Read today's news --> ⚡️Click here 

মিলন দাস হাইলাকান্দি: UCC বিলে সমর্থন, মুসলিম নারীদের নতুন যুগের বার্তা

হাইলাকান্দি বিধানসভা কেন্দ্রের BJP বিধায়ক ডা. মিলন দাস অসম বিধানসভায় UCC বিলের পক্ষে শক্তিশালী বক্তব্য রাখলেন। ২০২৬ সালের ২৭ মে বুধবার অসম বিধানসভায় ঐতিহাসিক UCC বিল নিয়ে আলোচনায় ডা. মিলন দাস প্রায় ৫ মিনিট ৫১ সেকেন্ড বাংলায় বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, এই আইন মুসলিম নারীদের জন্য এক নতুন যুগের সূচনা করবে এবং সমাজ সংস্কারে বড় ভূমিকা রাখবে।

মিলন দাস হাইলাকান্দির ঐতিহাসিক বক্তব্য

ডা. মিলন দাস বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী ডা. হিমন্ত বিশ্ব শর্মার উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, UCC বিল নারীদের সমান মর্যাদা ও সমান অধিকার নিশ্চিত করবে। তাঁর মতে, প্রস্তাবিত আইনটি বিশেষত মুসলিম নারীদের বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহের মতো ক্ষতিকর প্রথার অবসান ঘটাবে। তিনি বলেন, “UCC মুসলিম নারীদের জন্য নতুন যুগ আনবে। তারা স্বাধীনতা পাবেন। বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহ বন্ধ হবে। আগে লিভ-ইন সম্পর্ক কোনো জবাবদিহিতার বাইরে ছিল। এখন তা আইনের আওতায় আসবে এবং নারীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে।” — ডা. মিলন দাস, বিধায়ক, হাইলাকান্দি।

এটি লক্ষণীয় যে গত পাঁচ বছরে হাইলাকান্দি জেলার তিনজন AIUDF বিধায়ক বিধানসভার গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কে সীমিত অংশগ্রহণের জন্য সমালোচিত হয়েছিলেন। সেই প্রেক্ষাপটে ডা. মিলন দাসের সক্রিয় ও তথ্যসমৃদ্ধ বক্তব্য হাইলাকান্দি জেলার রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ২০২৬ সালের অসম বিধানসভা নির্বাচনে ডা. মিলন দাস ৬৩.৫৭% ভোট পেয়ে হাইলাকান্দি কেন্দ্র থেকে জয়ী হন এবং জেলায় BJP-র শক্তিশালী অবস্থান নিশ্চিত করেন।

লিভ-ইন সম্পর্ক সাংবিধানিক সাম্য — UCC-এর মূল বিষয়

ডা. মিলন দাস লিভ-ইন সম্পর্কের আইনি নিয়ন্ত্রণকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, এতদিন লিভ-ইন সম্পর্ক থেকে অপরাধ ও শোষণের ঘটনা ঘটত কারণ এর কোনো আইনি কাঠামো ছিল না। UCC-এর আওতায় লিভ-ইন সম্পর্ক নিবন্ধন বাধ্যতামূলক হলে নারীরা জবাবদিহিতা, সুরক্ষা ও স্বচ্ছতা পাবেন।

অসমের UCC বিলে লিভ-ইন সম্পর্ক নিবন্ধনের জন্য এক মাসের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। নিবন্ধন না করলে তিন মাসের কারাদণ্ড বা ১০,০০০ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড প্রযোজ্য হবে। লিভ-ইন সম্পর্কে জন্ম নেওয়া শিশুরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৈধ হিসেবে স্বীকৃতি পাবে এবং পুরুষ সঙ্গী যদি নারীকে পরিত্যাগ করেন তাহলে নারী আদালতে ভরণপোষণ দাবি করতে পারবেন।

ডা. মিলন দাস আরও ব্যাখ্যা করেন, সংবিধানের ১৪ অনুচ্ছেদ প্রতিটি নাগরিকের আইনের সামনে সমতা নিশ্চিত করে। তাঁর মতে, বিভিন্ন ধর্মের জন্য আলাদা পার্সোনাল ল থাকা এই সাংবিধানিক নীতির পরিপন্থী। UCC সেই বৈষম্য দূর করে প্রতিটি ধর্মের নাগরিকের জন্য একটি সমান আইনি ভিত্তি তৈরি করবে।

তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে এই আইন উপজাতি সম্প্রদায় এবং সংবিধানের আওতায় সুরক্ষিত ধর্মীয় রীতিনীতির উপর কোনো প্রভাব ফেলবে না। UCC বিলে তফসিলি উপজাতিদের সংবিধানিক সুরক্ষা বহাল রাখা হয়েছে এবং বিয়ে বৈদিক বিবাহ, আহোম চাক্লং, সপ্তপদী, আশীর্বাদ, নিকাহ, হোলি ইউনিয়ন বা আনন্দ কারাজের মতো যেকোনো ধর্মীয় রীতিতে সম্পন্ন করার পূর্ণ স্বাধীনতা থাকবে।

Congress-কে পরোক্ষ নিশানা রাজনৈতিক বিতর্ক

ডা. মিলন দাস Congress নেতা রাহুল গান্ধীকে পরোক্ষভাবে নিশানা করেন। তিনি বলেন, Congress নেতারা একসময় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর আমলে UCC-এর পক্ষে জোরালো সমর্থন দিয়েছিলেন। কিন্তু আজ তারা রাজনৈতিক কারণে সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছেন। তাঁর অভিযোগ, অসম যখন নারীর সমান অধিকার নিশ্চিতে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন কিছু নেতা শুধু ভোট রাজনীতির কারণে বিরোধিতা করছেন।

বিধানসভায় বিরোধী দলের প্রতিক্রিয়া উল্লেখযোগ্য। Congress MLA বেবি বেগম বিলটিকে বিভিন্ন ধর্মীয় ঐতিহ্যকে উপেক্ষা করার অভিযোগে সমালোচনা করেন। Raijor Dal MLA অখিল গগৈ বলেন, এটি CM হিমন্তের রাজনৈতিক প্রভাব বাড়ানোর উদ্যোগ। AIUDF MLA মুজিবুর রহমান অভিযোগ করেন, সরকার মুদ্রাস্ফীতির মতো জরুরি অর্থনৈতিক বিষয় থেকে দৃষ্টি সরাতে এই বিল এনেছে।

হাইলাকান্দি জেলা লালা টাউনে UCC-এর প্রাসঙ্গিকতা

হাইলাকান্দি জেলা ও লালা টাউনের মানুষের জন্য ডা. মিলন দাসের এই বক্তব্য বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। এই এলাকায় মুসলিম সম্প্রদায়ের বড় অংশের বাস, যেখানে বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহের ঘটনা এখনও সামাজিক উদ্বেগের বিষয়। স্থানীয় বিধায়ক যখন বিধানসভায় সরাসরি বাংলায় এই বিষয়গুলো তুলে ধরেন, তখন তা জেলার সাধারণ মানুষের কাছে বার্তাটি আরও স্পষ্ট করে পৌঁছে দেয়।

লালা টাউনের একাধিক বাসিন্দা মনে করেন, UCC বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় নারীরা তালাক ও ভরণপোষণ সংক্রান্ত বিষয়ে আরও শক্তিশালী আইনি সুরক্ষা পাবেন। অসম ইতিমধ্যে ২০২৫ সালে বহুবিবাহ নিষিদ্ধকরণ বিল পাস করেছে, যেখানে বহুবিবাহের জন্য সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। UCC সেই আইনি কাঠামোকে আরও বিস্তৃত করবে।

ভবিষ্যতের পথ: UCC বাস্তবায়ন সামাজিক প্রভাব

UCC বিল গভর্নরের অনুমোদনের পর আইনে পরিণত হবে এবং অসম উত্তরাখণ্ডের পর ভারতের দ্বিতীয় রাজ্য হিসেবে এই ঐতিহাসিক আইন কার্যকর করবে। ডা. মিলন দাসের মতো স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা যখন বিধানসভায় সরাসরি নিজের এলাকার মানুষের ভাষায় এই বিষয়গুলো তুলে ধরেন, তখন আইনের সামাজিক প্রয়োগ আরও সহজ হয়।

হাইলাকান্দি ও লালা টাউনের মতো এলাকায় UCC কার্যকর করতে সরকারি প্রশাসনকে সচেতনতামূলক প্রচার চালাতে হবে, বিশেষত নারী ও প্রান্তিক সম্প্রদায়ের কাছে আইনের সুবিধাগুলো স্পষ্টভাবে পৌঁছে দিতে হবে। সামাজিক সংস্কারের এই যাত্রায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগই নির্ধারণ করবে, UCC হাইলাকান্দির মানুষের জীবনে কতটা ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।

মিলন দাস হাইলাকান্দি: UCC বিলে সমর্থন, মুসলিম নারীদের নতুন যুগের বার্তা
Scroll to top