Read today's news --> Click here

চিরাং কোকরাঝাড় ইন্টারনেট বন্ধ: রুণিখাতায় বন উচ্ছেদে আদিবাসী-বন বিভাগ সংঘর্ষের পর আসাম সরকারের আদেশ

চিরাং কোকরাঝাড় ইন্টারনেট বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে আসাম সরকার — ভারত-ভুটান সীমান্তবর্তী রুণিখাতায় বন বিভাগের উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে ১৬ এপ্রিল রাতে সহিংস সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ার পর এই জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হয়। আসামের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব অজয় তেওয়ারি স্বাক্ষরিত সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, চিরাং ও কোকরাঝাড় জেলায় মোবাইল ইন্টারনেট ও ডেটা পরিষেবা অবিলম্বে স্থগিত করা হয়েছে। এই নির্দেশ কার্যকর থাকবে পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত। তবে ভয়েস কল ও ফিক্সড-লাইন ব্রডব্যান্ড পরিষেবা চালু থাকবে বলে সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে।

রুণিখাতা উচ্ছেদ: ঘটনাটি ঠিক কী ঘটেছিল

চিরাং কোকরাঝাড় ইন্টারনেট বন্ধের কারণ হয়ে দাঁড়ানো ঘটনাটির শুরু ১৬ এপ্রিল — যখন চিরাং জেলার রুণিখাতায় ভারত-ভুটান আন্তর্জাতিক সীমান্তবর্তী বনাঞ্চলে উচ্ছেদ অভিযান চালায় বন বিভাগ। ওই অভিযানে বন বিভাগের কর্মীরা ২৫ জন আদিবাসী ব্যক্তিকে আটক করেন। এই আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় মানুষজন তীব্র প্রতিবাদে ফেটে পড়েন। পরিস্থিতি দ্রুত সহিংস আকার ধারণ করে — বিক্ষোভকারীরা বেশ কয়েকটি সরকারি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন এবং রেঞ্জ অফিসারের কার্যালয় পুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। ঘটনাস্থলে গুলিবর্ষণের ঘটনাও ঘটে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয় যে এই উত্তেজনা পার্শ্ববর্তী কোকরাঝাড় জেলায়ও ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই চিরাং ও কোকরাঝাড় — উভয় জেলায় একযোগে ইন্টারনেট স্থগিত করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, WhatsApp, Facebook, YouTube ও Instagram-এর মতো সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে মিথ্যা তথ্য ও উস্কানিমূলক বার্তা ছড়িয়ে পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হওয়ার বাস্তব ঝুঁকি রয়েছে। এই কারণেই ভারতীয় টেলিগ্রাফ অ্যাক্ট, ১৮৮৫ এবং টেম্পোরারি সাসপেনশন অব টেলিকম সার্ভিসেস রুলস, ২০১৭-এর বিধান প্রয়োগ করে মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে সতর্ক করা হয় — এই নির্দেশ লঙ্ঘন করলে আইনের প্রাসঙ্গিক ধারায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

BTC অঞ্চলে পুনরাবৃত্তি: জানুয়ারির পর আবার একই সংকট

এটি প্রথমবার নয় যে চিরাং কোকরাঝাড় ইন্টারনেট বন্ধ হল এই কারণে। মাত্র তিন মাস আগে, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতেও ঠিক এই দুটি জেলায় মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ করতে হয়েছিল। সেবার কারণ ছিল ভিন্ন — কোকরাঝাড়ের কারিগাঁও এলাকায় একটি সড়ক দুর্ঘটনার পর বোড়ো ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে সহিংস সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে, একজনের মৃত্যু হয় এবং RAF মোতায়েন করতে হয়। সেই সময় ইন্টারনেট বন্ধ ছিল প্রায় চার দিন। চার দিনের মোবাইল ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট এই জেলার সাধারণ মানুষের ব্যাংকিং, তথ্যসেবা ও ডিজিটাল যোগাযোগে গুরুতর প্রভাব ফেলেছিল এবং এটি মৌলিক অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।

চিরাং ও কোকরাঝাড় দুটিই বডোল্যান্ড টেরিটোরিয়াল কাউন্সিল (BTC)-র অধীন জেলা, যা সংবিধানের ষষ্ঠ তফশিলের আওতায় পড়ে। ২০২০ সালের বোড়ো শান্তিচুক্তির পর থেকে এই অঞ্চল তুলনামূলকভাবে শান্ত ছিল। কিন্তু উচ্ছেদ-বিরোধী বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে বারবার সহিংসতার এই প্যাটার্ন প্রমাণ করছে, বনভূমি ও ভূমি অধিকারের প্রশ্নটি BTC অঞ্চলে এখনো অত্যন্ত স্পর্শকাতর।

বরাক উপত্যকা হাইলাকান্দির দৃষ্টিকোণ

চিরাং কোকরাঝাড় ইন্টারনেট বন্ধের ঘটনা সরাসরি বরাক উপত্যকায় না ঘটলেও এই ঘটনাটি গোটা আসামের সমাজে গভীর ছাপ ফেলে। হাইলাকান্দি জেলাসহ বরাক উপত্যকায় যে বিপুল সংখ্যক আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ বাস করেন, তাঁরা BTC অঞ্চলে তাঁদের সমগোত্রীয় মানুষদের ভূমি ও জীবিকার লড়াইকে নিজেদের লড়াই হিসেবেই দেখেন। বরাক উপত্যকার চা-বাগান জেলাগুলোতে আদিবাসী শ্রমিকদের উচ্ছেদ ও জমির অধিকার নিজেই একটি দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা। রুণিখাতায় ২৫ জন আদিবাসীকে আটক এবং পরবর্তী সহিংসতার ঘটনা তাই লালা টাউন ও হাইলাকান্দির সংবেদনশীল পাঠকদের নিকট অপ্রাসঙ্গিক নয়।

এপ্রিলের এই উচ্ছেদ-সংঘর্ষ ও পরবর্তী ইন্টারনেট বন্ধের ঘটনা সরকারের সামনে একটি পুরনো প্রশ্নকে নতুনভাবে তুলে ধরেছে — শুধু সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ করে জমি-সংক্রান্ত দীর্ঘমেয়াদি সংকট সামলানো সম্ভব নয়। BTC অঞ্চলে বসবাসকারী আদিবাসী সম্প্রদায়ের ভূমি অধিকার এবং বন বিভাগের উচ্ছেদ নীতির মধ্যে যে দ্বন্দ্ব রয়েছে, তার টেকসই সমাধান না হলে এই ধরনের সহিংসতা ও ইন্টারনেট বন্ধের পুনরাবৃত্তি ঠেকানো কঠিন হবে। ইন্টারনেট পরিষেবা কখন পুনরায় চালু হবে তা এখনো ঘোষণা করা হয়নি।

চিরাং কোকরাঝাড় ইন্টারনেট বন্ধ: রুণিখাতায় বন উচ্ছেদে আদিবাসী-বন বিভাগ সংঘর্ষের পর আসাম সরকারের আদেশ
Scroll to top