Read today's news --> ⚡️Click here 

মণিপুরি অ্যানিমেশন ফিল্ম MIFF 2026-এ জাতীয় প্রতিযোগিতায়, বনের কাহিনিতে পরিবেশের বার্তা

মণিপুরি অ্যানিমেশন ফিল্ম MIFF 2026-এর জাতীয় প্রতিযোগিতায় জায়গা করে নিয়েছে। পরিচালক ত্রিশূল ইউমনাম ও ইয়াসো শর্মার ১৫ মিনিটের অ্যানিমেশন চলচ্চিত্র ‘স্টোরি অব আ ফরেস্ট’ ১৯তম মুম্বই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের (MIFF) জাতীয় অ্যানিমেশন প্রতিযোগিতায় নির্বাচিত ১৫টি চলচ্চিত্রের মধ্যে একটি। ভারত সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের অধীনে National Film Development Corporation (NFDC) আয়োজিত এই উৎসব ১৫ থেকে ২১ জুন ২০২৬ পর্যন্ত মুম্বাইয়ের NFDC কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। উত্তর-পূর্ব ভারত থেকে এই ধরনের আন্তর্জাতিক মঞ্চে পৌঁছানো বিরল ঘটনা, এবং ‘স্টোরি অব আ ফরেস্ট’ সেই পথ আরও প্রশস্ত করল।

চলচ্চিত্রের কাহিনি: বনের মধ্যে এক অলৌকিক অভিযান

‘স্টোরি অব আ ফরেস্ট’ চলচ্চিত্রটি ইম্ফল উপত্যকার কুয়াশাঢাকা পাহাড়ের পটভূমিতে তৈরি। গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র আয়াঙ্গবা — একটি ছোট ছেলে, যে অধৈর্য ও নিজেকে প্রমাণ করার তীব্র আকাঙ্ক্ষায় কোচ ও বন্ধুদের নিষেধ অমান্য করে ঘন জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে নিষিদ্ধ পথে যাত্রা করে। এই পদক্ষেপে সে প্রকৃতির সূক্ষ্ম ভারসাম্যকে বিপর্যস্ত করে ফেলে।

জঙ্গলের গভীরে গিয়ে আয়াঙ্গবা এক রহস্যময় জগতে প্রবেশ করে, যেখানে বন নিজেই জীবন্ত হয়ে ওঠে। সেখানে সে এক অলৌকিক প্রাণীর সাথে দেখা করে, যে আলো ও প্রকৃতির সুতোয় বোনা। তাদের মধ্যে একটি অসাধারণ ফুটবল খেলা হয়, যার মধ্য দিয়ে আয়াঙ্গবা বুঝতে পারে — প্রকৃতি জয় করার বিষয় নয়, বরং প্রকৃতির সাথে সহাবস্থানই মানুষের পথ। চলচ্চিত্রটিকে “দৃশ্যকাব্যিক ও গভীর প্রতিধ্বনিসম্পন্ন” একটি কাজ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যা শৈশবের কৌতূহল ও পরিবেশ সচেতনতার এক সর্বজনীন বার্তা বহন করে।

MIFF 2026: উত্তর-পূর্ব ভারতের জন্য বিশেষ স্বীকৃতি

মণিপুরি অ্যানিমেশন ফিল্ম MIFF 2026-এ সুযোগ পাওয়াটি কেবল একটি চলচ্চিত্রের সাফল্য নয়, এটি উত্তর-পূর্ব ভারতের চলচ্চিত্র শিল্পের জন্যও একটি বিশেষ মুহূর্ত। এই বছরের MIFF উৎসবে প্রথমবারের মতো “Echoes from Northeast” নামে একটি বিশেষ কিউরেটেড বিভাগ চালু করা হয়েছে, যার লক্ষ্য উত্তর-পূর্ব ভারতের আঞ্চলিক চলচ্চিত্র প্রতিভাকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরা। NFDC-র অফিসিয়াল ঘোষণা অনুযায়ী, এই বিভাগটি আঞ্চলিক সিনেমার কণ্ঠস্বরকে স্পটলাইটে আনার জন্য কিউরেট করা হয়েছে।

এই বছর ৪৬টি দেশ থেকে মোট ৩৪৬টি চলচ্চিত্র MIFF 2026-এ প্রদর্শিত হচ্ছে। উৎসবে মোট ১,৪৫৯টি এন্ট্রি জমা পড়েছিল, যার মধ্যে থেকে প্রতিযোগিতা বিভাগে ১৪৪টি চলচ্চিত্র নির্বাচিত হয়েছে — ১৩টি দেশ থেকে ৫২টি আন্তর্জাতিক এবং ৯২টি জাতীয় এন্ট্রি। এই বিশাল প্রতিযোগিতায় ‘স্টোরি অব আ ফরেস্ট’-এর নির্বাচন মণিপুরের চলচ্চিত্র মানচিত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।

উৎসবে মোট পুরস্কার তহবিল ৪৫ লক্ষ টাকা, এবং সেরা ডকুমেন্টারি ফিল্মের জন্য গোল্ডেন কনক ও ১০ লক্ষ টাকা পুরস্কার রাখা হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন বিভাগে সিলভার কনক ও ক্যাশ পুরস্কার রয়েছে। মহারাষ্ট্রের সাংস্কৃতিক বিষয়ক মন্ত্রী আশিষ শেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বলেন, “আমি মনে করি এই তিনটি ধরনের চলচ্চিত্র নির্মাণ নিজেই একটি চ্যালেঞ্জ,” এবং MIFF-এর আঞ্চলিক ভাষার চলচ্চিত্র অন্তর্ভুক্তির প্রশংসা করেন।

অসম বরাক উপত্যকার প্রাসঙ্গিকতা

‘স্টোরি অব আ ফরেস্ট’-এর এই সাফল্য শুধু মণিপুর নয়, অসম, হাইলাকান্দি ও বরাক উপত্যকার শিল্পমনস্ক মানুষদের কাছেও অনুপ্রেরণার উৎস। চলচ্চিত্রটির মূল বিষয়বস্তু — পরিবেশ সংরক্ষণ ও প্রকৃতির সাথে মানবিক সম্পর্ক — বরাক উপত্যকার বনাঞ্চল ও জীববৈচিত্র্যের সাথে গভীরভাবে সম্পর্কিত। হাইলাকান্দি জেলার লালা টাউনসহ বরাক উপত্যকার বেশিরভাগ অঞ্চলেই চা বাগান, পাহাড় ও বনের সাথে মানুষের নিত্য সহাবস্থান রয়েছে।

এই ধরনের অ্যানিমেশন চলচ্চিত্র উত্তর-পূর্ব ভারতের স্থানীয় শিল্প ও সংস্কৃতির প্রতি জাতীয় মনোযোগ আনতে সাহায্য করে। অসম ও বরাক উপত্যকার তরুণ চলচ্চিত্র নির্মাতা ও অ্যানিমেটরদের জন্য এটি একটি স্পষ্ট বার্তা — আঞ্চলিক গল্প ও স্থানীয় সংস্কৃতিকে ভিত্তি করেও জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে পৌঁছানো সম্ভব।

‘স্টোরি অব আ ফরেস্ট’-এর নির্বাচন প্রমাণ করে যে উত্তর-পূর্ব ভারতের চলচ্চিত্র শিল্প ধীরে ধীরে জাতীয় মূলধারায় নিজের স্থান দৃঢ় করছে। মণিপুরের এই অ্যানিমেশন চলচ্চিত্রটি MIFF 2026-এর প্রতিযোগিতায় কীভাবে মূল্যায়িত হয়, এবং পরিবেশ-সচেতনতার এই বার্তা দেশের বৃহত্তর দর্শকের কাছে কতটা পৌঁছায় — সেটাই এখন দেখার বিষয়। উৎসব ২১ জুন শেষ হওয়ার পর পুরস্কারের ফলাফল জানা যাবে।

মণিপুরি অ্যানিমেশন ফিল্ম MIFF 2026-এ জাতীয় প্রতিযোগিতায়, বনের কাহিনিতে পরিবেশের বার্তা
Scroll to top