Read today's news --> Click here

মোদি জাতির উদ্দেশে ভাষণ রাত ৮.৩০টায়: লোকসভায় মহিলা সংরক্ষণ বিল পরাজয়ের পর দেশজুড়ে উত্তেজনা

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আজ ১৮ এপ্রিল ২০২৬, শনিবার রাত ৮টা ৩০ মিনিটে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন। মোদি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার এই ঘোষণাটি আসে মাত্র একদিন পর, যেদিন লোকসভায় মহিলাদের জন্য আইনসভায় ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আনা সংবিধান (১৩১তম সংশোধনী) বিলটি পরাজিত হয়েছে। সরকারের একজন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, “প্রধানমন্ত্রী ১৮ এপ্রিল শনিবার রাত ৮.৩০ মিনিটে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন।” ভাষণের বিষয়বস্তু আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা না করা হলেও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক অনুমান চলছে যে তিনি মহিলা সংরক্ষণ ইস্যু এবং সংসদের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে কথা বলবেন।

লোকসভায় বিলের পরাজয়: কী ঘটেছিল ১৭ এপ্রিল

মোদি জাতির উদ্দেশে ভাষণের পটভূমি বুঝতে হলে ১৭ এপ্রিলের সংসদীয় ঘটনার দিকে নজর দিতে হবে। সেদিন BJP-নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার সংবিধান (১৩১তম সংশোধনী) বিলটি পাসের জন্য প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হয়। লোকসভায় ভোটে ৫২৮ জন সদস্যের মধ্যে ২৯৮ জন বিলের পক্ষে এবং ২৩০ জন বিপক্ষে ভোট দেন। বিলটি পাস হতে হলে উপস্থিত ও ভোটদানকারী সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থন প্রয়োজন ছিল, কিন্তু সেই শর্ত পূরণ হয়নি।

এই বিলটির উদ্দেশ্য ছিল মহিলা সংরক্ষণ আইন বাস্তবায়নের পথ খুলে দেওয়া। ২০২৩ সালে পাস হওয়া নারী শক্তি বন্দন আইন অনুযায়ী সংসদ ও রাজ্য বিধানসভায় মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষিত রাখার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু সেই আইনের বাস্তবায়ন নির্ভর করছিল একটি সীমানা নির্ধারণ (Delimitation) প্রক্রিয়ার উপর। নতুন বিলটিতে লোকসভার মোট আসনসংখ্যা বর্তমানের ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮১৬ করার প্রস্তাব ছিল, যাতে ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগেই মহিলা সংরক্ষণ চালু করা সম্ভব হয়।

বিরোধীদের বক্তব্য: ‘দক্ষিণ ভারতকে দুর্বল করার চেষ্টা’

বিরোধী INDIA জোটের দলগুলো এই বিলের বিরোধিতার পক্ষে স্পষ্ট যুক্তি তুলে ধরেছে। DMK নেতা ও তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম. কে. স্তালিনের পুত্র তথা সাংসদ উদয়নিধি স্তালিন কোচ্চিতে একটি প্রচার সমাবেশে বলেন, “গতকাল সংসদে একটি নতুন বিল আনা হয়েছিল। তারা বলেছিল এটি একটি মহিলা বিল — কিন্তু সেটি ইতিমধ্যে ২০২৩ সালেই পাস হয়েছে। এই বিলের আড়ালে লুকানো ছিল সীমানা নির্ধারণের এজেন্ডা। লক্ষ্য ছিল তামিলনাড়ুর সংসদীয় প্রতিনিধিত্ব কমিয়ে দক্ষিণের রাজ্যগুলোকে দুর্বল করা। আমরা সেই বিল সংসদে পরাজিত করেছি।”

তৃণমূল কংগ্রেস ও কংগ্রেস-সহ INDIA জোটের অন্যান্য শরিক দলগুলোও এই বিলের বিরুদ্ধে ভোট দেয়। বিরোধীদের অভিযোগ, Delimitation প্রক্রিয়ায় ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাস হলে কম জনসংখ্যাবৃদ্ধি পাওয়া দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অন্যদিকে BJP-র পক্ষ থেকে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি কংগ্রেস ও INDIA জোটের সমালোচনা করে বলেন, এই দলগুলো মহিলাদের ৩৩ শতাংশ আসন দেওয়ার সুযোগ নষ্ট করেছে।

আসাম বরাক উপত্যকার দৃষ্টিকোণ: এই বিল কেন গুরুত্বপূর্ণ

মোদি জাতির উদ্দেশে ভাষণের প্রেক্ষাপটে আসাম ও বরাক উপত্যকার মহিলা রাজনীতিবিদ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের মধ্যেও এই বিষয়টি নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। হাইলাকান্দি, করিমগঞ্জ ও কাছাড় জেলায় মহিলাদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ঐতিহাসিকভাবেই কম — পঞ্চায়েত স্তর থেকে শুরু করে বিধানসভা পর্যন্ত মহিলা প্রতিনিধির সংখ্যা জাতীয় গড়ের চেয়েও নিচে। এই বাস্তবতায় লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভায় ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ চালু হলে বরাক উপত্যকার মহিলাদের জন্যও নতুন সুযোগের দরজা খুলে যেত বলে মনে করছেন অনেকে।

আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা মহিলা সংরক্ষণের পক্ষে সরব। BJP সরকার এই বিলকে মহিলা ক্ষমতায়নের একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে উপস্থাপন করছে। কিন্তু বিলটির পরাজয় এই প্রশ্নটি আবার সামনে এনেছে — সীমানা নির্ধারণের বিষয়টি ছাড়া কি মহিলা সংরক্ষণ আদৌ বাস্তবায়ন সম্ভব? লালা টাউন ও হাইলাকান্দির মানুষ প্রধানমন্ত্রীর আজকের ভাষণে এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ এবং আগামীর রাজনীতি

মোদি জাতির উদ্দেশে ভাষণের আগেই সারাদেশে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছে। BJP দাবি করছে, বিরোধীরা মহিলাদের অধিকারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে এবং এর রাজনৈতিক মূল্য তাদের দিতে হবে। অন্যদিকে বিরোধী জোট বলছে, এই বিল ছিল আসলে দক্ষিণ ভারত ও ছোট রাজ্যগুলোর বিরুদ্ধে একটি রাজনৈতিক কৌশল।

প্রধানমন্ত্রী মোদি তাঁর ভাষণে ঠিক কী বলবেন — সেটি সারা ভারত আগ্রহের সঙ্গে অপেক্ষা করছে। তিনি কি সরাসরি বিরোধীদের দায়ী করবেন? নাকি মহিলা সংরক্ষণ বাস্তবায়নের জন্য নতুন কোনো পথের কথা জানাবেন? ভাষণটি শেষ পর্যন্ত আগামী দিনের রাজনৈতিক বিতর্কের দিকনির্ধারণ করবে — বিশেষত পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন এবং তার পরের রাজনৈতিক সমীকরণে এর প্রভাব কতটা গভীর হবে, সেটি সময়ই বলবে।

মোদি জাতির উদ্দেশে ভাষণ রাত ৮.৩০টায়: লোকসভায় মহিলা সংরক্ষণ বিল পরাজয়ের পর দেশজুড়ে উত্তেজনা
Scroll to top