গুয়াহাটিতে ৪৫তম জলসঙ্কট সমাধান মেলা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী ২ থেকে ৪ জুন, মণিরাম দেওয়ান ট্রেড সেন্টারে। তিন দিনব্যাপী এই প্রদর্শনীতে দেশজুড়ে পানি ও বর্জ্যজল ব্যবস্থাপনা খাতের শিল্পপ্রতিষ্ঠান, পরামর্শদাতা, নীতিনির্ধারক ও প্রযুক্তি সরবরাহকারীদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। আয়োজকদের মতে, এবারের জলসঙ্কট সমাধান মেলা-র মূল ফোকাস হবে টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা, আধুনিক শোধন প্রযুক্তি এবং নতুন প্রজন্মের সমাধান।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেলায় ১২০টিরও বেশি প্রদর্শক এবং ৫,০০০-এর বেশি দর্শনার্থী আসতে পারেন। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে থাকবেন নির্মাতা, কনসালট্যান্ট, উদ্যোক্তা, সরকারি দফতরের প্রতিনিধি, প্রযুক্তি-প্রদানকারী এবং শিল্প-খাতের বিশেষজ্ঞরা। এই জলসঙ্কট সমাধান মেলা-কে কেবল পণ্য প্রদর্শনীর মঞ্চ হিসেবে নয়, বরং নতুন ব্যবসায়িক সংযোগ, নলেজ-শেয়ারিং এবং প্রযুক্তি-অগ্রগতির একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কী দেখানো হবে প্রদর্শনীতে
এই জলসঙ্কট সমাধান মেলা-তে পানি পরিশোধন, রিভার্স অসমোসিস, ফিল্ট্রেশন, রিসাইক্লিং, ডেসালিনেশন, ইউভি ডিসইনফেকশন, মেমব্রেন, কেমিক্যালস এবং গৃহস্থালি পানিশোধন ব্যবস্থার নানা প্রযুক্তি দেখানো হবে। প্যাকেজড ড্রিংকিং ওয়াটার সিস্টেম-সংক্রান্ত সমাধানও প্রদর্শিত হবে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন। পাশাপাশি লাইভ প্রোডাক্ট ডেমোনস্ট্রেশন, টেকনিক্যাল প্রেজেন্টেশন এবং নেটওয়ার্কিং সেশন থাকবে।
এই ধরনের জলসঙ্কট সমাধান মেলা সাধারণত শিল্প-খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এখানেই নতুন যন্ত্র, সফটওয়্যার, ফিল্টারিং সিস্টেম, পাইপলাইন সমাধান ও বর্জ্যজল পরিশোধন প্রযুক্তি এক ছাদের নিচে আসে। ব্যবসায়ীরা সরাসরি ক্রেতা ও ডিস্ট্রিবিউটরের সঙ্গে কথা বলতে পারেন, আর সরকারি ও বেসরকারি পরিকল্পনাকারীরা বাস্তব সমস্যার ভিত্তিতে প্রযুক্তি যাচাই করতে পারেন। ফলে এটি কেবল পণ্য কেনাবেচার জায়গা নয়, বরং জল-অর্থনীতির একটি কার্যকর নোড।
উত্তর-পূর্বে পানির বাস্তব চ্যালেঞ্জ
উত্তর-পূর্বে দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি, নগরায়ণ এবং শিল্পপ্রসারের সঙ্গে সঙ্গে পানির চাহিদা ও বর্জ্যজল ব্যবস্থাপনার চাপও বাড়ছে। গুয়াহাটির মতো বড় শহরে বৃষ্টির পানি, ভূগর্ভস্থ পানি, নিকাশির চাপ এবং গৃহস্থালি পানিশোধনের চাহিদা একসঙ্গে বেড়েছে। সেই কারণে জলসঙ্কটসমাধান মেলা-র মতো আয়োজনের তাৎপর্য এখানে আরও বেশি। প্রযুক্তি-ভিত্তিক সমাধান ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন।
এই মেলার মাধ্যমে যেসব খাত বিশেষভাবে লাভবান হতে পারে, তার মধ্যে আছে আবাসন, নির্মাণ, হোটেল-হাসপাতাল, বোতলজাত পানীয়, খাদ্যপ্রক্রিয়াকরণ এবং পৌর পরিষেবা। অনেক ক্ষেত্রে STP, ETP, রিসাইক্লিং ইউনিট ও ফিল্টার সিস্টেমে বিনিয়োগের সিদ্ধান্তও এমন প্রদর্শনীর পর গতি পায়। তাই জলসঙ্কট সমাধান মেলা-কে অনেক বিশেষজ্ঞ ভবিষ্যৎ অবকাঠামো পরিকল্পনার প্রাক্-বাজারও মনে করেন।
লালা টাউন ও বরাক উপত্যকার প্রাসঙ্গিকতা
লালা টাউন, হাইলাকান্দি এবং বরাক উপত্যকার অন্য অংশগুলোর জন্যও এই জলসঙ্কটসমাধান মেলা-র খবর গুরুত্বপূর্ণ। বরাক অঞ্চলে নিরাপদ পানীয় জল, নলকূপের মান, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ এবং স্থানীয় পর্যায়ে বর্জ্যজল ব্যবস্থাপনা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। শহর ও গ্রামে অনেক পরিবারই পর্যাপ্ত পরিশোধিত পানি না পাওয়ার সমস্যা অনুভব করে। এমন প্রদর্শনী থেকে আঞ্চলিক প্রশাসন ও স্থানীয় উদ্যোক্তারা কম খরচের প্রযুক্তি সম্পর্কে জানতে পারেন।
বিশেষ করে স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল এবং ছোট আবাসিক প্রকল্পগুলোর জন্য সাশ্রয়ী পানিশোধন ব্যবস্থা অত্যন্ত দরকারি। লালা টাউনের মতো এলাকায় যদি নতুন প্রযুক্তি স্থানীয় বাস্তবতায় প্রয়োগ করা যায়, তবে তার প্রভাব সরাসরি জনস্বাস্থ্য ও দৈনন্দিন জীবনে পড়বে। তাই এই জলসঙ্কট সমাধান মেলা শুধু গুয়াহাটির শিল্প-ইভেন্ট নয়, বরং অসমের বহু জেলার জন্য সম্ভাবনার দরজা।
কেন এ ধরনের মেলা জরুরি
পানির সমস্যা এখন শুধু সরবরাহের বিষয় নয়, এটি স্বচ্ছতা, পুনর্ব্যবহার, দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতার প্রশ্নও। দেশজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তন, অনিয়মিত বৃষ্টি, নগরায়ণ এবং জলাধারের ওপর চাপ বাড়ছে। সেই প্রেক্ষিতে জলসঙ্কট সমাধান মেলা-র মতো প্ল্যাটফর্ম জলনীতি, ব্যবসা এবং প্রযুক্তিকে একত্র করে। এখানে আলোচনার পাশাপাশি বাস্তব সমাধানও দেখা যায়—যা আগামী দিনের পানি-নিরাপত্তা পরিকল্পনায় কাজে লাগতে পারে।
আয়োজকদের মতে, এই প্রদর্শনী উত্তর-পূর্বে পানি ও বর্জ্যজল খাতের জন্য একটি বড় সংযোগমঞ্চ হিসেবে কাজ করবে। জুনের প্রথম সপ্তাহে গুয়াহাটিতে যখন এই জলসঙ্কট সমাধান মেলা বসবে, তখন নজর থাকবে শুধু প্রদর্শনীর আকারে নয়, বরং নতুন অংশীদারি, প্রযুক্তি-আলোচনা এবং বাস্তব সমাধান কতটা সামনে আসে তার ওপর।