আসাম রেশন ডাল চিনি লবণ স্কিম সম্পূর্ণ স্থগিত করা হয়েছে। ১ জুন ২০২৬ থেকে এই স্কিম বন্ধ হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে রাজ্য সরকার। তবে সরকারি সূত্র অনুযায়ী, বিনামূল্যে চাল বিতরণ অব্যাহত থাকবে। এই সিদ্ধান্তটি রাজ্যের ৩০ লাখ রেশন কার্ড ধারী পরিবারকে প্রভাবিত করবে, যারা আগে থেকেই সাশ্রয়ী মূল্যে ডাল, চিনি ও লবণ কিনে আসছিলেন।
অসমের খাদ্য ও নাগরিক সরবরাহ দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, এই স্কিম স্থগিত করার মূল কারণ রাজ্যের বাজেটের চাপ। প্রতি মাসে সরকার প্রায় ৬০ কোটি টাকা খরচ করত এই তিনটি পণ্যের সাবসিডি হিসেবে। সরকারি আর্থিক পর্যালোচনা বলছে, এই টাকা Maintenant অন্য গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নমূলক কাজে খরচ করা হবে। ১ জুন থেকে সাশ্রয়ী মূল্যের ডাল, চিনি ও লবণ আর পাওয়া যাবে না।
স্কিমের বিস্তারিত ও সরকারি ঘোষণা
আসাম রেশন ডাল চিনি লবণ স্কিম ২০২১ সালে চালু করা হয়েছিল। এই স্কিম অনুযায়ী প্রতি রেশন কার্ড ধারী পরিবার মাসে ২ কেজি ডাল, ২ কেজি চিনি ও ১ কেজি লবণ সাশ্রয়ী মূল্যে কিনতে পারত। ডালের দাম ছিল প্রতি কেজি ৩০ টাকা, চিনি ২৫ টাকা এবং লবণ ১০ টাকা। বাজারের তুলনায় এটি প্রায় ৫০-৬০% সস্তা ছিল।
খাদ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এক বিবৃতিতে বলেছেন, “রাজ্যের বাজেটের চাপ কমাতে এবং টাকা অন্য গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যবহার করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” তিনি আরও জানিয়েছেন, বিনামূল্যে চাল বিতরণ এই স্কিমের অংশ নয় এবং তা অব্যাহত থাকবে। প্রতি পরিবার মাসে ৫ কেজি করে বিনামূল্যে চাল পাবে।
বিনামূল্যে চাল বিতরণ অব্যাহত থাকবে
বিনামূল্যে চাল বিতরণের স্কিমটি ২০২২ সালে চালু করা হয়েছিল এবং এখনও ৩০ লাখ রেশন কার্ড ধারী পরিবার উপকৃত হচ্ছে। প্রতি মাসে সরকার প্রায় ১.৫ লক্ষ টন চাল বিনামূল্যে বিতরণ করে থাকে। এই স্কিম থেকে কোনো পরিবর্তন করা হবে না বলে সরকার স্পষ্ট করে দিয়েছে।
খাদ্য দপ্তরের সিনেয়ার অফিসার বলছেন, “বিনামূল্যে চাল বিতরণ আমাদের অগ্রাধিকার। এই স্কিম থেকে কোনো পরিবর্তন হবে না।” রেশন ডিলাররাও নিশ্চিত করেছে যে, ১ জুন থেকে চালের বিতরণ স্বাভাবিক থাকবে। তবে ডাল, চিনি ও লবণের জন্য রেশন কার্ড ধারীরা এখন বাজারের দামে কিনতে হবে।
আসাম ও বরাক উপত্যকায় প্রভাব
আসাম রেশন ডাল চিনি লবণ স্কিম স্থগিত হওয়ার প্রভাব বরাক উপত্যকায়ও অনুভূত হবে। হাইলাকান্দি, সিলচর, করিমগঞ্জ ও লালা টাউনের রেশন কার্ড ধারী পরিবারগুলো এখন বাজারের দামে ডাল, চিনি ও লবণ কিনতে হবে। স্থানীয় রেশন ডিলাররা বলেছেন, “আমাদের ১ জুন থেকে এই তিনটি পণ্য আর সরবরাহ করা হবে না। গ্রাহকরা এখন বাজার থেকে কিনতে হবে।”
লালা বাজার এলাকার রেশন কার্ডধারীরা এই সিদ্ধান্তে ক্ষুণ্ণ। এক পরিবারের মুখ্য ব্যক্তি বলেছেন, “আমাদের আয় কম, তাই আমরা সাশ্রয়ী মূল্যে ডাল চিনি লবণ কিনতাম। এখন বাজারের দামে কিনতে হলে আমাদের খরচ বাড়বে।” হাইলাকান্দি জেলার প্রায় ১.৫ লাখ রেশন কার্ড ধারী পরিবার এই স্কিম থেকে উপকৃত হতো।
ভবিষ্যতে স্কিম ফিরে আসবে কি না
সরকারি সূত্র অনুযায়ী, এই স্কিম অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। সরকার বেতন বাড়ানো, স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন ও শিক্ষার মানোন্নয়নে আরও বেশি বরাদ্দ করতে চায়। খাদ্যমন্ত্রী বলেছেন, “ভবিষ্যতে রাজ্যের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হলে এই স্কিম আবার চালু করা হতে পারে।”
অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলো এই সিদ্ধান্তকে সমালোচনা করেছে। তারা বলছে, সাধারণ মানুষের ওপর খরচ বাড়বে এবং সরকার জনগণের প্রতি জবাবদিহি হারিয়েছে। এই স্কিম স্থগিত হওয়ার পরেও বিনামূল্যে চাল বিতরণ অব্যাহত থাকায় সবচেয়ে গরিব পরিবারগুলোতে কিছুটা স্বস্তি আছে।
সামনে আসন্ন নির্বাচনের আগে এই সিদ্ধান্তটি রাজনৈতিক আলোড়ন তুলতে পারে। তবে সরকার জানিয়েছে, বাজেটের চাপ কমানো এবং অন্য গুরুত্বপূর্ণ কাজে টাকা খরচ করার জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।