আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ৩০ মে ২০২৬ তারিখে নয়া দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। হিমন্ত বিশ্ব শর্মা মোদি বৈঠকে আসামে NDA 3.0 সরকারের প্রথম কয়েক সপ্তাহের কাজের অগ্রগতি বিশদভাবে তুলে ধরেন। এই বৈঠক রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারের মধ্যে চলমান কৌশলগত সমন্বয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। গত ১২ মে দ্বিতীয় মেয়াদে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর এটি হিমন্ত শর্মার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক।
বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X-এ লেখেন, “আসামে NDA 3.0 সরকার যে ‘headstart’ করছে, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে বিস্তারিত জানিয়েছি।” তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর অবিরাম সমর্থন ও দিকনির্দেশনার জন্য তিনি কৃতজ্ঞ এবং আগামী দিনেও এই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদী। PTI-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরও নিশ্চিত করেছে যে শর্মা মোদির সঙ্গে দেখা করে নবগঠিত সরকারের উন্নয়নের গতিপ্রকৃতি জানিয়েছেন।
NDA 3.0 সরকারের প্রথম পদক্ষেপ ও অগ্রাধিকার
মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে শপথ নেওয়ার পর থেকে আসামের NDA সরকার দ্রুত বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ নিয়েছে। সরকারের প্রথম সপ্তাহগুলিতে প্রশাসনিক পুনর্গঠন, কল্যাণমূলক প্রকল্পের পর্যালোচনা এবং কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করার কাজ শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শর্মা প্রধানমন্ত্রীকে এই “headstart”-এর বিস্তারিত জানিয়েছেন, যা কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস ও সমন্বয়ের প্রতিফলন।
এছাড়াও মুখ্যমন্ত্রী শর্মা কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের সঙ্গেও আলাদাভাবে বৈঠক করেছেন। সেই বৈঠকে গত পাঁচ বছরে কেন্দ্র থেকে আসামকে দেওয়া আর্থিক সহায়তার জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং রাজ্যের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের রোডম্যাপ নিয়ে আলোচনা করেন। শর্মা গুয়াহাটিতে নবনির্মিত শ্যামা প্রসাদ মুখার্জি ফ্লাইওভারও উদ্বোধন করেছেন, যা শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করবে।
আসাম সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও কল্যাণমুখী কর্মসূচি
হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নেতৃত্বে আসাম সরকার স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পরিকাঠামো ও ডিজিটাল প্রশাসনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। আয়ুষ্মান ভারত, জল জীবন মিশন, PM আবাস যোজনা এবং উজ্জ্বলা যোজনার মতো কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির বাস্তবায়নে আসাম দেশে শীর্ষস্থানীয় রাজ্যগুলির মধ্যে স্থান করে নিয়েছে। এছাড়াও ‘মিশন বসুন্ধরা’ ও ‘অমৃত বৃক্ষ আন্দোলন’-এর মতো উদ্যোগ রাজ্যে নাগরিকমুখী শাসনের নতুন মাত্রা এনেছে।
মুখ্যমন্ত্রী শর্মার দ্বিতীয় মেয়াদে রাজ্যের সামাজিক-অর্থনৈতিক সূচকগুলি আরও উন্নত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, নারীর ক্ষমতায়ন এবং যুবকদের কর্মসংস্থানে বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হবে। নবগঠিত সরকার দ্রুততার সঙ্গে তার প্রশাসনিক অগ্রাধিকারগুলি নির্ধারণ করছে, যা মোদির সঙ্গে বৈঠকেও আলোচিত হয়েছে।
বরাক উপত্যকা ও হাইলাকান্দির প্রেক্ষাপট
হিমন্ত বিশ্ব শর্মা মোদি বৈঠকের ফলাফল বরাক উপত্যকা ও হাইলাকান্দি জেলার জন্যও বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। প্রধানমন্ত্রী ইতিপূর্বে সিলচরে ২৩,৫৫০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন করেছিলেন, যার মধ্যে রয়েছে সিলচর হাই-স্পিড করিডোর ও সিলচর টাউন ফ্লাইওভার। গুয়াহাটি থেকে সিলচরের দূরত্ব কমিয়ে আনতে ১৬৬ কিলোমিটারের এই উচ্চ-গতির করিডোর প্রকল্প এগিয়ে চলেছে, যা যাত্রার সময় ৮.৫ ঘণ্টা থেকে কমিয়ে প্রায় ৫ ঘণ্টায় নিয়ে আসবে।
লালা টাউন ও হাইলাকান্দি জেলার মানুষ সরাসরি এই উন্নয়নের সুবিধাভোগী। সংযোগ উন্নত হলে ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়বে, স্বাস্থ্যসেবায় যাওয়া সহজ হবে এবং কৃষিপণ্যের বাজারে প্রবেশাধিকার প্রসারিত হবে। এছাড়াও কেন্দ্রীয় কল্যাণমূলক প্রকল্পগুলির বাস্তবায়নে জেলাস্তরে আরও গতি আসবে বলে স্থানীয় মহল আশাবাদী।
কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক ও ভবিষ্যতের পথ
মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদির এই বৈঠক কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের শক্তিশালী ভিত্তিরই প্রমাণ। নতুন মেয়াদের শুরুতেই এই ধরনের উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠক ইঙ্গিত দেয় যে আসামের উন্নয়নে কেন্দ্রীয় সমর্থন অটুট থাকবে। আসামের মতো উত্তর-পূর্বের একটি সীমান্তবর্তী রাজ্যে প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের গতি বজায় রাখা জাতীয় নিরাপত্তার দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ।
আগামী মাসগুলিতে আসাম সরকার তার বাজেট বরাদ্দ, নতুন প্রকল্প ঘোষণা এবং কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির বাস্তবায়নের অগ্রগতি প্রকাশ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হিমন্ত বিশ্ব শর্মা মোদি বৈঠকে যে প্রতিশ্রুতি ও পরিকল্পনা উঠে এসেছে, সেগুলো মাঠ পর্যায়ে কতটা বাস্তবে রূপ নেয় — তার উপরেই নির্ভর করবে রাজ্যের সামগ্রিক উন্নয়নের ধারা।