প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঢালাও নির্দেশ দিয়েছেন স্বচ্ছ ভারত মিশন ২.০ কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য। ২০২৬ সালের মাঝামাঝি প্রগতি নামক সরকারি বৈঠকে তিনি সচিব ও রাজ্য প্রতিনিধিদের লক্ষ্য নির্ধারণে সতর্ক হওয়ার নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রী মোদী স্বচ্ছ ভারত মিশন বাস্তবায়নে কোনো আপস মানবেন না বলে স্পষ্ট করে দেন।
স্বচ্ছ ভারত মিশন ২.০: লক্ষ্য ও দায়িত্ব
প্রধানমন্ত্রী মোদী প্রগতি বৈঠকে বলেন, “স্বচ্ছ ভারত মিশন ২.০ শুধু শুচিৎকারের বিষয় নয়। এটি স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও জলসংরক্ষণের এক integrado উদ্যোগ।” তাঁর মতে, গ্রামীণ ও শহরতলির ক্ষেত্রে আলাদা কৌশল প্রয়োজন। তিনি রাজ্যগুলিকে নির্দেশ দেন লঘু পর্যায়ে (local level) তদারকি বাড়ানোর জন্য।
প্রগতি বৈঠকের অংশ হিসেবে স্বচ্ছ ভারত মিশন ২.০-এর সার্বিক অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। মিশন ২.০-এর অধীনে জলসংরক্ষণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও গ্রামীণ বিদ্যুতায়নকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী মোদী স্বচ্ছ ভারত মিশন ২.০-এর লক্ষ্য হলো ২০২৬-এর মধ্যে দেশের ১০০% গ্রামকে ODF Plus (Open Defecation Free Plus) ঘোষণা করা।
উপগ্রহ চিত্রের সহায়তায় স্বচ্ছ ভারত মিশনের অগ্রগতি মনিটর করা হবে। প্রধানমন্ত্রী মোদী স্বচ্ছ ভারত মিশনের সফলতার জন্য রাজ্যগুলিকে আর্থিক সহায়তা ও প্রযুক্তিগত সমর্থন দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।
গ্রামীণ ও শহরতলির বিশেষ ফোকাস
প্রধানমন্ত্রী মোদী প্রগতি বৈঠকে গ্রামীণ ও শহরতলির আলাদা ফোকাসের কথা উল্লেখ করেন। গ্রামীণ এলাকায় বিশেষ করে গবাদি পশুর গোবর ব্যবস্থাপনা, কম্পোস্টিং ও বায়ো-গ্যাস প্ল্যান্টের প্রচার বাড়ানোর নির্দেশ দেন। শহরতলির ক্ষেত্রে বর্জ্য পৃথকীকরণ, রিসাইকলিং ও স্যানিটারি নেটওয়ার্কের উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হয়।
প্রগতি বৈঠকে স্বচ্ছ ভারত মিশন ২.০-এর অধীনে ২০২৫-২৬ সালে ১০,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এই অর্থের প্রায় ৬০% গ্রামীণ এলাকায় খরচ হবে। প্রধানমন্ত্রী মোদী স্বচ্ছ ভারত মিশন ২.০-এর অধীনে নারী স্বায়ত্তশাসনেরও গুরুত্ব তুলে ধরেন। নারী পঞ্চায়েত সদস্যদের মাধ্যমে স্বচ্ছতা কর্মসূচির প্রচার বাড়ানোর পরামর্শ দেন।
আসাম ও বরাক উপত্যকায় স্বচ্ছ ভারত মিশন
আসামে স্বচ্ছ ভারত মিশন ২.০-এর প্রয়োগ বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে করা হচ্ছে। ২০২৫ সাল পর্যন্ত রাজ্যের ৯০% গ্রাম ODF ঘোষণা করা হয়েছে। এখন ODF Plus ঘোষণার প্রক্রিয়া চলছে। গুয়াহাটি, ডিব্রুগড় ও শিলচরে শহরতলির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের বিশেষ প্রকল্প চলছে।
বরাক উপত্যকার হাইলাকান্দি জেলা ও লালা টাউনেও স্বচ্ছ ভারত মিশন ২.০-এর প্রয়োগ বাড়ছে। হাইলাকান্দি জেলায় প্রায় ৩০০ গ্রামে শৌচাগার ও কম্পোস্টিং প্ল্যান্ট স্থাপন করা হয়েছে। লালা টাউনের পৌরসভা বর্জ্য পৃথকীকরণ ও রিসাইকলিং প্রকল্পের অধীনে ৫০% বর্জ্য রিসাইকেল করছে।
হাইলাকান্দির এক স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেন, “স্বচ্ছ ভারত মিশন ২.০-এর কার্যকর বাস্তবায়নের ফলে গ্রামীণ অঞ্চলে জলবাহিত রোগের হার কমেছে।” তিনি আরও বলেন, “লালা টাউনে পৌরসভার ব্যবস্থাপনায় বর্জ্য সংগ্রহ ও নিষ্পত্তি উন্নত হয়েছে।”
নারী স্বায়ত্তশাসন ও প্রযুক্তির ভূমিকা
প্রধানমন্ত্রী মোদী স্বচ্ছ ভারত মিশন ২.০-এ নারী স্বায়ত্তশাসনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “নারী পঞ্চায়েত সদস্যরা স্বচ্ছতা কর্মসূচির প্রচারে সবচেয়ে ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখতে পারেন।” তাঁর মতে, নারীদের অর্থনৈতিক শক্তিবৃদ্ধি ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য স্বচ্ছ ভারত মিশন ২.০-এর প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।
প্রযুক্তির ভূমিকাও তিনি উল্লেখ করেন। উপগ্রহ চিত্র, মোবাইল অ্যাপ ও ডিজিটাল মনিটরিং সিস্টেমের মাধ্যমে স্বচ্ছ ভারত মিশন ২.০-এর অগ্রগতি মনিটর করা হবে। ২০২৬ সালের মধ্যে ১০০% গ্রামে স্বচ্ছ ভারত মিশন মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করা হবে।
ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ ও চূড়ান্ত লক্ষ্য
প্রধানমন্ত্রী মোদী স্বচ্ছ ভারত মিশন ২.০-এর চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো ২০২৬ সালের মধ্যে দেশকে সম্পূর্ণ ODF Plus ঘোষণা করা। এর জন্য রাজ্যগুলিকে আরও কাজ করতে হবে। প্রগতি বৈঠকে রাজ্য সচিবদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, প্রতি মাসে অগ্রগতি রিপোর্ট জমা দিতে।
প্রধানমন্ত্রী মোদী স্বচ্ছ ভারত মিশন ২.০-এর সফলতা কোনো দল বা রাজনৈতিক দলের নয়। এটি দেশের সকল নাগরিকের জন্য স্বাস্থ্য ও পরিবেশের ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা। আসাম ও বরাক উপত্যকায় এই উদ্যোগের সফল বাস্তবায়ন হলে, লালা টাউন ও হাইলাকান্দির মতো জেলাগুলো স্বচ্ছতা ও স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে উদাহরণ হতে পারে।