Read today's news --> Click here

অনুপ্রবেশ অসমের জন্য ‘জীবন-মরণের’ প্রশ্ন, কংগ্রেসের আমলের জমি দখলের ইতিহাস মানুষের সামনে তুলে ধরার ডাক দিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী

অসমের রাজনীতিতে অনুপ্রবেশ কেবল একটি সাধারণ নির্বাচনী ইস্যু নয়, বরং এটি রাজ্যের অস্তিত্ব এবং জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। সোমবার ‘নমো অ্যাপ’ (NaMo app)-এর মাধ্যমে আয়োজিত ‘মেরা বুথ, সবসে মজবুত সংবাদ’ (Mera Booth, Sabse Mazboot Samvaad) কর্মসূচিতে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এমনই মন্তব্য করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রাজ্যের ৪,৫০০টিরও বেশি ‘শক্তি কেন্দ্র’-এ এদিন প্রায় পাঁচ লক্ষ বিজেপি কর্মী তাঁর এই ভাষণ শোনেন। সেখানেই প্রধানমন্ত্রী আন্তঃসীমান্ত অবৈধ অনুপ্রবেশকে অসমের জন্য একটি “জীবন ও মৃত্যুর প্রশ্ন” বলে অভিহিত করেছেন ।

কংগ্রেসের দীর্ঘ শাসনকালকে তীব্র আক্রমণ করে মোদী অভিযোগ করেন যে, বিগত কয়েক দশক ধরে তাদের মদতেই অসমে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের রমরমা বেড়েছে, যা রাজ্যের ধর্মীয় স্থান, আদিবাসী সংস্কৃতি, সাধারণের জমি এবং মানুষের জীবিকাকে চরম সংকটে ফেলেছে । বিজেপি কর্মীদের উদ্দেশে তিনি স্পষ্ট নির্দেশ দেন যে, তাঁরা যেন নিজ নিজ ব্লক এবং জেলা থেকে জমি দখলের বিষয়ে “সম্পূর্ণ তথ্য” সংগ্রহ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কংগ্রেসের আমলের জমি দখল এবং অস্থিরতার ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে ব্যাখ্যা করতে হবে। এর ফলে যে সংকটের সৃষ্টি হয়েছে, সেটাও বোঝাতে হবে ।” সাধারণ মানুষকে বোঝানোর জন্য এলাকার ভুক্তভোগীদের ভিডিও প্রকাশ্যে আনার পরামর্শ দিয়ে তিনি আরও বলেন, “বিগত দশকগুলোতে এর কী প্রভাব পড়েছে, তা মানুষকে জানানো উচিত। আমাদের অবশ্যই মানুষকে বলতে হবে যে কংগ্রেস জমি দখলকে প্রশ্রয় দিয়েছিল, আর বিজেপি মানুষের অধিকার পুনরুদ্ধার করছে ।”

অনুপ্রবেশকারীদের আগ্রাসন রুখতে সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানান মোদী। তিনি বলেন, “অনুপ্রবেশকারীরা যাতে আমাদের যুবকদের কর্মসংস্থান, গরিব আদিবাসী ভাই-বোনের জমি এবং মা-বোনেদের সম্মান কেড়ে নিতে না পারে, তা নিশ্চিত করাই আমাদের চেষ্টা।” তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস, অসমের মানুষ এই জমি দখলের হাত থেকে সম্পূর্ণ মুক্তি চান । দীর্ঘদিনের অস্থিরতা কাটিয়ে অসমে যে বর্তমানে শান্তি ফিরেছে, তার কৃতিত্বও বিজেপি সরকারকেই দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, গত ১০ বছরে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সাথে ১২টি বড় শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার ফলে রাজ্যে দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতা এসেছে ।

ভাষণের শেষ অংশে অসম এবং পশ্চিমবঙ্গের চা-বাগান শ্রমিকদের অবস্থার তুলনামূলক আলোচনা করেন মোদী। পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) সরকার সেখানে কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলি আটকে রেখেছে বলে অভিযোগ করে তিনি জানান যে, দুই রাজ্যের চা-বাগানের তুলনা করলেই স্পষ্ট বোঝা যায় বাংলা কতটা পিছিয়ে পড়েছে এবং কেন একটি “ডাবল-ইঞ্জিন বিজেপি সরকার” প্রয়োজনীয় । অসমে চা-বাগান শ্রমিকদের জমির পাট্টা প্রদানের বিষয়টিকে একটি “অসাধারণ” আনন্দের মুহূর্ত বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, এই দলিল ওই পরিবারগুলিকে জীবনের ভিত্তি, একটি স্থায়ী ঠিকানা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপত্তা দিয়েছে । এই সাফল্যের বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে দলীয় কর্মীদের চা-বাগানগুলির ভেতরে ‘টিফিন মিটিং’ বা আলোচনা সভা আয়োজন করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। মোদী বলেন, “আপনারা যখন তাদের উদ্বেগগুলো শুনবেন, তখন আমরা আরও কাজ করতে উৎসাহিত হব ।”

অনুপ্রবেশ অসমের জন্য ‘জীবন-মরণের’ প্রশ্ন, কংগ্রেসের আমলের জমি দখলের ইতিহাস মানুষের সামনে তুলে ধরার ডাক দিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী
Scroll to top