Read today's news --> Click here

মণিপুর বিষ্ণুপুর ঘটনায় তিন অভিযুক্তের গ্রেফতার দাবি: JAC-র প্রতিনিধিরা CM-এর সঙ্গে বৈঠকে বসলেন

মণিপুর বিষ্ণুপুর ঘটনায় তিন অভিযুক্তের গ্রেফতার দাবিতে ইম্ফল পশ্চিম জেলায় নিষেধাজ্ঞা ভেঙে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নামায় রাজ্যের পরিস্থিতি শুক্রবারও উত্তেজনাপূর্ণ থাকে। বৃহস্পতিবার রাত সাতটার দিকে সিঞ্জামেইতে জমা হওয়া বিক্ষোভকারীরা নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন এবং পাঁচজন আহত হন। একইদিন, বিষ্ণুপুর ঘটনায় গঠিত যৌথ কার্যকরী কমিটি (JAC)-র প্রতিনিধিরা ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ইউমনাম খেমচাঁদ সিং-এর সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হন এবং তাদের দাবিগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে পেশ করেন। [প্রাথমিক উৎস]

JAC-বৈঠক অভিযুক্ত গ্রেফতারের দাবি

মণিপুর বিষ্ণুপুর ঘটনায় তিন অভিযুক্তের গ্রেফতার দাবি এখন আন্দোলনকারীদের প্রধান সুর। ৭ এপ্রিল রাতে বিষ্ণুপুরের ট্রংলাওবিতে বোমা হামলায় পাঁচ বছরের তোমথিন ওইনাম এবং পাঁচ মাসের শিশু ওইনাম ইয়াইসানার মৃত্যুর পর থেকে JAC এই তিনজনকে চিহ্নিত করে তাদের তাৎক্ষণিক গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে আসছে। বৃহস্পতিবার CM সিং-এর সঙ্গে বৈঠকে JAC-র প্রতিনিধিরা এই দাবিটিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে পেশ করেন বলে PTI-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়। [প্রাথমিক উৎস] ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরাও সেই বৈঠকে অংশ নেন — যা প্রশাসনের তরফ থেকে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যদিও রাস্তায় বিক্ষোভ এখনো থামেনি।

মণিপুরের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গোবিন্দাস কন্থৌজাম মঙ্গলবার সাংবাদিকদের জানান: “আসল অপরাধীদের চিহ্নিত করতে সময় লাগে। সরকারকে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দিন। মণিপুরের সব মানুষের কাছে আমার আবেদন — সরকারকে তার কাজ করতে দিন।” [প্রাথমিক উৎস] এই বক্তব্যে অনেক বিক্ষোভকারী সন্তুষ্ট নন — তারা মনে করেন সরকার তদন্তের নামে সময়ক্ষেপণ করছে।

দুদিনে দুইবার সংঘর্ষ: থিংগুনগেই সিঞ্জামেই

বৃহস্পতিবারের সিঞ্জামেই সংঘর্ষের আগে মঙ্গলবারও থিংগুনগেই এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়েছিল। সেদিন কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়, এলাকায় সন্দেহজনক ব্যক্তিরা অস্ত্রসহ চলাফেরা করছে — এই খবরে স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়। [প্রাথমিক উৎস] এভাবে মাত্র দুদিনের ব্যবধানে দুটি পৃথক এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে জনতার সংঘর্ষ প্রমাণ করছে, মণিপুর বিষ্ণুপুর ঘটনায় তিন অভিযুক্তের গ্রেফতার দাবিতে ক্ষোভ ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ছে এবং কেবল একটি নির্দিষ্ট এলাকায় সীমাবদ্ধ নেই।

বৃহস্পতিবারের মিছিল সিঞ্জামেই থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার পথ পেরিয়ে চিঙামাথাকে পৌঁছায় — যে এলাকায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন, পুলিশ সদর দফতর এবং লোক ভবন অবস্থিত। [প্রাথমিক উৎস] প্রতীকীভাবে এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ — বিক্ষোভকারীরা সরাসরি সর্বোচ্চ ক্ষমতার দরজায় পৌঁছাতে চেয়েছিলেন। নিরাপত্তা বাহিনী তাদের ফিরিয়ে দিতে বলে নিষেধাজ্ঞার কথা জানায়, কিন্তু জনতা অনড় থাকেন। পরে কয়েক রাউন্ড টিয়ার গ্যাস এবং লাঠিচার্জে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হলেও পাঁচজন আহত হন। [প্রাথমিক উৎস]

সামরিক উন্নতির দাবি করলেন CM, রাস্তায় ভিন্ন চিত্র

মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী ইউমনাম খেমচাঁদ সিং বলেছেন, সরকার ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর একযোগে প্রচেষ্টায় রাজ্যের সার্বিক পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। “সরকার ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলির একত্রিত প্রচেষ্টায় সার্বিক পরিস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে — এটি প্রশংসনীয়,” CM সিং বলেন। [প্রাথমিক উৎস] কিন্তু সিঞ্জামেইতে হাজার বিক্ষোভকারীর নিষেধাজ্ঞা-ভাঙা মিছিল এবং থিংগুনগেইতে মঙ্গলবারের সংঘর্ষ সরকারের এই দাবিকে কার্যত প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের এক শীর্ষ কর্মকর্তার বরাতে PTI জানায়: “কিছু স্বার্থান্বেষী মহল বিদ্যমান পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে নিজস্ব কার্যসূচি চালানোর চেষ্টা করছে।” [প্রাথমিক উৎস] বিক্ষোভকারীরা এই ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করে বলছেন, তাঁরা নিজেদের হারানো সন্তানের বিচারের জন্য রাস্তায় এসেছেন — এতে কোনো লুকানো উদ্দেশ্য নেই।

আসাম বরাক উপত্যকার উদ্বিগ্ন দৃষ্টি

মণিপুরের এই পরিস্থিতি প্রতিবেশী আসাম-সহ সমগ্র উত্তর-পূর্বের মানুষকে উদ্বিগ্ন করছে। হাইলাকান্দি জেলা ও লালা টাউনের বাসিন্দারাও বুঝতে পারছেন, উত্তর-পূর্বের একটি রাজ্যে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিতিশীলতা পুরো অঞ্চলের পর্যটন, ব্যবসাবাণিজ্য ও নিরাপত্তা পরিবেশের উপর প্রভাব ফেলে। মে ২০২৩ থেকে শুরু হওয়া মণিপুরের জাতিগত সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত দুইশোর বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং ৬০,০০০-এরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এই বাস্তুচ্যুত মানুষের কেউ কেউ আসামের বিভিন্ন জায়গায় আশ্রয় নিয়েছেন, যা আসামের উপরও এক ধরনের সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করছে।

শিশু দুটির মৃত্যুর বিচার নিশ্চিত করা এখন মণিপুর সরকারের সামনে সবচেয়ে জরুরি পরীক্ষা। মণিপুর বিষ্ণুপুর ঘটনায় তিন অভিযুক্তের গ্রেফতার দাবিতে রাজপথে নামা হাজারো মানুষ রাজ্যের বিচারব্যবস্থার উপর তাদের আস্থার চূড়ান্ত পরীক্ষা দিচ্ছেন। JAC ইতিমধ্যে CM-এর সঙ্গে বৈঠক করেছে, তদন্ত চলছে বলে সরকারও জানিয়েছে — কিন্তু প্রকৃত দোষীদের বিচারের কাঠগড়ায় না আনা পর্যন্ত এই আন্দোলন থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

মণিপুর বিষ্ণুপুর ঘটনায় তিন অভিযুক্তের গ্রেফতার দাবি: JAC-র প্রতিনিধিরা CM-এর সঙ্গে বৈঠকে বসলেন
Scroll to top