Read today's news --> Click here

লালায় চিতাবাঘ দেখা — ডেকোরেটর নারু সাহারের বাড়িতে বন্যপ্রাণীর আতঙ্কে ঘরবন্দি এলাকাবাসী

লালায় চিতাবাঘ দেখা যাওয়ার ঘটনায় হাইলাকান্দি জেলার লালা টাউনের একটি আবাসিক এলাকায় শুক্রবার তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। লালার পরিচিত ডেকোরেটর ব্যবসায়ী নারু সাহারের বাড়িতে একটি চিতাবাঘ দেখা যায়। খবর ছড়িয়ে পড়তে না পড়তেই আশপাশের বাসিন্দারা ঘরের দরজা বন্ধ করে দেন এবং পরিস্থিতি মোকাবেলায় দ্রুত বনবিভাগকে জানানো হয়। শিশু ও বয়স্করা বিশেষভাবে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং এলাকার স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড কিছুক্ষণের জন্য স্তব্ধ হয়ে যায়।

ঘটনার বিবরণ: হঠাৎ দেখা মিলল চিতার

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, চিতাবাঘটি নারু সাহারের বাড়ির চত্বরে হঠাৎ করেই উপস্থিত হয়। এলাকাবাসীরা প্রথমে বিশ্বাস করতে পারেননি, তবে বড় আকারের বন্যপ্রাণীটিকে সামনে দেখে দ্রুত নিরাপদ দূরত্বে সরে যান। মুহূর্তের মধ্যে খবর আশপাশের বাড়িঘরে ছড়িয়ে পড়ে এবং পুরো পাড়া সতর্ক হয়ে ওঠে। কেউ কেউ মোবাইলে দূর থেকে ছবি তোলার চেষ্টা করেন, তবে কাউকে কাছে যেতে নিষেধ করা হয়।

লালার মতো একটি সক্রিয় বাজার ও বসতিপূর্ণ এলাকায় চিতাবাঘের এই আচমকা আবির্ভাব স্থানীয়দের কাছে বিস্ময়কর হলেও বিশেষজ্ঞদের কাছে মোটেও অপ্রত্যাশিত নয়। হাইলাকান্দি জেলায় লংগাই রিজার্ভ ফরেস্ট এবং পাথেরিয়া হিলস রিজার্ভ ফরেস্টসহ একাধিক সংরক্ষিত বনাঞ্চল রয়েছে। এই বনাঞ্চলগুলো থেকে মাঝেমাঝেই বন্যপ্রাণী লোকালয়ে ঢুকে পড়ার ঘটনা ঘটে থাকে। বরাক উপত্যকার বনাঞ্চলে চিতাবাঘ (Panthera pardus), স্লথ বিয়ার, এশিয়ান হাতি এবং বন শূকরসহ বিভিন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণীর অস্তিত্ব রয়েছে বলে একাধিক গবেষণায় নথিভুক্ত আছে।

হাইলাকান্দিতে বন্যপ্রাণী সংঘাত: পটভূমি ঝুঁকি

বরাক উপত্যকার তিনটি জেলা — কাছাড়, হাইলাকান্দি ও করিমগঞ্জ — জুড়ে মোট ১০৪টি বনগ্রাম রয়েছে। এই অঞ্চলে মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সংঘাত নতুন কিছু নয়। Journal of Community Wildlife বিষয়ক একটি গবেষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, এই বনগ্রামগুলোতে চিতাবাঘ ইতিমধ্যে দুটি গ্রামে — বাগেওয়ালা ও জুরখাল — বিগত দশকে তার উপস্থিতি জানান দিয়েছে। যদিও বরাক উপত্যকায় চিতাবাঘের ঘটনা তুলনামূলকভাবে বিরল, তবু এর ঘটে যাওয়া সম্ভাবনা একেবারে নাকচ করা যায় না।

আসামের বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে দেখলেও মানুষের বসতির কাছাকাছি চিতাবাঘের উপস্থিতি উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত পরিচালিত একটি ক্যামেরা ট্র্যাপ সমীক্ষায় দেখা গেছে, গুওয়াহাটি শহরের মধ্যেই ৩৪টি চিতাবাঘ বিচরণ করছে। নীলাচল পাহাড়, আদিমগিরি ও অন্যান্য পাহাড়ি এলাকায় সর্বোচ্চ চিতাবাঘের কার্যকলাপ রেকর্ড করা হয়েছে। গুওয়াহাটিতে ২০২৫-২৬ সালে একাধিক আবাসিক এলাকায় চিতাবাঘ দেখার ঘটনা ঘটেছে এবং বনবিভাগ বারবার সতর্কতা জারি করেছে।

চারাইদেও জেলায় ২০২৬ সালের মার্চে একটি চিতাবাঘ বারবার গবাদিপশুর উপর হামলা করার পর বনবিভাগ ফাঁদ পেতে সেটিকে নিরাপদে উদ্ধার করে। আসামের ডিব্রুগড়ে একটি চিতাবাঘ বাথরুমে ঢুকে পড়ার ঘটনাও সম্প্রতি আলোচনায় এসেছে। এই ঘটনাগুলো স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে বনাঞ্চলের পাশে মানুষের বসতি বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে বন্যপ্রাণীর লোকালয়ে প্রবেশের ঘটনাও বাড়ছে।

লালাবাসীর সুরক্ষা: বনবিভাগ কী ব্যবস্থা নেবে?

এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হল — চিতাবাঘটি কোথায় গেল এবং বনবিভাগ কত দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছে। নারু সাহারের বাড়িতে চিতাবাঘ দেখা গেলেও পরে সেটি সেখানে না থাকলে এলাকায় অনুসন্ধান জরুরি। বনবিভাগ সাধারণত এই ধরনের পরিস্থিতিতে ট্র্যাপ কেজ বসায় এবং এলাকার বাসিন্দাদের সন্ধ্যার পর একা চলাফেরা না করার পরামর্শ দেয়।

লালাবাসীদের জন্য বনবিভাগের পরামর্শ সবসময় একই থাকে: চিতাবাঘ দেখলে তাকে উস্কে দেবেন না, কাছে যাবেন না, মোবাইল বা ক্যামেরায় ছবি তুলতে গিয়ে ঝুঁকি নেবেন না। অবিলম্বে বনবিভাগের নম্বরে ফোন করুন এবং শিশুদের ঘরের ভেতরে রাখুন। গবাদিপশুকে রাতে খোলা জায়গায় না রেখে গোয়ালে বেঁধে রাখুন।

হাইলাকান্দি জেলার বনাঞ্চলে চিতাবাঘের অস্তিত্ব থাকলে এটি সেই জঙ্গলের পরিবেশগত সুস্বাস্থ্যের নিদর্শন — কিন্তু মানুষের বসতিতে এসে পড়লে তা দুই পক্ষের জন্যই বিপজ্জনক। বনবিভাগ চিতাবাঘটিকে নিরাপদে উদ্ধার করে যথাস্থানে ফিরিয়ে দিতে পারলেই এই সংকট মিটবে। এলাকাবাসী আশা করছেন, বনবিভাগ দ্রুততার সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনবে এবং লালা টাউনে স্বাভাবিক জনজীবন দ্রুত ফিরে আসবে।

লালায় চিতাবাঘ দেখা — ডেকোরেটর নারু সাহারের বাড়িতে বন্যপ্রাণীর আতঙ্কে ঘরবন্দি এলাকাবাসী
Scroll to top