আসাম বাজেট অধিবেশন জুলাই ৬ তারিখ থেকে শুরু হতে চলেছে। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ৫ জুন গুয়াহাটিতে এক সাংবাদিক বৈঠকে জানান, ১৬তম আসাম বিধানসভার এই বাজেট অধিবেশন টানা ২১ দিন চলবে। পূর্ণ বাজেট পাশ হওয়ার পরে আগামী ১ আগস্ট থেকে রাজ্যের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের সুবিধা সরাসরি সুবিধাভোগীদের কাছে পৌঁছানো শুরু হবে।
নবগঠিত ক্যাবিনেটের প্রথম বৈঠকের পরপরই এই ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট করেন, বিধানসভার অধিবেশন ডাকতে কমপক্ষে এক মাস আগে নোটিশ দেওয়ার নিয়ম থাকায় ৬ জুলাইয়ের আগে অধিবেশন শুরু করা সম্ভব নয়। এই ঘোষণা রাজ্যের কোটি কোটি সুবিধাভোগীর জন্য বড় স্বস্তির খবর।
ভোট অন অ্যাকাউন্ট থেকে পূর্ণ বাজেটের পথে আসাম
চলতি বছরের গোড়ায় আসাম বিধানসভা নির্বাচন থাকায় রাজ্য সরকার পূর্ণ বাজেট পেশ করতে পারেনি। ফেব্রুয়ারি মাসে মাত্র চার দিনের অধিবেশনে ভোট অন অ্যাকাউন্ট পাশ করা হয়, যাতে সরকারের দৈনন্দিন ব্যয় নির্বাহ করা যায়। কিন্তু এই অন্তর্বর্তী ব্যবস্থায় সরকারের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন প্রকল্পগুলির জন্য সম্পূর্ণ অর্থ ছাড় করা সম্ভব হয়নি।
মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, “বাজেট অধিবেশন ২১ দিনের হবে এবং ৬ জুলাই থেকে শুরু হবে, কারণ বিধানসভার অধিবেশন ডাকতে এক মাস আগে নোটিশ দিতে হয়।” এই অধিবেশনে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের পূর্ণ বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী অজন্তা নেওগ।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, এই বাজেট হবে সরকারের আগামী পাঁচ বছরের উন্নয়নের রোডম্যাপ। কেন্দ্র থেকে আসামে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে প্রায় ৫০,০০০ কোটি টাকার কর বরাদ্দ আসার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে।
আসাম সরকারি প্রকল্প সুবিধা আগস্ট থেকে: কারা পাবেন?
আসাম বাজেট অধিবেশন জুলাই ৬-এ শুরু হয়ে ২১ দিনে পূর্ণ হলে আগস্টের প্রথম দিন থেকেই উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ সুবিধাভোগীদের কাছে পাঠানো শুরু হবে। এই প্রকল্পগুলির মধ্যে রয়েছে কৃষকদের জন্য সহায়তা প্রকল্প, মহিলা ও শিশু উন্নয়ন প্রকল্প, গৃহনির্মাণ সহায়তা এবং বিভিন্ন পরিকাঠামো উন্নয়ন কর্মসূচি।
কেন্দ্রীয় সরকারের তথ্য অনুযায়ী, আসামে এখন পর্যন্ত ২.৫৫ কোটিরও বেশি জন ধন অ্যাকাউন্ট রয়েছে এবং ১.৭৬ কোটি আয়ুষ্মান কার্ড তৈরি হয়েছে। জল জীবন মিশনের অধীনে রাজ্যে ৫৭ লক্ষ পরিবারে নলের জল পৌঁছেছে। পূর্ণ বাজেট পাশ হলে এই প্রকল্পগুলি আরও গতি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বরাক ভ্যালি এবং হাইলাকান্দি জেলার মানুষের জন্য এই খবরটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। লালা টাউন-সহ গোটা হাইলাকান্দি জেলায় কৃষি, স্বাস্থ্য ও পরিকাঠামো উন্নয়নের একাধিক প্রকল্প দীর্ঘদিন ধরে অর্থের অভাবে ধীরে চলছিল। আগস্ট থেকে পূর্ণ বরাদ্দ ছাড় হলে এই প্রকল্পগুলি নতুন গতি পাবে বলে স্থানীয় মহলে প্রত্যাশা রয়েছে।
গার্ডিয়ান মন্ত্রী জেলা তালিকা ও নতুন পোর্টফোলিও বণ্টন
আসাম বাজেট অধিবেশন জুলাই ৬-এর ঘোষণার পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানিয়েছেন, নতুন মন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টন সাত দিনের মধ্যে চূড়ান্ত করা হবে। তিনি বলেন, “সমস্ত দিক বিচার করে সাত দিনের মধ্যে ঘোষণা করব।” তবে জেলাভিত্তিক গার্ডিয়ান মন্ত্রীর তালিকা পরের দিনই অর্থাৎ ৭ জুন শনিবারে প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়।
গার্ডিয়ান মন্ত্রী ব্যবস্থায় প্রতিটি জেলার উন্নয়নকাজ তদারকির জন্য একজন বিশেষ মন্ত্রীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এই ব্যবস্থা আগেও কার্যকর ছিল এবং এটি জেলাস্তরে প্রকল্প বাস্তবায়নে সরাসরি জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে। হাইলাকান্দি জেলার জন্য কোন মন্ত্রী এই দায়িত্ব পাবেন, তা শনিবারের তালিকায় স্পষ্ট হওয়ার কথা।
মন্ত্রিপরিষদের এই প্রথম বৈঠকে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবও গ্রহণ করা হয়েছে। ‘বিকশিত আসাম’ রেজোলিউশনের মাধ্যমে রাজ্যের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের একটি দিকনির্দেশনা তৈরি করা হয়েছে, যা আসন্ন বাজেটে প্রতিফলিত হবে।
১০২ আসন জয়ের পর হিমন্ত সরকারের সামনে উন্নয়নের চাপ
NDA জোট সম্প্রতি অনুষ্ঠিত আসাম বিধানসভা নির্বাচনে রেকর্ড ১০২টি আসন জিতেছে। এই বিপুল জনরায়ের পর রাজ্যের মানুষের প্রত্যাশাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দ্বিতীয় মেয়াদে টানা সরকার চালানোর সুযোগ পেয়ে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এবার উন্নয়নের গতিকে আরও দ্রুত করতে চান।
বরাক ভ্যালি থেকে দুজন ক্যাবিনেট মন্ত্রী পাওয়ার পর এবং আসাম বাজেট অধিবেশন জুলাই ৬-এ নির্ধারিত হওয়ার পর হাইলাকান্দি ও লালা টাউনের মানুষের মধ্যে বাস্তব পরিবর্তনের প্রত্যাশা জেগেছে। ১ আগস্ট থেকে প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার এই ঘোষণা কার্যকর হলে গ্রামীণ এলাকায় দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় সরাসরি প্রভাব পড়বে। জুলাই মাসে বাজেট অধিবেশন শুরু হওয়ার পর থেকেই বোঝা যাবে সরকার কোন খাতে কতটা অগ্রাধিকার দিচ্ছে। বিরোধী দলগুলিও বিধানসভায় নিজেদের দাবি তুলে ধরার সুযোগ পাবে। বরাক ভ্যালির প্রতিনিধিরা বাজেটে অঞ্চলের জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ নিশ্চিত করতে পারলে এই অধিবেশন ঐতিহাসিক হয়ে উঠতে পারে।