Read today's news --> Click here

হিমন্ত জনবিন্যাস পরিবর্তন ঠেকাতে যৌথ টাস্কফোর্সের ডাক দিলেন মালদায়

হিমন্ত জনবিন্যাস পরিবর্তন ও বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে আসাম, পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা ও মেঘালয়কে একটি যৌথ টাস্কফোর্স গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গের মালদায় শুক্রবার সাংবাদিকদের সামনে বক্তব্য দিতে গিয়ে আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা দাবি করেন, আসন্ন ২০২৭ সালের আদমশুমারির পর পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোতে মুসলিম জনসংখ্যার অনুপাত উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে অংশ নিতে বাংলায় আসা হিমন্ত এই বক্তব্যকে সীমান্ত নিরাপত্তা ও জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন হিসেবে উপস্থাপন করেন।

মালদায় কী বললেন হিমন্ত?

মালদায় দাঁড়িয়ে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন: “এই আদমশুমারির পর বাংলার জনবিন্যাস আবারও পাল্টে যাবে। বাংলায় মুসলিম জনসংখ্যা ৩২ শতাংশে পৌঁছাবে এবং আসামে হবে ৩৬ শতাংশ। যদি ত্রিপুরা, আসাম ও পশ্চিমবঙ্গের যৌথ টাস্কফোর্স না হয়, তাহলে বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশ চলতেই থাকবে।” তিনি আরও বলেন: “প্রতিটি আদমশুমারিতে মুসলিম জনসংখ্যা ৪ থেকে ৫ শতাংশ হারে বাড়ছে — বাংলায় এবং আসামে একই চিত্র।” মেঘালয়কেও এই সমন্বয়ের অংশ করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, “বাংলা, আসাম, ত্রিপুরা ও মেঘালয় যদি একসঙ্গে কাজ না করে, তাহলে দেশকে গুরুতর চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে।”

এটি হিমন্তের প্রথম এই ধরনের মন্তব্য নয়। জানুয়ারি ২০২৬-এ NDTV-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, আসামে ২০২৭ সালের আদমশুমারিতে বাংলাদেশি মুসলিমদের সংখ্যা রাজ্যের মোট জনসংখ্যার ৪০ শতাংশ ছুঁয়ে ফেলতে পারে। ডিসেম্বর ২০২৫-এ BJP কার্যনির্বাহী বৈঠকে তিনি বলেছিলেন, ২০১১ সালের আদমশুমারিতে বাংলাদেশ থেকে আসা মুসলিম জনগোষ্ঠীর অনুপাত ৩১ শতাংশ ছিল, যা ২০২৭ সালে ৪০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করেন। প্রসঙ্গত, ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী আসামের মোট জনসংখ্যার ৩৪.২২ শতাংশ মুসলিম এবং ৬১.৪৭ শতাংশ হিন্দু ছিলেন।

সীমান্ত নিরাপত্তায় হিমন্তের অবস্থান ও TMC-বিরুদ্ধে অভিযোগ

পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনের প্রচারে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ধারাবাহিকভাবে সীমান্ত নিরাপত্তাকে একটি প্রধান ইস্যু হিসেবে সামনে আনছেন। আলিপুরদুয়ারে একটি নির্বাচনী সভায় তিনি বলেন, আসাম ও ত্রিপুরায় BJP সরকার বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশ রোধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে, কিন্তু TMC সরকার পশ্চিমবঙ্গে সেই কাজ করছে না — বরং তারা অনুপ্রবেশকারীদের “স্বাগত” জানাচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি আরও বলেন, পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ সীমান্তে সঠিক বেড়া দেওয়ার অনুমতি TMC দিচ্ছে না।

আসামের CM সীমান্তে বিদ্যুতায়িত কাঁটাতারের বেড়া লাগানোর পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন। India Today NE-র একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি বলেন: “আসাম, ত্রিপুরা ও পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তে বেড়া দেওয়া হবে। বিদ্যুৎপ্রবাহ দেওয়া হবে — যে আসবে সে বিদ্যুৎস্পর্শিত হবে।” কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ যে জাতীয় গ্রিডের প্রস্তাব দিয়েছিলেন, হিমন্ত তাকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং এই উদ্যোগকে সমর্থন করার কথা জানিয়েছেন।

হাইলাকান্দি বরাক উপত্যকায় এই বিতর্কের প্রতিধ্বনি

হিমন্তের এই বক্তব্য হাইলাকান্দি জেলা ও বরাক উপত্যকার বাসিন্দাদের কাছে বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। বরাক উপত্যকায় — যেখানে লালা টাউনের অবস্থান — বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন থাকায় অনুপ্রবেশের প্রশ্নটি এখানে বহুদিন ধরেই একটি সংবেদনশীল বিষয়। হাইলাকান্দি জেলায় বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে বাস করেন এবং জনবিন্যাস সংক্রান্ত যেকোনো রাজনৈতিক বক্তব্য এখানে তীক্ষ্ণ মনোযোগ আকর্ষণ করে। এই অঞ্চলের সচেতন নাগরিকরা প্রশ্ন তুলছেন — সীমান্ত সুরক্ষার দাবি রাজনৈতিক প্রচারের হাতিয়ার হয়ে উঠছে, নাকি এটি একটি প্রকৃত নীতিগত অঙ্গীকার?

উল্লেখ্য, হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ২০২৪ সালের আগস্টে ঘোষণা দিয়েছিলেন যে আসামে জনবিন্যাস পরিবর্তন বিষয়ে একটি হোয়াইট পেপার প্রকাশিত হবে, কিন্তু সেই প্রতিশ্রুত প্রতিবেদন এখনও প্রকাশ পায়নি। জুলাই ২০২৫-এ দিব্রুগড়ে তিনি বলেছিলেন, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০৪১ সালের মধ্যে আসামে হিন্দু ও মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় সমান হয়ে যাবে — “৫০/৫০ পরিস্থিতি” তৈরি হবে।

পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন শেষ হওয়ার পর যৌথ টাস্কফোর্সের প্রস্তাব কতটা বাস্তব রূপ নেয় সেটা দেখার বিষয়। আসামে ২০২৭ সালের আদমশুমারির প্রস্তুতি শুরু হয়েছে — এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে হাউসলিস্টিং পর্ব সম্পন্ন হবে বলে কেন্দ্রীয় সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে। সেই আদমশুমারির ফলাফলই নির্ধারণ করবে হিমন্তের দাবিগুলো কতটা সত্য আর কতটা রাজনৈতিক বার্তা।

হিমন্ত জনবিন্যাস পরিবর্তন ঠেকাতে যৌথ টাস্কফোর্সের ডাক দিলেন মালদায়
Scroll to top