Read today's news --> Click here

রাহুল গান্ধী দ্বৈত নাগরিকত্ব মামলায় FIR-এর নির্দেশ এলাহাবাদ হাইকোর্টের, কেন্দ্রীয় তদন্তও সম্ভব

রাহুল গান্ধী দ্বৈত নাগরিকত্ব মামলায় শুক্রবার এলাহাবাদ হাইকোর্টের লখনউ বেঞ্চ একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছে। বিচারপতি সুভাষ বিদ্যার্থীর একক বেঞ্চ রায়বেরেলির কোতোয়ালি থানাকে রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে FIR নথিভুক্ত করার নির্দেশ দেন এবং বলেন, FIR নথিভুক্তির পর উত্তরপ্রদেশ সরকার যদি প্রয়োজন মনে করে তাহলে তদন্তভার যেকোনো কেন্দ্রীয় সংস্থাকে দিতে পারবে। এই রায়ের মধ্য দিয়ে জানুয়ারি মাসে একটি বিশেষ MP/MLA আদালতের দেওয়া সেই আদেশ খারিজ হয়ে গেল, যেখানে বলা হয়েছিল নাগরিকত্ব সংক্রান্ত বিষয়ে FIR নেওয়ার এখতিয়ার তাদের নেই।

অভিযোগ কী — কোম্পানির নথি ব্রিটিশ নাগরিকত্বের দাবি

এই মামলার কেন্দ্রে রয়েছে ২০০৩ সালের আগস্টে যুক্তরাজ্যে নথিভুক্ত M/S Backops Ltd. নামক একটি কোম্পানি। কর্ণাটক-নিবাসী BJP কর্মী এস. ভিগনেশ শিশির অভিযোগ করেন, ওই কোম্পানির পরিচালক পরিচয়পত্রে রাহুল গান্ধী নিজেকে ব্রিটিশ নাগরিক হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন এবং লন্ডন ও হ্যাম্পশায়ারের ঠিকানা ব্যবহার করেছিলেন। এছাড়াও পিটিশনে দাবি করা হয়, শিশির যুক্তরাজ্য সরকারের কথিত দলিল ও গোপনীয় ইমেল সংগ্রহ করেছেন, যেখাকে রাহুল গান্ধীকে ব্রিটিশ নাগরিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পিটিশনে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS), অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট, ফরেনার্স অ্যাক্ট ও পাসপোর্ট অ্যাক্টের বিভিন্ন ধারায় FIR-এর দাবি জানানো হয়েছে। কোম্পানিটি পরে বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানা গেছে।

বিচারপতি বিদ্যার্থী তাঁর আদেশে স্পষ্ট করেন, মামলার অভিযোগগুলোর প্রাথমিক দৃষ্টিতে আমলযোগ্য অপরাধের উপাদান আছে এবং তাই তদন্ত ছাড়া এই বিষয় নিষ্পত্তি করা সম্ভব নয়। আদালত আরও জানায়, আপাতত অভিযোগের গুণগত বিচার করার প্রয়োজন নেই — ম্যাজিস্ট্রেটের ওই পর্যায়ে তা করার কথা নয়। বিস্তারিত লিখিত আদেশ পরে প্রকাশিত হবে বলে Live Law-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

মামলার পেছনের যাত্রা: রায়বেরেলি থেকে লখনউ হাইকোর্ট পর্যন্ত

রাহুল গান্ধী দ্বৈত নাগরিকত্ব মামলাটি তাৎক্ষণিক কোনো ঘটনা নয় — এটি একটি দীর্ঘ আইনি পথের সর্বশেষ অধ্যায়। ভিগনেশ শিশির প্রথমে রায়বেরেলির বিশেষ MP/MLA আদালতে FIR-এর আবেদন করেন। সেই আবেদন নাকচ হলে বিষয়টি ডিসেম্বর ২০২৫-এ হাইকোর্টের নির্দেশে লখনউতে স্থানান্তরিত হয়। [প্রাথমিক উৎস] ২৮ জানুয়ারি ২০২৬-এ লখনউর বিশেষ MP/MLA আদালতও আবেদন খারিজ করে জানায়, নাগরিকত্ব বিষয়ক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তাদের নেই। এরপর শিশির সরাসরি এলাহাবাদ হাইকোর্টের লখনউ বেঞ্চে যান এবং বিচারপতি বিদ্যার্থীর আদালত শেষ পর্যন্ত তাঁর পিটিশন মঞ্জুর করে এই ঐতিহাসিক নির্দেশ দেয়।

মার্চ ২০২৬-এ আদালত কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে প্রাসঙ্গিক নথিপত্র তলব করেছিল। এপ্রিলে ডেপুটি সলিসিটর জেনারেল সেই নথি আদালতে পেশ করেন — এবং তার ভিত্তিতেই এই চূড়ান্ত নির্দেশ আসে। শিশির রায়কে “যুগান্তকারী ও ঐতিহাসিক” বলে স্বাগত জানিয়েছেন এবং বলেছেন এটি জাতীয় নিরাপত্তা ও জনস্বার্থের প্রশ্নে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ

Congress-এর প্রতিক্রিয়া রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

India Today-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, হাইকোর্টের এই নির্দেশের পর Congress এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে এই মামলাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক ইতিমধ্যে তীব্র হয়েছে। BJP নেতারা এই রায়কে “সত্যের জয়” বলে বর্ণনা করছেন, অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের অনেকের মতে এটি একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা।

উল্লেখ্য, রাহুল গান্ধী বর্তমানে উত্তরপ্রদেশের রায়বেরেলি লোকসভা আসনের সংসদ সদস্য এবং লোকসভায় বিরোধীদলীয় নেতা। ভারতীয় সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৯ অনুযায়ী, কোনো ভারতীয় নাগরিক স্বেচ্ছায় অন্য দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করলে তার ভারতীয় নাগরিকত্ব বাতিল হয়ে যায়। যদি অভিযোগ তদন্তে সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে সংসদ সদস্যপদ ও বিরোধীদলীয় নেতার পদ নিয়েও প্রশ্ন উঠবে — তবে এই মুহূর্তে এটি সম্পূর্ণ অনুমানের স্তরে।

আসাম বরাক উপত্যকার রাজনৈতিক আবহ

রাহুল গান্ধীর দ্বৈত নাগরিকত্ব মামলাটি জাতীয় রাজনীতিতে যতটা আলোচিত, ততটাই প্রাসঙ্গিক আসামের মতো Congress-প্রভাবিত অঞ্চলের জন্যও। হাইলাকান্দি জেলা ও লালা টাউন-সহ বরাক উপত্যকায় Congress-এর ঐতিহাসিকভাবে শক্তিশালী ভিত্তি রয়েছে এবং রাহুল গান্ধী ও তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এই অঞ্চলের অনেকের কাছে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণযোগ্য। এই মামলায় FIR নথিভুক্তির নির্দেশ কার্যকর হলে এবং কেন্দ্রীয় তদন্ত শুরু হলে তা আগামী বিধানসভা নির্বাচনের রাজনৈতিক পরিবেশের উপর প্রভাব ফেলবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

এই মামলার পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে তা এখনো স্পষ্ট নয়। উত্তরপ্রদেশ সরকার FIR নথিভুক্ত করে তদন্ত UP পুলিশকে দেবে, নাকি CBI বা অন্য কোনো কেন্দ্রীয় সংস্থাকে দেবে — সেই সিদ্ধান্তই এই মামলার গতিপথ নির্ধারণ করবে। এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিস্তারিত লিখিত আদেশ প্রকাশিত হলে মামলার আইনি ভিত্তি আরও স্পষ্ট হবে। ততদিন পর্যন্ত এই মামলা ভারতীয় রাজনীতিতে সবচেয়ে আলোচিত আইনি লড়াইগুলোর একটি হয়েই থাকবে।

রাহুল গান্ধী দ্বৈত নাগরিকত্ব মামলায় FIR-এর নির্দেশ এলাহাবাদ হাইকোর্টের, কেন্দ্রীয় তদন্তও সম্ভব
Scroll to top