আসাম বন্যপ্রাণী পর্যটন এলাকার স্থানীয় অর্থনীতিকে উন্নত করছে। মানস জাতীয় উদ্যান ও পোবিতরা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে গত বছর দর্শনার্থীর সংখ্যা ১ লাখেরও বেশি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এই তথ্য জানান। এই বৃদ্ধি স্থানীয় পর্যটক, হোটেল, রেস্তোরাঁ, গাইড ও ট্রান্সপোর্ট ব্যবসায়ীদের আয় বাড়িয়েছে। আসাম বন্যপ্রাণী পর্যটন এখন রাজ্যের অর্থনৈতিক উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত হয়ে উঠেছে।
১ লাখেরও বেশি দর্শনার্থী আসাম বন্যপ্রাণী পর্যটন কেন্দ্রে আসা মানে রাজ্যের প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণীর প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি। মানস জাতীয় উদ্যান ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য ক্ষেত্র এবং এখানে একশৃঙ্গ গণ্ডার, বাঘ, হাতি ও বন্য শূকর প্রাচুর্যে দেখা যায়। পোবিতরা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য বিশেষ করে একশৃঙ্গ গণ্ডারের জন্য বিখ্যাত। এই দুই কেন্দ্রে দর্শনার্থীর এই বিরাট সংখ্যা রাজ্যের পরিবেশ সংরক্ষণ ও পর্যটন উন্নয়নের সফলতা প্রমাণ করে।
মানস ও পোবিতরায় পর্যটন বৃদ্ধির কারণ
মানস ও পোবিতরা এলাকায় পর্যটন বৃদ্ধির পেছনে সরকারি উদ্যোগ, উন্নত পরিবহন ও রুট উন্নয়ন, এবং প্রচারের ভূমিকা আছে। আসাম সরকার বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য ও জাতীয় উদ্যানগুলোতে পর্যটকদের সুবিধা বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন প্রকল্প চালু করেছে। এলাকায় নতুন হোটেল, গেস্টহাউস ও লজ তৈরি হয়েছে। দর্শনার্থীদের জন্য জেটবোট, সাফারি জিপ এবং গাইডেড ট্র্যাকের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
পরিবহন উন্নয়নের ফলে গুয়াহাটি থেকে মানস ও পোবিতরা যাওয়া এখন সহজ হয়েছে। গুয়াহাটি থেকে মানস প্রায় ১৮০ কিলোমিটার এবং পোবিতরা প্রায় ৯০ কিলোমিটার দূরে। ফলে ছুটির দিনে বহু পর্যটক এই দুই জায়গায় যেতে পারছেন। স্থানীয় গাইড ও ট্রান্সপোর্ট ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন যে, গত দুই বছরে তাদের আয় দ্বিগুণ হয়েছে।
স্থানীয় অর্থনীতিতে প্রভাব
আসাম বন্যপ্রাণী পর্যটন স্থানীয় অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। দর্শনার্থীরা হোটেল, রেস্তোরাঁ, স্থানীয় হস্তশিল্প ও খাবার কিনছে। মানস ও পোবিতরা অঞ্চলের স্থানীয় বাসিন্দারা পর্যটন খাতে কাজ পাচ্ছেন — গাইড, ড্রাইভার, হোটেল স্টাফ, রিসেপশনিস্ট, সাফারি অপারেটর এবং सुरক্ষা কর্মী হিসেবে।
এই অঞ্চলের গ্রামের Banyak পরিবার এখন পর্যটন খাতে নির্ভরশীল। স্থানীয় হস্তশিল্পীরাও তাদের তৈরি ঐতিহ্যবাহী বস্ত্র, ঝুড়ি ও কাঠের খেলনা বিক্রি করছেন। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেছেন যে, পর্যটন খাতের মাধ্যমে অর্থনীতি বৃদ্ধি পেলে স্থানীয় যুবকদের বেকারত্ব কমে এবং তারা নিজ এলাকায়ই কাজ করতে পারবে।
বরাক উপত্যকা ও লালা অঞ্চলের সাথে সংযোগ
হাইলাকান্দি জেলার লালা ও বরাক উপত্যকার স্থানীয়রাও এই বন্যপ্রাণী পর্যটন থেকে উপকৃত হতে পারেন। লালা থেকে মানস ও পোবিতরা যাওয়া এখন সহজ এবং বরাক উপত্যকার বহু পরিবার পর্যটন খাতে কাজ পাচ্ছে। স্থানীয় যুবকদের ব্র্যাকিং, গাইডিং ও ট্রান্সপোর্ট ব্যবসায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
বরাক উপত্যকার পর্যটকরাও মানস ও পোবিতরায় ঘুরতে যাচ্ছেন, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন চাঙ্গা ভাব এনেছে। লালা বাজার এলাকায় পর্যটকদের জন্য হোটেল ও রেস্তোরাঁ বাড়ছে। হাইলাকান্দি জেলার স্থানীয় পর্যটন সংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের প্রচার বন্যপ্রাণী পর্যটনের সাথে মিলিয়ে নিয়ে যাওয়া হলে এখানকার অর্থনীতিও উন্নত হবে।
ভবিষ্যতের পরিকল্পনা ও চ্যালেঞ্জ
আসাম সরকার বন্যপ্রাণী পর্যটন আরও উন্নত করার পরিকল্পনা করছে। নতুন পর্যটক কেন্দ্র তৈরি, ইকো-টুরিজম প্রকল্প, এবং পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য নতুন প্রকল্প চালু করা হবে। তবে বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক পরিবেশ রক্ষা করে পর্যটন বৃদ্ধি করা একটি চ্যালেঞ্জ। অতিরিক্ত পর্যটন বন্যপ্রাণীর বাসস্থান নষ্ট করতে পারে এবং পরিবেশ দূষণ বাড়াতে পারে।
সরকারের উচিত পরিবেশ সংরক্ষণ ও পর্যটন উন্নয়নের মধ্যে ভারসাম্য রাখা। স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। আসাম বন্যপ্রাণী পর্যটন যদি সঠিকভাবে উন্নত হয়, তবে এটি রাজ্যের অর্থনীতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ উভয়ই শক্তিশালী করবে।