহলে ক্ষমা চাওয়া ভালো হবে।”

অসম CM হিমন্ত মিয়া মন্তব্য মামলায় দিল্লি হাইকোর্ট নোটিশ জারি করল। ১৫ জুলাই পর্যন্ত জবাব দিতে হবে। আসামের রাজনীতিতে এই মামলা বড় বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। বরাক উপত্যকা ও লালা টাউনেও এই মামলার প্রতিক্রিয়া মিশ্র। কোর্টের পরবর্তী সিদ্ধান্তের অপেক্ষা চলছে।

অসম CM হিমন্ত মিয়া মন্তব্য মামলা: দিল্লি কোর্ট নোটিশ, ১৫ জুলাই জবাব
Scroll to top